img

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: সুবিধা ও ক্ষতি বিশ্লেষণ -রেজুয়ান আহম্মেদ

প্রকাশিত :  ১১:৫৪, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০০, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: সুবিধা ও ক্ষতি বিশ্লেষণ -রেজুয়ান আহম্মেদ

বাংলাদেশের রূপপুরে নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের শক্তি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, এটি অনেক সুবিধা ও ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে। এখানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন্দ্র করে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের সুবিধা ও ক্ষতির একটি বিশদ বিশ্লেষণ প্রদান করা হলো।


পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুবিধা

১. কম কার্বন নির্গমন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কার্যকরভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) নির্গমন কমাবে। অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় পারমাণবিক শক্তি একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প, যা গ্লোবাল ওয়ার্মিং ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়ক। বিদ্যুতের উৎপাদনে কার্বন নির্গমন কমানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ তার পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।

২. উচ্চ শক্তি উৎপাদন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রতি বছর কয়েকশো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি দেশের বৃহৎ শহর ও শিল্প এলাকায় শক্তির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উচ্চ ক্ষমতার উৎপাদন ক্ষমতা দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সাহায্য করবে।

৩. নিরবিচ্ছিন্ন শক্তি সরবরাহ: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন শক্তি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এটি একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে কাজ করবে, যা বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

৪. শক্তি সঞ্চয়: পারমাণবিক শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য কাঁচামাল সঞ্চয় করা সহজ। এরা দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শক্তির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।

৫. স্বল্প জ্বালানি খরচ: একবার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে, এর জ্বালানি খরচ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। নিউক্লিয়ার শক্তির উত্পাদন প্রক্রিয়ায় জ্বালানির ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি

১. পারমাণবিক দুর্ঘটনা: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, এটি বিশাল পরিবেশগত ও মানবিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। চেরনোবিল ও ফুকুশিমার মতো দুর্ঘটনাগুলি পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যকে দীর্ঘমেয়াদীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অভাব দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

২. পারমাণবিক বর্জ্য: পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য উপাদান ক্ষতিকর বর্জ্য উৎপাদন করে। এই বর্জ্যগুলিকে দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পারমাণবিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

৩. উচ্চ নির্মাণ ব্যয়: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ব্যয় অত্যন্ত উচ্চ। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। অন্যান্য শক্তি উৎপাদন পদ্ধতির তুলনায় এটি বেশি ব্যয়বহুল হতে পারে।

৪. নিরাপত্তা ঝুঁকি: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে সন্ত্রাসী হামলা এবং পারমাণবিক সামগ্রী চুরির ঝুঁকি থাকে। পারমাণবিক উপাদানগুলি যদি চুরি বা অপব্যবহার হয়, তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

৫. সামাজিক প্রতিক্রিয়া: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এলাকাবাসীদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত উদ্বেগ, এবং প্রতিবাদমূলক আন্দোলন বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

উপসংহার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের শক্তি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলেও, এর সুবিধা ও ক্ষতির মধ্যে একটি সুষম বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এটি পরিবেশগত দিক থেকে শক্তি উৎপাদনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু পারমাণবিক দুর্ঘটনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মতো চ্যালেঞ্জগুলির সমাধান করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতি কমানো সম্ভব এবং এর সুবিধা সর্বাধিকভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।


রেজুয়ান আহম্মেদ: কলামিস্ট, বিশ্লেষক; সম্পাদক অর্থনীতি ডটকম

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

সমুদ্রের নিচের ভূমিকম্পে বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকি কতটা?

প্রকাশিত :  ১০:২৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

সম্প্রতি দেশে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মাঝে বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে বঙ্গোপসাগরে চার মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ৬ দশমিক ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। এর কারণে বড় কোনো সুনামির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ইন্দোনেশিয়ায় অথবা আন্দামান নিকবোর দ্বীপের দিকে বড় ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশেও সুনামির ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যেমন, ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় নয় দশমিক এক মাত্রার ভূমিকম্পে যেখানে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সেই সুনামি আফ্রিকার দেশগুলো পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। সেই সুনামির ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছিল এবং তাতে দুইজনের মৃত্যুর খবর জানা যায়।

ভূমিকম্প ও সুনামি

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলছেন, ‘সাগরে যদি ভূমিকম্প ছয় দশমিক পাঁচ মাত্রার উপরে যায় তারপর সে সুনামি হবে কি না, সুনামি সার্ভিস প্রোভাইডাররা সেটা পর্যবেক্ষণ করেন। কোন জায়গায় কখন হিট করতে পারে, পানির উচ্চতা কতটা হতে পারে, সেটা তারা অ্যালার্ট করেন। এটা আমরা সবময়ই টেস্ট বেসিসে করে আসছি।’

তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশে বঙ্গোপসাগরে প্রায়শই ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তবে চার মাত্রা বা এর চেয়ে দুর্বল সেসব ভূমিকম্প থেকে বড় পর্যায়ে ক্ষতির শঙ্কা থাকে না।’

আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভূমিতে বড় ভূমিকম্প হলেও উপকূলে সুনামির শঙ্কা থাকে। আমাদের পৃথিবীর ওপরের অংশ বা ভূপৃষ্ঠ বিভিন্ন প্লেটে ভাগ করা। এই প্লেটগুলো সবসময় নড়াচড়া করে। কোথাও প্লেট একে অপরকে ঠেলে দেয়, কোথাও পাশ কাটিয়ে যায়, আবার কোথাও নিচে ঢুকে যায়। এমন ক্ষেত্রে যেমন ভূমিকম্প হয়, তেমন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকেও ভূপৃষ্ঠে কম্পন সৃষ্টি হতে পারে। এটি মাটির ওপরে বা পানির নিচে যে কোনো জায়গায় হতে পারে।

২৩ কোটি থেকে ২৮ কোটি বছর আগেও পৃথিবীর সব মহাদেশ মিলে এ রকম একক ভূখণ্ড ছিল বলে তত্ত্ব রয়েছে। এটিকে বলা হয় প্যাঞ্জিয়া। টেকটনিক প্লেটের ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেক ভূখণ্ড হয়েছিল বলে জানা যায়। এর সপক্ষে অনেক ধরনের প্রমাণও রয়েছে। এর মাঝে একটি পানির নিচে থাকা দীর্ঘতম পর্বতমালা মিড আটলান্টিক রিজ যেভাবে পৃথিবীকে ভাগ করেছে। এর মাত্র ১০ শতাংশ মাটির ওপরে যা আইসল্যান্ডে পরিষ্কার দেখা যায়।

সুনামি তৈরি হয় কীভাবে

সুনামি অনেকটা বিশাল আকারের জলোচ্ছ্বাসের মতো। সাধারণত ভূমিকম্প হলেই সুনামি হয় না। সুনামির জন্য ভূমিকম্প খুব শক্তিশালী হতে হয়। এ ছাড়া মোটামুটি অগভীর সমুদ্রতলে এরকম কম্পন সৃষ্টি হওয়াটাও একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। আর এমন কম্পন সমুদ্রের তলদেশকে ওপরে বা নিচে ঠেলে দিলে, বিশাল পরিমাণ পানি সরে গেলে সেটি সুনামি ঘটাতে পারে। এমন বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয় থেকে সুনামি হতে পারে।

বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকি কতটা?

এমনিতে প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীতে ভূতাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল যেটাকে রিং অফ ফায়ার বলা হয়। এরম বিভিন্ন সক্রিয় অঞ্চল বা সাবডাকশন জোন থাকে। বড় সুনামি সৃষ্টিকারী সাবডাকশন জোনগুলো বাংলাদেশ থেকে বেশ দূরে। বাংলাদেশ দুইটা বড় টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে, যা চট্টগ্রাম-আরাকান থেকে আন্দামানের দিকে চলে গেছে। তবে বাংলাদেশে সুনামির ঝুঁকি নিয়ে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন ধরনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি, সাগরের নিচে খুব নিকটবর্তী সময়ে বড় ভূমিকম্প এবং তা থেকে সুনামির শঙ্কা নেই।

ফারজানা সুলতানা বলেন, ‘নরমালি ভূমিকম্প থেকে ওইরকম সুনামির ঝুঁকি নেই, কিন্তু আন্দামান নিকোবরে হলেও ওটা আমাদের জন্য একটা সোর্স অঞ্চল। আমরা টেস্ট বেসিসে সবসময় রেডি থাকি, এটা হলে যেন আমরা সঙ্গে সঙ্গেই সাবধানতা অবলম্বন করতে পারি।’

অতীতের নানা নথিপত্রের তথ্যানুযায়ী, এই অঞ্চলে ১৯৬২ সালে আরাকান কোস্টে প্রায় সাড়ে আট মাত্রার একটি ভূমিকম্প থেকে বড় সুনামি হয়েছিল।

বিবিসির এর আগের একটি প্রতিবেদনে ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছিলেন, এই প্লেটে ভূমিকম্প হলে অবশ্যই বড় সুনামির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখানে খুব তাড়াতাড়ি এই বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সে সময়কার তথ্যে জানা যায়, তখন বড় ধরনের সুনামির তৈরি হয়েছি, যা উপকূল থেকে অনেকদূর পর্যন্ত ভেতরে এসে পৌঁছেছিল। যদিও তখন মানুষ কম ছিল বলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হয়তো তত বেশি হয়নি। তবে ঢাকায় নদীর পানি বেড়ে গিয়ে পাঁচশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়।

সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘এরপর আর এই অঞ্চলে এত বড় ভূমিকম্প বা সুনামির তথ্য পাওয়া যায় না। আমাদের হিসাবে, একবার ভূমিকম্প হওয়ার পর ওই প্লেটে শক্তি সঞ্চয় হয়ে পরবর্তী ভূমিকম্প হতে আরও ৫০০-৯০০ বছর লেগে যায়। সেই হিসাবে এখানে ওই প্লেটে (আরাকান প্লেটে) ভূমিকম্প হতে আরও ২০০-২৫০ বছর বাকি আছে।’

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ‘ফানেল শেপ’ অবস্থায় রয়েছে অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সমুদ্র দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হয়ে গেছে।

সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেছিলেন, ‘আন্দামান বা ভারত মহাসাগরে যদি বড় সুনামি তৈরি হয়, ফানেল শেপ হওয়ার কারণে তার প্রভাব কিছুটা বাংলাদেশে এসেও লাগবে। যদিও সেটা হয়তো ইন্দোনেশিয়ার মতো অতটা ভয়ানক হবে না। ভূমিকম্প সম্পর্কে খুব আগেভাগে সতর্ক করা সম্ভব না হলেও যেহেতু ভূমিকম্পের পরে পানিতে সুনামির সৃষ্টি হয়, ফলে সুনামি সম্পর্কে আগেভাগে সতর্ক করা যায়।’

তবে বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রে ভূমিকম্পের চেয়ে ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে যে ভূমিকম্পের যে ঝুঁকি রয়েছে, সেটিই এখন বেশি শঙ্কার জায়গা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : বিবিসি