img

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির ঘোষণা ব্রিটেনের

প্রকাশিত :  ০৫:৪৫, ৩০ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৮, ৩০ জুলাই ২০২৫

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির ঘোষণা ব্রিটেনের

আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

গতকাল মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) নিজের মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন তিনি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ইসরায়েলি সরকার যদি গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি না করে, পশ্চিম তীরকে অধিগ্রহণ করা হবে না- এমন নিশ্চয়তা না দেয় এবং দ্বিরাষ্ট্র গঠনে দীর্ঘ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি না দেয়, তাহলে এই স্বীকৃতি কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিনের পাশে একটি নিরাপদ ইসরায়েল রাষ্ট্র নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, যদি দখলদার ইসরায়েল তাদের দেওয়া শর্তগুলো না মানে তাহলে জাতিসংঘের অধিবেশনের আগেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আবার পর্যবেক্ষণে বসবেন তারা। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে কিয়ার স্টার্মার বলেন, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে মেলাচ্ছেন না এবং তাদের মধ্যে কোনো তুলনা হয় না। তিনি হামাসের প্রতি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির চুক্তি করার আহ্বান জানান। 

এছাড়া যুদ্ধ শেষে হামাস গাজায় সরকার পরিচালনায় কোনো দায়িত্বে থাকতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো জিম্মিদের মুক্তি এবং সাহায্য সরবরাহের মাধ্যমে উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তন করা।

এর আগে গত সপ্তাহে ফ্রান্স সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির কথা জানিয়েছিল। বিশ্বের প্রায় ১৩৯টি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

চাপের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, নিজ দলের এমপিরাই চাচ্ছেন পদত্যাগ

প্রকাশিত :  ০৭:০১, ১২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩০, ১২ মে ২০২৬

ক্রমেই চাপ বাড়ছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর ওপর। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেই এখন তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। দলটির বহু সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী চাইছেন, স্টারমার যেন তার পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণা করেন।

এই চাপের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ কয়েকজন মন্ত্রী স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বৈঠকের আগে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এই বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তবে জানা গেছে, মন্ত্রিসভায় শাবানা মাহমুদ এ দাবির পক্ষে সংখ্যালঘু অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে সরকারের ছয়জন মন্ত্রীসভার সহকারীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা কেউ পদত্যাগ করেছেন, আবার কেউ প্রকাশ্যে স্টারমারের সরে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ পর্যন্ত লেবার পার্টির বাহাত্তর জন সংসদ সদস্য স্টারমারের পদত্যাগ অথবা নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি তুলেছেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রীর সহকারী জো মরিস। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। আরও পদত্যাগ করেছেন উপপ্রধানমন্ত্রীর সহকারী মেলানি ওয়ার্ড, মন্ত্রিপরিষদবিষয়ক মন্ত্রীর সহকারী নওশাবাহ খান এবং পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রীর সহকারী টম রাটল্যান্ড।

এর আগে এক ভাষণে স্টারমার বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবেন। তিনি স্বীকার করেন যে সরকার কিছু ভুল করেছে, তবে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল বলে দাবি করেন।

স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তার ওপর চাপ বাড়ছে। ইংল্যান্ডজুড়ে লেবার পার্টি প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর পদ হারিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্কারপন্থী দল ও সবুজ দলের উত্থানে দলটির সমর্থন কমেছে।

ওয়েলসেও শত বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়েছে লেবার পার্টি। স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে তারা একশ ঊনত্রিশটি আসনের মধ্যে মাত্র সতেরোটি পেয়েছে, যা দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল।

জো মরিস বলেন, 'ভোটাররা আর বিশ্বাস করেন না যে স্টারমার তাদের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারবেন।'

পূর্ব ওয়ার্থিং এলাকার সংসদ সদস্য টম রাটল্যান্ড বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু দলীয় সংসদ সদস্যদের নয়, গোটা দেশের আস্থাও হারিয়েছেন।

নওশাবাহ খান বলেন, 'আমি ব্যর্থতা দেখে চুপ থাকার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। এখনই নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার।'

এদিকে সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম-এর নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর