img

অনুমোদন পেল বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ ফ্লু টিকা

প্রকাশিত :  ০৬:০১, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

অনুমোদন পেল বিশ্বে প্রথম এমআরএনএ ফ্লু টিকা

করোনাভাইরাসের টিকার পর এবার ফ্লু চিকিৎসাতেও আশার আলো দেখাচ্ছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার এমআরএনএ টিকা।

বিশ্বে প্রথম জিনগত উপাদান মেসেঞ্জার আরএনএ-কে কাজে লাগিয়ে এমন টিকা তৈরি করেছেন গবেষকেরা, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়ার মতো যে কোনও ধরনের ফ্লু ঠেকাতে কাজে আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।

জিনগত উপাদান আরএনএ-কে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছিল কোভিডের প্রতিষেধকও। তখনই আশার আলো দেখেছিলেন গবেষকরা। 

তারা জানিয়েছিলেন, এই এমআরএনএ টিকা ভবিষ্যতে ক্যানসারের বিরুদ্ধেও কাজে আসতে পারে। সেই আশা যে খুব একটা ভিত্তিহীন ছিল না, তেমনই ইঙ্গিত মিলল আমেরিকার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা মডার্নার নতুন একটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফলে। 

মডার্নার তৈরি নতুন ফ্লু টিকায় এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। এই টিকা তৈরি হয়েছে প্রবীণদের জন্য। মডার্না জানিয়েছে, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যই এই টিকা। 

বয়সকালে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। সাধারণ ফ্লু টিকায় সংক্রমণ ঠেকানো যায় না অনেক সময়। তাই মেসেঞ্জার আরএনএ দিয়েই টিকা তৈরি করা হয়েছে, যা শরীরকে আরও বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে উদ্দীপিত করে।

বিশ্বে প্রথমবার ফ্লুয়ের টিকা তৈরি হয়েছে এমআরএনএ প্রযুক্তিতে। এখন যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরি করা হচ্ছে। টিকাটির নাম ‘এমফ্লুসিভা’। 

প্রাথমিক ভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের জন্য টিকাটি অনুমোদন পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যেও টিকাটির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

টিকাটির ট্রায়াল করে দেখা গিয়েছে, সাধারণ ফ্লু টিকার চেয়ে নতুন টিকাটি ভাইরাস ঠেকাতে অনেক বেশি সক্ষম। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একাধিক প্রজাতির সংক্রমণও এই টিকা ঠেকাতে পারবে বলে দাবি।

ভারতের দিল্লির এমসের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বিশ্বে নিউমোনিয়ায় সব চেয়ে বেশি আক্রান্ত হন পাঁচ বছরের কম বা ৬৫ বছরের বেশি বয়সের মানুষজন। 

তাদের মধ্যেই এই রোগে মৃত্যুর হার বেশি। দেশের যে-কোনও হাসপাতালে আইসিইউয়ের রোগীদের হিসেব নিলে দেখা যাবে, ৬৫-৭০ শতাংশ শয্যায় রয়েছেন নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত বয়স্কেরা। 

তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশই ‘ইনভেসিভ নিউমোনিয়া’র রোগী। এতে রোগের জীবাণু রক্ত ও দেহরসের মাধ্যমে শরীরে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগীর সেপসিস হয়ে যায়। 

তাই বয়সকালে নিউমোনিয়া বিপজ্জনক। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই টিকাটি কার্যকর হলে প্রবীণদের ভাইরাসঘটিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।


img

এবার পোলট্রি মাংসে মিলল মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল

প্রকাশিত :  ০৭:৫২, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আরভিসি) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় পাওয়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা জনস্বাস্থ্য ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ (Antimicrobial Resistance) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের ব্যবহার এ সমস্যার মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পোলট্রি নিউজের’ খবরে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসাবে ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। নমুনা পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। যেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড। মাংসের নমুনার একটা অংশ নেওয়া হয় বিক্রয়কেন্দ্র থেকে, বাকিটা নেওয়া হয় ফার্ম থেকে। ফার্ম থেকে নেওয়া মুরগিগুলো বিক্রির উপযোগী ছিল। 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ছিল নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি। কিছু বিক্রয়কেন্দ্রের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ নমুনায় নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এই হার ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ। 

গবেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যে হার পাওয়া গেছে, তাতে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্তেও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে। অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, আশা করি এ গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তার উন্নতি হবে। 

প্রসঙ্গত, ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাবের মাধ্যমে এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।