প্রকাশিত :
০৫:৫৬, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট: ০৬:০৭, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
দক্ষিণ গাজার রাফা শহরে একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে ৯ ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে দখলদার ইসরাইল। আজ শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এ দাবি করেছে ইসরাইলি সেনারা। খবর মিডল ইস্ট মনিটরের।
ইসরাইলি সেনারা আরও অভিযোগ করেছে, এখন পর্যন্ত পূর্ব রাফার ভূগর্ভস্থ সন্ত্রাস কাঠামো থেকে পালাতে চাওয়া ৩০ জনেরও বেশি যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে ইসরাইলের এ দাবির বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি হামাস।
সম্প্রতি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ২০০ জন হামাস যোদ্ধা রাফার একটি সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছে। তবে তাদের নিরাপদে বেরিয়ে আসার পথ দেওয়ার জন্য হামাস ও মধ্যস্ততাকারীদের অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি তেল আবিব।
রাফা গাজা উপত্যকার এমন অঞ্চলে অবস্থিত তা এখনো ইসরাইলি সেনাদের দখলে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হামাস ও ইসরাইর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়।চুক্তির প্রথম ধাপের মধ্যে রয়েছে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে জিম্মিদের মুক্তি। এছাড়া গাজা পুনর্গঠন ও হামাস ছাড়া নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত আছে এতে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে ইসরাইল। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এছাড়া এ সময়ে আহত হয়েছেন এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
প্রকাশিত :
০৫:৩০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান আকাশপথ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, পেন্টাগন ইরানের সেনা ঘাঁটিসহ সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, রাজপথে নাশকতায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃতুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।
সত্তরের দশকের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মুখোমুখি এখন ইরান। অর্থনৈতিক দুরবস্থার জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে সরকার পতন আন্দোলনে। উত্তাল রাজপথের আন্দোলন দমাতে কঠোর অব্স্থান নিয়েছে ইরানের সরকার। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর দাবি, প্রতিদিনই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ। এতে বেড়েই চলেছে নিহতের সংখ্যা।
বিক্ষোভ দমনে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ ইরান। দেশটির প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, রাজপথে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিলম্বিত বিচার কার্যকারিতা হারায় উল্লেখ করে তিনি সর্বোচ্চ সাজার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরান ইস্যুতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আগেই দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন এরইমধ্যে দেশটির পারমাণবিক কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা ও কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
একই সাথে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নিজেদের আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন বিক্ষোভকারীদের মৃতুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে তেহরান। তুরস্ক, আমিরাত ও সৌদি আরবকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা হলে পাল্টা আঘাত আসবে ওই সব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে। এর পরপরই তেহরানকে আশ্বস্ত করে রিয়াদ জানায়, সৌদি আরবের আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে কোন হামলা করতে দেয়া হবেনা।
যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এতদিন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে যে সীমিত যোগাযোগ ছিল, তা এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের ক্রমাগত সামরিক হুমকির কারণে আলোচনার পরিবেশ আর নেই।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরান ইস্যুতে বিক্ষোভ হয়েছে। জার্মানির বার্লিনে হাজার হাজার প্রবাসী ইরানি রাজপথে নেমে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি সমাবেশ ও বিশাল পদযাত্রা করেছেন। অন্যদিকে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে ইরান সরকারের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন অনেকে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেন অনেকে।