img

ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহর ২৪ দফা হামলা

প্রকাশিত :  ০৬:৪৮, ১১ মে ২০২৬

ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহর ২৪ দফা হামলা

দক্ষিণ লেবাননে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান, সেনা সদস্য এবং সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ২৪টি হামলা চালিয়েছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

আজ সোমবার (১১ মে) হিজবুল্লাহ দাবি করে, এই আক্রমণগুলো ইসরায়েলি সেনাসমাবেশ, মেরকাভা ট্যাংক, ডি-নাইন বুলডোজার, সামরিক সরঞ্জাম এবং খিয়াম, দেইর সেরিয়ান, তায়র হারফা, বায়দাদ, রাশাফ ও নাকোরার মতো সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন স্থাপিত কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। মূলত ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে গোষ্ঠীটি উল্লেখ করেছে।

এই সামরিক অভিযানগুলোতে হিজবুল্লাহ ড্রোন, রকেট হামলা, কামানের গোলা এবং গাইডেড মিসাইল বা নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তারা বেশ কিছু হামলায় ‘সুনিশ্চিত আঘাত’ হানার দাবি করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, লেবানন থেকে ড্রোনের অনুপ্রবেশের খবরের পর রোববার গভীর রাতে ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে আসা একটি ‘সন্দেহজনক আকাশযান’ ভূপাতিত করেছে। ইসরায়েল এই ঘটনাকে হিজবুল্লাহ কর্তৃক যুদ্ধবিরতি সমঝোতার ‘আরেকটি লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এবং পরবর্তীতে এর মেয়াদ মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে প্রতিদিন বিমান হামলা চালাচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর সঙ্গে নিয়মিত গোলাগুলি বিনিময় করছে। 

গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৬৯৩ জন। এছাড়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে লেবাননের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বর্তমানে ইসরায়েল লেবাননের ভূখণ্ডে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় বজায় রেখেছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি স্থায়ী সমাধান বেরিয়ে আসবে। তবে সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলা শান্তি আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তার ধার ধারছেন না নেতানিয়াহু

প্রকাশিত :  ০৮:১৯, ১১ মে ২০২৬

ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বার্ষিক সামরিক আর্থিক সহায়তা ধীরে ধীরে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পায়। তবে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আমি চাই এখন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হোক। ধীরে ধীরে আমরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পারি।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইরানের হাতে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক রয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

তবে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ থেমে গেলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলতে পারে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে আগের অবস্থায় থাকতে দেওয়া হবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বাড়ছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, কয়েকটি আরব দেশ এখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো খাতে সহযোগিতার বিষয়ে।

চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সহায়তার অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

গাজায় যুদ্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের সময় ভুলের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিও ঘটেছে।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র ও গাজাকে সামরিক প্রভাবমুক্ত করা এখনো ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর