img

এবার শাহপরান (রহ.) মাজারে ডিসি সারওয়ার, দিলেন যে নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ১০:১২, ১৯ জুন ২০২৬

 এবার শাহপরান (রহ.) মাজারে ডিসি সারওয়ার, দিলেন যে নির্দেশনা

সিলেটের জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানবাক্স বসানোর পর এবার আরেক অন্যতম ওলি হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে গিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগে তিনি শাহপরান মাজারে যান। নামাজের আগে মাজার মসজিদে বক্তৃকা করেন জেলা প্রশাসক। এসময় তিনি মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনা ও মাজারে মদ-গাঁজার আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।

এসময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ওলি-আউলিয়ারা এই মাটিতে শুয়ে আছেন, উনাদের উসিলায় যে কোন বালা মুসিবত থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেন, এটা আমরা বিশ্বাস করি। এসব ওলি আউলিয়াদের মাজার-মসজিদ উন্নয়নে কিছু কাজ করা দরকার। পরিকল্পিত উন্নয়ন দরকার। এসব মাজার কেন্দ্রিক একটা মাস্টারপ্ল্যান করা উচিত। এখানে মেডিকেল সেন্টার থাকবে। নারীদের নামাজ পরার ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপত্তার যথেষ্ঠ ব্যবস্থা থাকবে।

মানুষ দানের ক্ষেত্রে কোন জিনিস চায় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, মানুষ চায় তার দানের টাকায় কোন জিনিস করবেন এবং তার দানের টাকা স্বচ্ছতা থাকবে। কেউ মেরে নিয়ে যাবে না। তখন সে মন খুলে দান করবে। মানুষ চায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা।

মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই মাজারগুলি পবিত্র স্থান। এই মাজারগুলির আয়ের হিসেব স্বচ্ছ থাকতে হবে। স্বচ্ছ না থাকলে মানুরে আস্থা থাকবে না।

তিনি বলেন, আরেকটা অনুরোধ থাকবে, এই মাজারগুলোতে যাতে কোনভাবে মদ-গাঁজার আসর না বসে। এই অভিযোগগুলো কিন্তু আমাদের কাছে প্রায়ই আসে- অমুজ মাজারে মদ খাইতেছে, গাঁজা খাইতেছে। এটা করা যাবে না। এটি আইনত অপরাধ, আরেকটা হচ্ছে পবিত্র স্থানে বসে অপরাধ করছে। আমরা কিন্তু এই বিষয় এখন শক্ত অবস্থান নেবো। মাজারে কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি দিগুণ হবে। আমাদের গোয়েন্দা নজরদারী থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই স্বচ্ছতা ও সুন্দর। তাতে ওলি-আউলিয়া যে উদ্দেশে আসছিলেন সেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে। এখানে আসলেই যেনো মনে পবিত্রতা আসে। স্ই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মাজারের আয় সরকার এক পয়সাও নেবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তবে মাজারের দান হাতে কালেকশন করবেন না। বক্সে নিবেন। স্বচ্ছতা রাখবেন। আমি আপনাদের সহযোগীতা চাই।

এরআগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল চারটার দিকে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজারের আয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনার কথা বলে দানবাক্স স্থাপন করেছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে সিলগালা করা হয়েছে দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ। দানবাক্স স্থাপনের পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যও নিয়োজিত করা হয়।

যদিও এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মাজার ভক্তরা।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১২ জুন) সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

নতুন দানবাক্স বসানোর পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজারের দান সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ভক্তদের দেওয়া সব দান প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে থাকা এই দান বাক্সগুলোতে জমা হবে। আগে যেমনটা হাতে হাতে দানের টাকা নেওয়া হতো, এখন আর এমনটা করা যাবে না।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে আ. লীগের মিছিল: ৬৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত :  ১১:০০, ১৯ জুন ২০২৬

সিলেট নগরে মিছিল করার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৬৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় মিছিলের পর আটক হওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কোতোয়ালী থানার এসআই মাসুদ আহমদ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ২০০৯ সংশোধিত ১৩ (৯)(৩)১০-১১-১২-১৩ ধারায় এ মামলাটি (নং ২৬(০৬)২০২৬) দায়ের করেন।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন বলেও জানা যায়।

সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট মহানগরীর নবাব রোড এলাকায় পিডিবি অফিসের সামনে থেকে মদিনা মার্কেটের দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ৪০/৫০ জনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযান দিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে চারজনকে এবং ও পরে আরেকজনকে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন ইব্রাহিম মোস্তফা মাহী, সানিয়াত আহমদ, রেদুয়ান আহমদ রাব্বী, আশরাফুল আহমদ শাহী ও সাকির আহমদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন খানের উদ্যোগে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। মিছিলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের বহন করা ব্যানারে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজবন্দীদের মুক্তি এবং ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাইনুল জাকির বলেন, এ মামলায় পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর