img

তসলিমা নাসরিনের ‘চুম্বন’ বই ঘিরে বইমেলায় উত্তেজনা, স্টল বন্ধ

প্রকাশিত :  ০৯:০৩, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:০৮, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

তসলিমা নাসরিনের ‘চুম্বন’ বই ঘিরে বইমেলায় উত্তেজনা, স্টল বন্ধ

বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের একটি বইকে কেন্দ্র করে অমর একুশে বইমেলায়  উত্তেজনা তৈরির পর সাময়িকভাবে একটি স্টল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

এসময় সেখান থেকে একজনকে পুলিশ হেফাজতেও নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম।

তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আমরা সব্যসাচী প্রকাশনার শতাব্দী ভব নামে একজনকে হেফাজতে নিয়েছি। আপাতত স্টলটি বন্ধ করা হয়েছে”।

তিনি জানিয়েছেন, বইমেলায় তসলিমা নাসরিনের ‘চুম্বন’ বইটি ঘিরেই এই উত্তেজনা তৈরি হয়।

সে সময়ে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যাতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি সব্যসাচী প্রকাশনীর ওই স্টলে গিয়ে তসলিমা নাসরিনের বই রাখা নিয়ে হট্টগোল তৈরি করছেন। এক পর্যায়ে তারা নানা ধরনের স্লোগান দেয়া শুরু করলে পুলিশ সেখানে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বইমেলার কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের একজন এসআই জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সব্যসাচীর স্টলে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সাহায্যে মেলা থেকে বের করে নেওয়া হয় ওই স্টলের একজনকে।

তবে যারা হট্টগোল সৃষ্টি করেছিল তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।

পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “সব্যসাচী স্টল থেকে আমরা যাকে হেফাজতে নিয়েছি, তাকে আটক করা হয়নি। তবে বইয়ের স্টলটি আপাতত বন্ধ আছে। তিনি নিষিদ্ধ বই বিক্রি করছিলেন এমন অভিযোগেই আমরা তাকে হেফাজতে নিয়েছি”।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে স্টলটি বন্ধের পর বর্তমানে বইমেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

সাহিত্য-সংস্কৃতি এর আরও খবর

img

গাজার দিনলিপি, মানবতার ভাষ্য

প্রকাশিত :  ১৮:২৮, ০৫ মার্চ ২০২৬

‘দ্য ডেইজ অব গাজা’ নিয়ে মুখোমুখি রেজুয়ান আহম্মেদ

ড. নাজমুল ইসলাম 

যুদ্ধের খবর প্রতিদিনই আসে—সংখ্যায়, পরিসংখ্যানে, কূটনৈতিক বিবৃতিতে। কিন্তু সেই সব সংখ্যার আড়ালে যে মানুষ, যে শিশু, যে মা—তাদের গল্প কতটা শোনা যায়? এই প্রশ্ন থেকেই কথাসাহিত্যিক রেজুয়ান আহম্মেদের সাম্প্রতিক গ্রন্থ ‘দ্য ডেইজ অব গাজা’-এর জন্ম। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বইটির প্রেরণা, নির্মাণপ্রক্রিয়া ও বার্তা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

বইটি লেখার পেছনের কারণ জানতে চাইলে রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অবস্থান থেকে লেখা নয়। “গাজার শিশুদের চোখে যে আতঙ্ক, মায়েদের চোখে যে অপেক্ষা, আর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও বেঁচে থাকার যে অদম্য ইচ্ছা—সেই মানবিক গল্পগুলো আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আমি চেয়েছি যুদ্ধের পরিসংখ্যান নয়, মানুষের অনুভূতির ইতিহাস লিখতে।”

লেখকের ভাষায়, সংবাদ তাৎক্ষণিক; কিন্তু সাহিত্য দীর্ঘস্থায়ী। সংবাদ জানায় কী ঘটেছে, সাহিত্য অনুভব করায় কেন তা আমাদের ভাবায়।

‘দ্য ডেইজ অব গাজা’—নামের ভেতরেই যেন এক দীর্ঘ সময়ের সঞ্চিত বেদনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “‘ডেইজ’ মানে দিনগুলো। কিন্তু এখানে প্রতিটি দিন এক-একটি দীর্ঘ ইতিহাস। প্রতিটি সকাল অনিশ্চয়তার, প্রতিটি রাত বেঁচে থাকার সংগ্রামের। গাজার দিনগুলো কেবল সংবাদ শিরোনাম নয়; এগুলো মানুষের জীবন, স্বপ্ন আর অশ্রুর দিনলিপি।” এই বক্তব্যেই বোঝা যায়, বইটি ঘটনাপঞ্জি নয়; বরং এক মানবিক দলিল।

বইটি পুরোপুরি বাস্তব ঘটনার ওপর নির্ভরশীল কিনা—এ প্রশ্নে রেজুয়ান আহম্মেদ জানান, এটি গবেষণা, সংবাদ ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনার সঙ্গে সাহিত্যিক কল্পনার মিশ্রণে তৈরি। “সাহিত্যের কাজ কেবল তথ্য দেওয়া নয়, অনুভব করানো,”—বলেছেন তিনি। বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়েই তিনি চরিত্র নির্মাণ করেছেন, যাতে পাঠক কেবল পড়েন না, ভেতরে ভেতরে অংশ হয়ে ওঠেন।

লিখতে গিয়ে আবেগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। “অনেক সময় লিখতে গিয়ে থেমে যেতে হয়েছে। কিছু অধ্যায় লেখার সময় চোখ ভিজে গেছে। কিন্তু আমি থামিনি। কারণ কেউ না কেউ তো এই গল্পগুলো বলবেই। যদি আমার কলম সেই কণ্ঠ হতে পারে, সেটাই আমার সার্থকতা।” এই স্বীকারোক্তি বইটির আবেগঘন ভেতরকার সুরকে স্পষ্ট করে।

বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে লেখকের বার্তা—“মানবতা কখনো পরাজিত হয় না। পৃথিবীর যে প্রান্তেই অন্যায় হোক না কেন, আমাদের বিবেককে জাগ্রত রাখতে হবে। সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ এবং ভালোবাসাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।” দ্রুত তথ্যপ্রবাহের যুগে ঘটনাকে দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতার বিপরীতে সাহিত্যকে তিনি দেখেন স্মৃতি ও বিবেকের ধারক হিসেবে।

সাক্ষাৎকারের শেষপ্রান্তে রেজুয়ান আহম্মেদ বলেন, “বইটি পড়ুন খোলা হৃদয়ে। এটি কোনো পক্ষ নেওয়ার বই নয়; এটি মানুষকে অনুভব করার বই। যদি পাঠক একটি মুহূর্তের জন্যও গাজার কোনো শিশুর চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখতে পারেন, তবে আমার লেখা সফল।”

সমাপনী বক্তব্যে তিনি যোগ করেন, “সাহিত্যের শক্তি বন্দুকের চেয়ে বড়। শব্দের শক্তি ধ্বংস নয়, সৃষ্টি করে। ‘দ্য ডেইজ অব গাজা’ সেই সৃষ্টির একটি ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা—মানবতার পক্ষে, জীবনের পক্ষে।”

যুদ্ধের কোলাহলের ভেতরেও মানবতার যে ক্ষীণ কিন্তু স্থায়ী সুর, এই বই যেন সেই সুরকেই শব্দে রূপ দেওয়ার চেষ্টা।