img

কবে ওটিটিতে আসবে ৩ হাজার কোটি আয়কারী ‘ধুরন্ধর ২’? আদালত শুনানিতে পরিকল্পনা ফাঁস

প্রকাশিত :  ০৭:৪৯, ০৮ মে ২০২৬

কবে ওটিটিতে আসবে ৩ হাজার কোটি আয়কারী ‘ধুরন্ধর ২’? আদালত শুনানিতে পরিকল্পনা ফাঁস

কয়েক মাস ধরে বলিউডে সবচেয়ে বেশি আলোচিত সিনেমাগুলোর একটি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মুক্তির সাত সপ্তাহ পরও সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। রণবীর সিং অভিনীত গুপ্তচরভিত্তিক এই অ্যাকশন থ্রিলার ইতিমধ্যেই একের পর এক বক্স অফিস রেকর্ড গড়েছে। ভারতীয় বক্স অফিসে এটি চলতি বছরের সবচেয়ে বড় বলিউড হিট, আর বিশ্বব্যাপী আয়ের দিক থেকেও অন্যতম সফল ভারতীয় সিনেমা।

তাই স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ওটিটিতে কবে আসছে ‘ধুরন্ধর ২’? যদিও নির্মাতারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেননি, তবু একটি আদালত মামলার শুনানিতে সিনেমাটির স্ট্রিমিং পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে ‘ধুরন্ধর ২’-কে ঘিরে একটি কপিরাইট মামলা হয়। সিনেমাটির ক্লাইম্যাক্সে ব্যবহার করা হয়েছে জনপ্রিয় গান ‘তিরছি টোপিওয়ালে’-এর নতুন সংস্করণ। ‘রং দে লাল’ শিরোনামের এই রিমিক্স তৈরি করেছেন সংগীত পরিচালক শাশ্বত সচদেব। মূল গানটি ব্যবহৃত হয়েছিল ১৯৮৯ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘ত্রিদেব’-এ।

সেই ছবির পরিচালক ও প্রযোজক রাজীব রাই অভিযোগ করেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। প্রথমে দিল্লি হাইকোর্ট উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন। কিন্তু বুধবার আদালতে জানানো হয়, সেই মধ্যস্থতা ব্যর্থ হয়েছে।

শুনানিতে সুপার ক্যাসেটস, যাঁরা ‘ধুরন্ধর ২’-এর অডিও ও মিউজিক স্বত্বের মালিক, তাঁরা মামলাকারীর অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের বিরোধিতা করেন। অন্যদিকে ছবিটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বি৬২ ফিল্মস আদালতকে জানায়, সিনেমাটি ইতিমধ্যেই প্রেক্ষাগৃহে চলছে এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে এটি ওটিটিতে আসার সম্ভাবনা নেই।

এই তথ্য থেকেই মূলত ওটিটি মুক্তির সম্ভাব্য সময় নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বলিউডে এখন বড় সিনেমাগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত ৮ থেকে ১০ সপ্তাহের থিয়েটার উইন্ডো রাখা হচ্ছে। ‘ধুরন্ধর ২’ ১৪ মে আট সপ্তাহ পূর্ণ করবে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধেই সিনেমাটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আসতে পারে।

প্রথম ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটিও একই পথ অনুসরণ করেছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া সেই ছবি আট সপ্তাহ পর ওটিটিতে আসে। তবে প্রথম সিনেমাটি যেখানে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছিল, সিক্যুয়েলটি স্ট্রিম হবে জিওহটস্টার। তবে একই প্ল্যাটফর্ম চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিড ক্রিকেট বা আইপিএলও সম্প্রচার করছে। সে ক্ষেত্রে হয়তো আইপিপ্রল শেষ হওয়ার পর (ফাইনাল ৩১ মে) মুক্তি পেতে পারে।

আদিত্য ধরের এই গুপ্তচর থ্রিলারে রণবীর সিংকে দেখা গেছে করাচিতে মিশনে থাকা এক ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায়। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে জিও স্টুডিওস ও বি৬২ স্টুডিওস।

রণবীরের পাশাপাশি ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, সারা অর্জুন প্রমুখ।

দুটি ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী আয় ছাড়িয়েছে ৩ হাজার ১০০ কোটি রুপি। ‘ধুরন্ধর ২’ ইতিমধ্যেই বলিউডের সর্বোচ্চ ওপেনিং, সর্বোচ্চ দেশীয় আয়সহ একাধিক রেকর্ড নিজের দখলে নিয়েছে। এটিই প্রথম হিন্দি সিনেমা, যা ভারতে ১০০০ কোটির বেশি নেট আয় করেছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৮০০ কোটি রুপির আয় নিয়ে এটি বর্তমানে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী ছবিগুলোর একটি।

বিনোদন এর আরও খবর

img

‘অশালীন’ ও ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ গান নিয়ে বিতর্ক, শুনানিতে হাজির নোরা

প্রকাশিত :  ০৭:৫৪, ০৮ মে ২০২৬

বড় বাজেটের দক্ষিণ ভারতীয় অ্যাকশন ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এর নতুন গান ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। গানটিতে পারফর্ম করেছেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ও নোরা ফাতেহি। তবে মুক্তির পরই অনেক দর্শক গানটির ভাষা ও উপস্থাপনাকে ‘অশালীন’ ও ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করছেন। গানটির অশালীন কথা ও কুরুচিকর দৃশ্যায়নের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছিল ভারতের জাতীয় নারী কমিশন। এর আগের কমিশন শুনানিতে ডেকে পাঠায় সঞ্জয় দত্তকে। এবার হাজিরা দিলেন নোরা ফতেহি।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানায়, গানটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপর বিতর্ক আরও বাড়তে থাকলে নির্মাতারা ইউটিউব থেকে গানটির হিন্দি সংস্করণ সরিয়ে নেন।

নারী কমিশনের তলব

বিতর্কের জেরে জাতীয় নারী কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উদ্যোগ নেয়। কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করা হয়। সেই সূত্রেই হাজির হন নোরা ফাতেহি।

তবে নোরার আগেই গত ২৭ এপ্রিল কমিশনের শুনানিতে অংশ নেন সঞ্জয় দত্ত। তিনি তাঁর আইনজীবী দল নিয়ে উপস্থিত হন। আইনজীবী দলের নেতৃত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট হেমন্ত শাহ।

শুনানিতে সঞ্জয় দত্ত কমিশনের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, গানটির কথা, অনুবাদ, সুর বা চূড়ান্ত উপস্থাপনার ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। অভিনেতা হিসেবে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করাই ছিল তাঁর কাজ। সঞ্জয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে থেকে গানটির বিতর্কিত দিক সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

সঞ্জয় দত্তের ক্ষমা প্রার্থনা

শুনানিতে সঞ্জয় দত্ত নারী কমিশনের কাছে দুঃখ প্রকাশও করেন। তিনি বলেন, নারী মর্যাদা ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে।

এই বিতর্কের পর সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সঞ্জয় দত্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘোষণা দেন। ৫০ জন আদিবাসী কন্যাশিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

কমিশনকে জানানো হয়, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই উদ্যোগের অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে সঞ্জয় দত্ত যেসব প্রকল্পে যুক্ত হবেন, সেখানে যেন নারী, শিশু বা কোনো ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়—সেই বিষয়ে সতর্ক থাকার আশ্বাসও দেন।

নোরা ফাতেহির উপস্থিতি ঘিরে নতুন আলোচনা

এরপর একই মামলায় জাতীয় নারী কমিশনের সামনে হাজির হন নোরা ফাতেহি। যদিও শুনানিতে তিনি ঠিক কী বক্তব্য দিয়েছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবু তাঁর উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডে আইটেম গান ও গ্ল্যামারনির্ভর উপস্থাপনা নিয়ে যে সমালোচনা বাড়ছে, সেখানে নোরা ফাতেহির নাম প্রায়ই উঠে আসে। নাচ ও স্ক্রিন প্রেজেন্সের জন্য জনপ্রিয় হলেও, তাঁর অনেক গানই অতিরিক্ত আবেদনময়ী উপস্থাপনার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে।