ইরান-ইসরায়েলের গোপন তেল পাইপলাইন, আশার আলো দেখছে সৌদি আরব
প্রকাশিত :
০৯:১২, ২৯ জুলাই ২০২৬
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের নৌপথ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে ইসরায়েল–ইরান সংযোগকারী একটি গোপন পাইপলাইন ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে রিয়াদ বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে ষাটের দশকে তৎকালীন ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর অর্থায়ন ও ইসরায়েলি প্রকৌশলে নির্মিত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইলাত-আশকেলন’ পাইপলাইনটি সৌদি আরবের বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি জাজান ও ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগারে হুথি হামলায় দৈনিক চার লাখ ব্যারেল ক্ষমতার শোধনাগার বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বাব এল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে ইউরোপে তেল পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন সৌদি আরব থেকে ইলাত পর্যন্ত ৭০০ কিলোমিটার পাইপলাইনের একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছেন।
ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট জয় লেটনি জানান যে ইলাত-আশকেলন পাইপলাইনটি বিপরীতমুখী বা উত্তরমুখী প্রবাহে দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম। সৌদি আরবের মোট রপ্তানির তুলনায় এটি কম হলেও বর্তমান সংকটে বিকল্প রুট হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। তবে এই সুবিধা চালুর আগে ইলাত বন্দরের সংস্কার, গভীরতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হলো রাজনৈতিক সমীকরণ। সৌদি আরব শুরু থেকেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমান পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার কারণে ভূ-রাজনৈতিক হিসাবনিকাশে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই বাণিজ্যিক ও কৌশলগত উদ্যোগের সমর্থক হলেও ইরান ও হুথিরা এই ধরনের পদক্ষেপকে কঠোর চোখে দেখবে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন বিশ্লেষকরা।
কিডনি রোগীদের জন্য সুখবর, জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা
প্রকাশিত :
০৬:০২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকার বড় পরিসরে দেশের কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে । দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দেশের সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস সেবা চালু করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।
এ লক্ষ্যে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে তিন মাসের ডায়ালাইসিস বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট উভয় ক্যাটাগরিতেই ২ হাজার ৫০০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তও নিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা বাসস’কে বলেন, আমরা এরই মধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছি। এর মধ্যে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ৯০ জন, পাবনায় ২০ জন এবং রাজশাহীতে ১০ জনকে ডায়ালাইসিস সেবাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অল্প দিনের মধ্যেই আমার সিলেটসহ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপকভাবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করবো। এ ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে সারা দেশের কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা নিশ্চিত করতে আরও নার্স নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে।
৫ হাজার নার্স-টেকনোলজিস্টকে প্রশিক্ষণ
ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত নার্সদের থেকে এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে সরকারি চাকরিতে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৪০ বছর হতে হবে।
১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। সংসদ সদস্যদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশিত কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত সমন্বয় সেলের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের কাছে সভার কার্যবিবরণী ে(রেকর্ড অব নোটস) পাঠানো হয়।
প্রতি জেলায় ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার
চলতি বছরের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এদিন অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের প্রতিটি জেলায় ১০ শয্যাবিশিষ্ট কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসনির্ভর হয়ে পড়েন। তবে এ সেবা মূলত ঢাকা ও বড় শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক এলাকার বহু রোগী চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। এর ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই ঢাকায়। ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে এ সেবা এখনো অপ্রতুল।
জেলা কেন্দ্র চালুর তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে সেবা
নথি অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালু হওয়ার তিন বছর পর উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা স্থাপনের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
১২ আগস্টের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আড়াই হাজার নার্সসহ মোট পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে প্রতি ব্যাচে থাকবে ৫০ থেকে ১০০ জন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) এবং ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে।
তৃণমূলে চিকিৎসক সংকট দূর করার উদ্যোগ
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসকের অভাব দূর করতে প্রবেশনারি চিকিৎসকদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হবে। যদি কোনো উপজেলায় উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়া যায়, তবে পাশের উপজেলা বা জেলা থেকে চিকিৎসক সেখানে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়াও আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন নিশ্চিত করা; এক মাসের মধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের পরিবর্তে একটি ৬০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়।