ভারতে ৩.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে ভুটান ও বঙ্গোপসাগরেও ক্ষুদ্র মাত্রার দুটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। বঙ্গোপসাগরে রাত ২টা ৫৯ মিনিটে ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১১টা ৩২ মিনিটে ভুটানে ৩.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ঘটে।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়া ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দেশটির উত্তর সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে ভূ-কম্পনটি আঘাত হানে।
এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে, বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের কাছে সুমাত্রা দ্বীপে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে।
এর আগে বুধবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টায় দেশটির নর্থ সুলাওয়েসি অঞ্চলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
প্রকাশিত :
০৫:৩০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান আকাশপথ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, পেন্টাগন ইরানের সেনা ঘাঁটিসহ সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, রাজপথে নাশকতায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃতুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।
সত্তরের দশকের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মুখোমুখি এখন ইরান। অর্থনৈতিক দুরবস্থার জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে সরকার পতন আন্দোলনে। উত্তাল রাজপথের আন্দোলন দমাতে কঠোর অব্স্থান নিয়েছে ইরানের সরকার। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর দাবি, প্রতিদিনই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ। এতে বেড়েই চলেছে নিহতের সংখ্যা।
বিক্ষোভ দমনে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ ইরান। দেশটির প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, রাজপথে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিলম্বিত বিচার কার্যকারিতা হারায় উল্লেখ করে তিনি সর্বোচ্চ সাজার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরান ইস্যুতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আগেই দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন এরইমধ্যে দেশটির পারমাণবিক কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা ও কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
একই সাথে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নিজেদের আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন বিক্ষোভকারীদের মৃতুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে তেহরান। তুরস্ক, আমিরাত ও সৌদি আরবকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা হলে পাল্টা আঘাত আসবে ওই সব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে। এর পরপরই তেহরানকে আশ্বস্ত করে রিয়াদ জানায়, সৌদি আরবের আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে কোন হামলা করতে দেয়া হবেনা।
যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এতদিন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে যে সীমিত যোগাযোগ ছিল, তা এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের ক্রমাগত সামরিক হুমকির কারণে আলোচনার পরিবেশ আর নেই।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরান ইস্যুতে বিক্ষোভ হয়েছে। জার্মানির বার্লিনে হাজার হাজার প্রবাসী ইরানি রাজপথে নেমে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি সমাবেশ ও বিশাল পদযাত্রা করেছেন। অন্যদিকে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে ইরান সরকারের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন অনেকে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেন অনেকে।