কবি সাংবাদিক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়ার সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ শূন্যতার রাহুগ্রাস’র মোড়ক উম্মোচন হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ময়মনসিংহের স্টেশন রোডের জয়বার্তা ২৪ ডটকম এর কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
মোড়ক উন্মোচন করেন জয়বার্তা ২৪ ডটকমের প্রকাশক ও সম্পাদক জনাব জয়নাল আবেদীন।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা ও জায়মা হস্তশিল্প হাউসের কর্ণধার সৈয়দা মাহমুদা আবেদীন।
প্রসঙ্গত, কবি মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়ার ৮টি কাব্যগ্রন্থ ও ২টি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, অত:পর আবারো, আজ কাল পরশু, নীল সমীকরণ, তখন শব্দই হবে চোখের জল, অপরিচিত, দেয়াল, জীবন পথের বাঁকে ও শূন্যতার রাহুগ্রাস।
এসবিএসপি সাহিত্য সম্মাননা ও পুরস্কার পাচ্ছেন যাঁরা
প্রকাশিত :
১৮:১৬, ০১ মে ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ২০:৪৪, ০১ মে ২০২৬
বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‘সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ (এসবিএসপি) সাহিত্য সম্মাননা ও পুরস্কার -২০২৫’ পাচ্ছেন ১০ কবি ও লেখক।
আবহমান বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ‘এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ পাচ্ছেন-
১. কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য মতিন বৈরাগী,
২ কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য দুখু বাঙাল,
৩. কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য মজিদ মাহমুদ,
৪. শিশুসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য হাসনাত আমজাদ,
৫. কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সমীর আহমেদ,
৬. কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য রেজুয়ান আহম্মেদ,
৭, কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য একেএম সুলতান মাহামুদ,
৮. কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. হাফিজ রহমান,
৯. কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শাহানাজ ইয়াসমিন,
১০. কথাসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নুসরাত সুলতানা।
কথাসাহিত্যিক ও গল্পকার রেজুয়ান আহম্মেদের প্রতিক্রিয়া
এসবিএসপি সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা প্রপ্তদের তালিকায় নিজের নাম ঘোষিত হওয়ার অব্যবহিত পরে জনমতকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিকও গল্পকার রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন,
“আমি লেখক নই—এই স্বীকারোক্তিটি দীর্ঘকাল ধরে নীরবে লালন করছি। নিজেকে ‘কবি’ বলে পরিচয় দেওয়ার সাহসও হয় না; কারণ এই শব্দের অন্তর্নিহিত যে দায় ও দীপ্তি, তার সঙ্গে নিজেকে ঠিক মেলাতে পারি না। তাই নিজের জন্য এক বিচিত্র পরিচয় বেছে নিয়েছি—‘লেখার ফেরিওয়ালা’। শহরের ব্যস্ত মোড়ে কেউ যেমন পুরোনো বই সাজিয়ে বসে, কেউবা বিক্রি করে স্বপ্নের টুকরো, আমিও তেমনি মানুষের না-বলা কথাগুলো কুড়িয়ে আনি। ধুলো ঝেড়ে সেগুলোকে সাজাই, আর একসময় সেই কথাগুলোই কাগজের বুকে গল্প হয়ে জেগে ওঠে।
আমি মূলত শব্দের একজন টোকাই। পথের ধারে পড়ে থাকা ভাঙা বাক্য, চায়ের কাপে ভেসে ওঠা ক্লান্ত দীর্ঘশ্বাস কিংবা গোধূলির আলোয় ঝিমিয়ে পড়া কোনো বিষণ্ণ মুখ—এসবের মাঝেই আমি আমার রচনার উপাদান খুঁজি। যে মানুষগুলো নিজের যাতনাকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না, তাদের নীরবতা আমি ধার করি এবং তা বাক্যে বুনে দিই। তাদের হাসি-কান্না আর অপূর্ণতার ক্ষীণ প্রতিধ্বনিগুলো আমার কলমে আশ্রয় খোঁজে। আমি কেবল একজন বাহক মাত্র; প্রকৃত গল্পকার তো সেই মানুষগুলোই, যাদের জীবন নিঃশব্দে বয়ে চলে।
গল্পগুলোকে সযতনে গুছিয়ে আমি ফেরিওয়ালার মতোই প্রকাশকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াই। কেউ হয়তো দু-দণ্ড সময় দেয়, কেউবা নিঃসঙ্কোচে ফিরিয়ে দেয়। এর মাঝে যে কয়টি গল্প আলোর মুখ দেখে, তা থেকে অর্জিত যৎসামান্য প্রাপ্তিতেই আমি সন্তুষ্ট। বড় কোনো স্বপ্নের বিলাস কিংবা নাম-যশের মোহ আমার নেই; এ কেবল টিকে থাকার এক শান্ত ও অনাড়ম্বর লড়াই।
তবুও মাঝে মাঝে মনে হয়, এই নামহীন ফেরিওয়ালা সত্তাই আমার সবচেয়ে বড় সত্য। কারণ আমি কেবল গল্প কেনাবেচা করি না; আমি একজনের অদেখা সত্য আর অশ্রুত কণ্ঠস্বর পৌঁছে দিই অন্যজনের কাছে। মানুষের হৃদয়ের মাঝে সেই অদৃশ্য সেতুবন্ধন তৈরির মাধ্যমেই হয়তো আমার অস্তিত্ব প্রকৃত অর্থে সার্থক হয়।”
উল্লেখ্য, সোনার বাংলা সাহিত্য পরিষদ (এসবিএসপি) গত ১০ বছর ধরে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য কবি-লেখকদের পুরস্কৃত করে আসছে। প্রতি বছর বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।