img

সিলেটে দখলদারদের কাছে অসহায় প্রবাসী

প্রকাশিত :  ০৭:৫৬, ০২ জুন ২০২৬

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

 সিলেটে দখলদারদের কাছে অসহায় প্রবাসী

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ সোনারপাড়ার এলাকার মরহুরম সিরাজুল হক চৌধুরীর ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জহিরুল হক চৌধুরী সাজু ও রাজুর দখল বাণিজ্যের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করলেন। নিজের খরিদা জমিতে জোর করে রাতের আঁধারে টিনের ঘর নির্মাণের অভিযোগ করেছেন তিনি।

গতকাল সোমাবর (১ জুন) বিকালে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জহিরুল হক চৌধুরী (৪১) জানান, তার বাবা ও মা ২০০৯ সালে ১৯ বঙ্গবীর আবাসিক এলাকার (নাইওরপুল) মরহুম মকবুল হোসেন ওরফে মাসুক মিয়ার ছেলের কাছ থেকে সিলেট জেলার সাদিপুর প্রথমখন্ড মৌজার জেএল নং ৯৩, খতিয়ান নং ১৪০, নামজারি খতিয়ান নং ২৩৮৩, হালজরিপি খতিয়ান নং ১৬৪৯ এর ৯৭৭নং দাগের বিএস ৪৩০৮নম্বর থেকে মোট ৬ শতক ১৫ পয়েন্ট জমি ক্রয় করেন (দলিল নং ৪৬০২, ২৩/৩/২০০৯)। ২০১২ সালে এই ভূমিতে বাউন্ডারি দেওয়াল নির্মাণ ও ৫ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে ২০১৬ সালে তার পিতা মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তার বড় ভাই সেখানে কাজ করতে চাইলে স্থানীয় কিছু লোক চাঁদা দাবি করায় তিনি তাকে আপাতত কাজ স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আরও কিছুদিন পর ইসলামপুর মেজরটিলা এলাকার উত্তর সৈয়দপুর এ ব্লকের সাজু আহমদ ও তাঁতীলীগ নেতা রাজু আহমদ মিলে তাদের ভূমিতে সবজি ক্ষেত করে এবং এলাকায় অপপ্রচার করতে থাকে যে এই ভূমি তাদের। ২০২২ সালে জহিরুল দেশে ফিরে তার ভ‚মিতে যেতে চাইলে রাজু ও সাজুসহ তাদের লোকজন বাধাবিপত্তি ও হুমকি দেন। তিনি নিরুপায় হয়ে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি আবেদন করি। তারা তদন্ত করেন এবং তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদান করেন। এরপর আবার তাকে কর্মস্থলে ফিরে যেতে হয়।

তিনি জানান, এবার দেশে ফিরে ২০ মে তার ভূমিতে যেতে চাইলে সাজু ও রাজু তাকে হুমকি ধমকি দিয়ে বের করে দেন। তিনি ২২ মে শাহপরাণ থানায় এ ব্যাপারে একটি জিডি (নং ১১৪৫) দায়ের করি। ২৪ মে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয়পক্ষকে থানায় বসে আলাপ আলোচনার প্রস্তাব দিলে তারা সম্মত হন। কথা হয়, ঈদের ছুটির পর উভয়পক্ষ বসে সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি মিমাংসা করা হবে। কিন্তু এরমধ্যে গত ২৭ মে রাতে তারা তাদের ভ‚মি থেকে সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে এবং সর্বশেষ ১ জুন ভোরের দিকে সেখানে টিনশেডের একটি ঘরও তৈরি করে ফেলে। তারা পুলিশকে মৌখিকভাবে অবগত করলেও এখনো তারা আশ্বাসের বাইরে তার ভূমি রক্ষায় দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি।

সংবাদ সম্মেলনে জহিরুল হক অভিযোগ করেন, ফেবসুক রাজু আহমদ আরিয়ান নামে একটি আইডি থেকে তার প্রতিনিধি সিদ্দেকের নামে নানান অপপ্রচার চালাচ্ছে রাজু ও সাজু। তার তার চরিত্র হননের চেষ্টা করছে। এমন কি, সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও তারা তার ভূমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজু এলাকায় তাঁতীলীগের সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তিনি সিলেটের পুলিশ প্রশাসনসহ সবার সহযোগীতা চেয়েছেন।

তবে জহিরুল হক চৌধুরীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাজু। তিনি দাবি করেছেন, এই ভূমি তিনি কয়েক বছর আগে ক্রয় করেছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’: এক মঞ্চে ২৭ সম্প্রদায়ের মেলা

প্রকাশিত :  ০৮:০৯, ১৯ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা তুলে ধরতে  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২।

আজ শুক্রবার (১৯ জুন) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবটির উদ্বোধন করা হবে। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে আগামী ২১ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উৎসব উন্মুক্ত থাকবে।

উৎসবে স্থানীয় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, জীবনধারা ও খাদ্যসংস্কৃতি তুলে ধরা হবে। এছাড়া এ অঞ্চলের সুস্বাদু ঐতিহ্যবাহী খাবারের পসরাও বসবে মেলায়।

উৎসবকে সফল করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ এর বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ। এসময় উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম বোর্ডের উপপরিচালক (বিপণন ও ব্র্যান্ডিং) মহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহিবুল্লাহ আকন, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম এবং শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) আ. আব্দুর রাজ্জাক।

সংবাদ সম্মেলনে সালেহা বিনতে সিরাজ বলেন, ‘গত বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই)-এর কাকিয়াছড়া মাঠে প্রথমবারের মতো হারমোনি ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার বর্ষা মৌসুমে ফুলছড়া চা বাগান মাঠে আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট একটি স্থানে নিয়মিত এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে বসবাসরত ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতিরও উপস্থাপনা থাকবে। আগামী বছর থেকে সারা দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে আরও বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম এমপি। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আখতার। অতিথিদের স্বাগত জানাবেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।

এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান প্রস্তুতির লাইভ প্রদর্শনী, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত, মণিপুরীদের তাঁতশিল্প, চা ও রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ, হোমস্টে কার্যক্রম এবং কুমার সম্প্রদায়ের মাটির জিনিসপত্র তৈরির সরাসরি প্রদর্শনী।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই এই ফেস্টিভ্যালের অন্যতম লক্ষ্য। মেলায় স্টলগুলোতে তাদের উৎপাদিত পণ্য, খাবার, পোশাক ও জীবনধারা প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি তাদের নাচ, গান ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের পরিবেশনাও থাকবে।থ

পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা, ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর