img

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাক না গলাতে মাস্ককে সতর্ক করলেন স্টারমার

প্রকাশিত :  ১৯:৩০, ০৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাক না গলাতে মাস্ককে সতর্ক করলেন স্টারমার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এর মালিক ও বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্ককে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র জনরোষ ও বিক্ষোভের জন্ম দেওয়া একটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মাস্ক এক্সে বিতর্কিত পোস্ট করার পর গতকাল বৃহস্পতিবার স্টারমার এ হুঁশিয়ারি দেন।

একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। গত বছর হেনরি নোয়াক নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ ছুরিকাঘাতে আহত হন। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার পর হামলাকারী দাবি করেন, হেনরি প্রথমে তাঁর ওপর বর্ণবাদী হামলা চালিয়েছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিটিশ পুলিশ গুরুতর আহত হেনরিকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে উল্টো হাতকড়া পরিয়ে রাখে। পরে হেনরির মৃত্যু হয়।

একপর্যায়ে জানা যায়, হত্যাকারীর ওই অভিযোগ মিথ্যা ছিল। গত সোমবার শিখ সম্প্রদায়ের ওই হত্যাকারীর সাজা ঘোষণা করা হয়।

আদালতের রায় ঘোষণার পর পুলিশের সেই অভিযানের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, মুমূর্ষু ও নির্দোষ নোয়াকের আকুতি আমলেই নিচ্ছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। ভিডিওটি সামনে আসার পর যুক্তরাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও রাজনৈতিক ঝড় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে পুলিশ কেমন আচরণ করে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন ইলন মাস্ক।

কিয়ার স্টারমার বলেন, এ ঘটনায় পুলিশকে জবাবদিহি করতে হবে। তবে ওই ঘটনায় বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, একটি মৃত্যুকে পুঁজি করে উত্তেজনা ছড়ানোর এ চেষ্টা ‘ক্ষমার অযোগ্য’।

সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, ‘মাস্ক কয়েক দিন ধরে আবার আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন এবং বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য এভাবে চলে না।’

স্টারমারের এ বক্তব্যের বিষয়ে এক্স কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের এমন অভিযোগ এমন এক সময় সামনে এল, যখন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স মার্কিন শেয়ারবাজারে সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) ছাড়ার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ মাস্কের

এক্সে দেওয়া পোস্টে ইলন মাস্ক ইঙ্গিত করেন, ব্রিটিশ পুলিশ শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। পাশাপাশি পুলিশি অভিযানের সমালোচনা করে অন্য ব্যবহারকারীদের করা বেশ কিছু মন্তব্যও তিনি রিপোস্ট করেন।

গত বুধবার এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘পাশ্চাত্য এক চরম ক্ষতিকর রাষ্ট্রীয় ধর্ম তৈরি করেছে, যেখানে কাউকে বর্ণবাদী বলাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়! এমনকি ধর্ষণ বা খুনের চেয়ে একে বড় অপরাধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে!’

অবশ্য পুলিশ ও ব্রিটিশ সরকার পুলিশি ব্যবস্থায় এমন বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

নিহত তরুণের পরিবার গতকাল কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করে। পুলিশের এমন আচরণকে ‘অমানবিক ও অবমাননাকর’ বলে উল্লেখ করলেও আদালতের রায়ের পর পরিবারটি বলেছে, নোয়াকের মৃত্যুকে যেন নতুন করে কোনো বিভেদ, ঘৃণা বা উত্তেজনা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।’

আগেও মাস্কের সমালোচনা করেছিলেন স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ইলন মাস্কের এ দ্বন্দ্ব নতুন নয়। আগেও একাধিকবার স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই ধনকুবের। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

মাস্ক দাবি করেন, ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধান সরকারি কৌঁসুলি থাকার সময় স্টারমার তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। মূলত ওই সময়ে তরুণীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো একটি অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন মাস্ক, যাঁদের অধিকাংশ ছিলেন দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত।

অবশ্য স্টারমার সেই সময়ে নেওয়া তাঁর আইনি পদক্ষেপ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে আসছেন।

এর বাইরেও স্টারমার তাঁর লেবার পার্টির এক নারী সংসদ সদস্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যিনি মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ওই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, মাস্কের গ্রোক এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাঁর বিকৃত ও আপত্তিকর ভুয়া ছবি তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এর আগেও গ্রোক এআইয়ের মাধ্যমে এমন ছবি তৈরির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের আইন মেনে চলতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিল এক্স কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমানের চিঠি

প্রকাশিত :  ১৯:১২, ২০ জুলাই ২০২৬

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ জুলাই) এক চিঠিতে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তি‌নি।

চি‌ঠি‌তে তারেক রহমান উ‌ল্লেখ ক‌রেন, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে, লেবার পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং যুক্তরাজ্যের (গ্রেট ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ড) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

তি‌নি ব‌লেন, আপনার এই নির্বাচন আপনার দল এবং যুক্তরাজ্যের জনগণের আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থারই প্রতিফলন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য শান্তি, সমৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। 

সরকারপ্রধান ব‌লেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী, ঐতিহাসিক ও বহুমুখী অংশীদারি বিদ্যমান, যা অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, কমনওয়েলথ নীতি এবং জনগণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, অভিবাসন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে কয়েক দশক ধরে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে। 

চি‌ঠি‌তে আরো উ‌ল্লেখ করা হয়, যুক্তরাজ্য-প্রবাসী প্রাণবন্ত বাংলাদেশি সম্প্রদায় বন্ধুত্বের এক অনন্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে চলেছে এবং উভয় দেশের সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময়তায় অমূল্য অবদান রাখছে। আমাদের কৌশলগত অংশীদারিকে আরো সুদৃঢ় করতে এবং উভয় দেশ ও জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে সম্প্রসারিত করতে আমি আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করি। 

যুক্তরা‌জ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী‌কে বাংলা‌দেশ সফ‌রের আমন্ত্রণ জানিয়ে তা‌রেক রহমান ব‌লেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমি আপনাকে সশ্রদ্ধ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
আপনার সুস্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত কল্যাণ এবং আপনার পদের গুরুদায়িত্ব পালনে পূর্ণাঙ্গ সাফল্য কামনা করছি। আমি যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। মহামান্য, অনুগ্রহ করে আমার গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও সর্বোচ্চ বিবেচনার বিষয়টি গ্রহণ করুন।

সোমবার যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর