img

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স রকেটের আঘাতে চাঁদে নতুন গর্ত, ছবি প্রকাশ

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ১১ আগষ্ট ২০২৬

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স রকেটের আঘাতে চাঁদে নতুন গর্ত, ছবি প্রকাশ

মহাকাশে এক বছরেরও বেশি সময় ভেসে থাকার পর গত ৫ আগস্ট ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানা ওই অংশের সংঘর্ষে সেখানে নতুন একটি গর্ত তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে সংঘর্ষের আগের ও পরের ছবি প্রকাশ পেয়েছে। এসব ছবিতে চাঁদের পৃষ্ঠে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তন ও নতুন গর্তের চিত্র ফুটে উঠেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দানুরি স্যাটেলাইট সেই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এসব ছবি তুলেছে। ছবিগুলোতে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ফলে চাঁদের উপরিভাগে বেশ গভীর একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। এটি চাঁদের জন্য সামান্য ক্ষতি হলেও, মহাকাশে ক্রমবর্ধমান আবর্জনা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ৪ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এবং ৩৯ ফুট লম্বা ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের ওই পরিত্যক্ত অংশের আঘাতের তীব্রতা ছিল প্রায় ৩ টন ওজনের টিএনটি বিস্ফোরণের সমান। এ আঘাতের ফলে চাঁদের বুকে প্রায় ২৭ মিটার চওড়া এবং ৫ মিটার গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় আশপাশ এলাকায় পাথর ও ধূলিকণাও ছিটকে পড়ায় স্থানটি আগের চেয়ে বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। শিগগির নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটার থেকে তোলা আরও স্পষ্ট ছবির মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এদিকে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের কাছে এই ঘটনাটি এক বিরল গবেষণার সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রতিবছর চাঁদে হাজার হাজার উল্কাপাত হলেও তাদের আকার ও ভর জানা থাকে না। কিন্তু ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের ওজন ও উপাদান জানা থাকায় বিজ্ঞানীরা নিখুঁতভাবে এবারের সংঘর্ষের তথ্য জানতে পেরেছেন।

এর আগে, গত ২০০৬ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার স্মার্ট ১ স্যাটেলাইট ও ২০২২ সালে চীনের একটি মহাকাশযানের পরিত্যক্ত অংশ চাঁদের বুকে আঘাত হানার ফলে দুটি গর্ত তৈরি হয়েছিল।

সূত্র: ডেইলি মেইল


img

বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ প্রত্যাহার, মিলবে প্রণোদনা

প্রকাশিত :  ১৩:৪৩, ১০ আগষ্ট ২০২৬

নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক সব ধরনের লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর আইআরএফ বাবদ কোনো ফি আরোপ করা হবে না। এর মাধ্যমে দেশে নগদবিহী

একই সঙ্গে এই কোডভিত্তিক লেনদেনে বাড়তি প্রণোদনাও ঘোষণা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। অর্থাৎ, কার্ড ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ নিতে পারবে না।

সোমবার (১০ আগস্ট) এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করে দেশে কার্যরত সব তফশিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২।

এই নির্দেশনা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশোধিত বলে গণ্য হবে এবং অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

একই সঙ্গে উক্ত তারিখ থেকে গত ১ জুলাইয়ে জারি করা সার্কুলারের নির্দেশনাবলি রহিত থাকবে।

একই দিন অন্য এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিশোধ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ডকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টে সম্পাদিত ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.২০ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান করা হবে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ সংক্রান্ত শর্তাবলীতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো একক লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে বিভক্ত করা, ট্রানজেকশন স্ট্রাকচারিং করা বা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করা যাবে না;

বাতিল হওয়া কোনো লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা প্রাপ্য হবে না;

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক দলিলাদি যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদি সরবরাহ করতে হবে;

কোনো প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা অন্য কোনো ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে বা ভুলবশত প্রণোদনা প্রদান করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রণোদনার অর্থ ফেরত গ্রহণ বা পরবর্তী প্রণোদনার অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে;

এছাড়া কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে তা পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে এবং কৃত্রিমভাবে লেনদেন বিভাজন, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো ধরনের অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

এ ধরনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ ফেরত গ্রহণ বা সমন্বয়ের পাশাপাশি পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।