img

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র তাণ্ডবে শ্রীলংকায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়াল

প্রকাশিত :  ০৪:৫৮, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫

ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র তাণ্ডবে শ্রীলংকায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়াল
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ২১৮ জন।—খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। উপড়ে পড়া গাছ ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়কগুলো পরিষ্কার করতে ত্রাণকর্মীরা কাজ শুরু করায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে।

ডিএমসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ এশীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির বিশাল অংশ জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বন্যার কারণে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দুই লাখ মানুষ ১,২৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

শনিবার থেকে কেলানি নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কলম্বোর উত্তরাঞ্চল তলিয়ে যায়। বাধ্যতামূলকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

ডিএমসি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মূল এলাকা থেকে সরে গেলেও উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে নতুন করে বন্যা দেখা দিচ্ছে।

তবে উদ্ধার কাজও চলছে সমানতালে। ২৪ হাজারের বেশি পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সদস্য এখনো বন্যায় আটকা পড়া পরিবারগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। 

দ্বীপের পূর্ব অংশে মাভিল আরু জলাধারের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশের পর বিমান বাহিনী ১২০ জনেরও বেশি লোককে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। আরও প্রায় ‍২ হাজার মানুষকে নিরাপত্তার জন্য উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজধানী কলম্বোতে পানি নামতে কমপক্ষে আরও একদিন লাগবে। এর মধ্যে আবহাওয়া বিভাগ শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ ইতোমধ্যে ভারতের অভিমুখে সরে গেছে।

img

মাঝ আকাশে বিপত্তি, মহাসড়কে আছড়ে পড়ল প্রশিক্ষণ বিমান

প্রকাশিত :  ০৬:৫০, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৫, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের এক ব্যস্ত মহাসড়কে জরুরি অবতরণ করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে একটি উড়োজাহাজ। গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর এনডিটিভির। 

মার্কিন পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একক ইঞ্জিনের প্রশিক্ষণ বিমানটির পাইলট এটিকে মহাসড়কেই জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হন। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে ফিরে যাওয়ার মতো সক্ষমতা ছিল না বিমানটির।

ইতোমধ্যে বিমান সড়কে আছড়ে পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছডিয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, ছোট বিমানটি ব্যস্ত সড়কে জরুরি অবতরণের পর বেশ কয়েকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটিতে বেশ কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবতরণের পর বিমানটির ডান দিকের ডানা একটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে উড়োজাহাজের জ্বালানি ট্যাংক আলগা হয়ে ছিটকে একটি এসইউভির পেছনের অংশে ঢুকে যায়।

বিমান দুর্ঘটনার পর ইতোমধ্যে সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ যানজটের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। 

ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, বিমানটি জর্জিয়ার গেইনসভিলের লি গিলমার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর থেকে ক্যান্টনের চেরোকি কাউন্টি রিজিওনাল বিমানবন্দরে যাচ্ছিল।  

উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই পাইলট ইঞ্জিনে ত্রুটি অনুভব করেন, তিনি গেইনসভিলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট সক্ষমতা না থাকায় পাইলট রাস্তায় জরুরি অবতরণ করেন এবং বিমানটি তিনটি গাড়িতে আঘাত হানে বলে জানায় এনটিএসবি।

এই ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর