img

ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব, যা জানাল কারা কর্তৃপক্ষ

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব, যা জানাল কারা কর্তৃপক্ষ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কারাগারে হত্যার গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া তাকে গোপনে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বুধবার (২৭ নভেম্বর) আদিয়ালা জেল প্রশাসন জানিয়েছে, ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন ভিত্তিহীন। ইমরান খানকে জেল থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়নি। প্রশাসনের দাবি, তিনি জেলের ভেতরেই আছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

এক বিবৃতিতে রাওয়ালপিন্ডি কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমরান খানকে স্থানান্তর করার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার স্বাস্থ্য নিয়ে যে নানা জল্পনা চলছে তা ‘নির্বিচার ও ভিত্তিহীন’। জেল কর্তৃপক্ষ তার সুস্থতা নিশ্চিত করছে।

এদিকে পৃথক বক্তব্যে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ দাবি করেন, ইমরান খান জেলে ‘যথেষ্ট আরাম-আয়েশ’ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ওনার জন্য যে খাবারের মেনু আসে, সেটা পাঁচতারকা হোটেলেও পাওয়া যায় না।’

তিনি আরও জানান, ইমরান খানের সেলে টেলিভিশন আছে যেখানে তিনি যেকোনো চ্যানেল দেখতে পারেন। এছাড়া ব্যায়ামের জন্য আলাদা মেশিনও রাখা হয়েছে।

খাওয়াজা আসিফ নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতার সাথে তুলনা করে বলেন, আমরা ঠাণ্ডা মেঝেতে ঘুমাতাম, জেলের সাধারণ খাবার খেতাম। জানুয়ারিতে মাত্র দুইটা কম্বল ছিল, গরম পানিও ছিল না। তখনকার সুপারিনটেনডেন্ট আসাদ ওয়ারাইচ নিজে এসে আমার সেল থেকে গিজার খুলে নিয়ে গিয়েছিলেন।

তিনি দাবি করেন, ইমরান খানকে একটি ডাবল বেড ও ‘ভেলভেট ম্যাট্রেস’ দেয়া হয়েছে। ব্যঙ্গ করে তিনি আরও বলেন, তার উচিৎ জেলের লাউডস্পিকার দিয়ে তার ওয়াশিংটন এরিনা বক্তৃতা শোনা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘খোদার ভয় করুন — সময় কারও সাথেই থাকে না।’

ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি। তার বোনদের অভিযোগ, গত তিন সপ্তাহেও তারা ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাননি। এজন্য তারা এই সপ্তাহে কারাগারের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলে পুলিশ আকস্মিকভাবে লাঠিপেটা শুরু করে।

পিটিআইয়ের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, ইমরান খানের বোন ও সমর্থকরা শান্তিপূর্ণভাবে বসে থাকা অবস্থায় পুলিশ হঠাৎ তাদের ওপর হামলে পড়ে। দলটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।

এদিকে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইমরান খানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছে। তাকে অন্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি বই, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করার অনুমতি সীমিত করা হয়েছে।

আইনজীবী খালিদ ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ‘এখানে আইনের কোনো নিয়ম নেই। জঙ্গলের আইন চলছে, যেখানে শুধু শাসকেরই অধিকার থাকে।’

এমনকি খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোয়েল আফ্রিদির সাতবার চেষ্টা করলেও তাকে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পিটিআইয়ের অভিযোগ, জেল কর্তৃপক্ষকে একজন সেনা কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণ করছেন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ধ্বংসস্তুপের চিত্র প্রকাশ করলেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা

প্রকাশিত :  ১৭:৩৭, ০৯ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৬, ০৯ মার্চ ২০২৬

ইরানে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ১০ম দিনে গড়িয়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে তেল আবিবসহ উগ্র ইহুদিবাদী অবৈধ ভূখণ্ডটিতে বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করছে তেহরান। 

তবে এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তার তেমন কিছুই প্রকাশ হচ্ছে না বলে ধারণা সচেতন মহলের। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, ভয়ঙ্কর ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউটের’ (তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা) তথ্য।

ইসরাইলের দখল করা ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আলজাজিরার রিপোর্টার নুর ওদেহ।

তিনি জানান, এই পুরো যুদ্ধজুড়ে—আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আগে কখনও এমন কিছু দেখিনি—সামরিক সেন্সর কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

ইরান বা হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেটগুলো ঠিক কোথায় পড়ছে এবং কতগুলো ছোড়া হয়েছে, সে সম্পর্কিত তথ্যের ওপর তারা মূলত একটি সংবাদ ব্ল্যাকআউট জারি করেছে। যেসব সাংবাদিক অন-এয়ারে বা সরাসরি সম্প্রচারে 'প্রয়োজনের চেয়ে বেশি' তথ্য বলছেন বলে মনে করা হচ্ছে, কর্তৃপক্ষ তাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে আমরা জানতে পেরেছি যে, আজ সোমবার (৯ মার্চ) ইসরাইলের তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় দুজন নিহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে আমরা জানতে পেরেছি, ইরান যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে তার কয়েকটিতে 'ক্লাস্টার ওয়ারেড' বা গুচ্ছ বোমা রয়েছে। এর অর্থ হলো, এগুলো আঘাত হানার সময় খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় এবং অনেক বড় ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

লক্ষ্যবস্তু হওয়া এলাকাগুলোতে কোনো অবিস্ফোরিত গোলা রয়ে গেছে কিনা তা নিশ্চিত করতে জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোর দীর্ঘ সময় লাগছে। 

এসব কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা প্রকাশ করছে না কর্তৃপক্ষ- ধারণা সচেতন মহলের।

সোমবার ইসরাইলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছে বলে প্রকাশ করেছে তেল আবিব। তবে নুর ওদেহর বক্তব্য থেকে জানা যায়, এ ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছে।