img

গাজায় ফের ইসরাইলি হামলা, সাংবাদিকসহ নিহত ৫ ফিলিস্তিনি

প্রকাশিত :  ০৫:০৮, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজায় ফের ইসরাইলি হামলা, সাংবাদিকসহ নিহত ৫ ফিলিস্তিনি

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজায় ফের হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল। এতে অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক ও শিশুও রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। 

মার্কিন-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি জারি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল ট্যাংক ও ড্রোন থেকে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে এবং এতে বারবারই লঙ্ঘিত হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, বাড়ছে হতাহত ও ধ্বংসযজ্ঞ। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

গাজার চিকিৎসা সূত্র জানায়, গাজা সিটির আল-তুফাহ এলাকায় ইসরাইলি গোলাবর্ষণে দুজন নিহত হন, যার এক শিশুও নিহত হয়েছে । আহত ১৫ জনকে আল-আহলি ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। এছাড়া পূর্ব গাজা সিটির জায়তুন এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হন।

পরে খান ইউনিসের কেন্দ্রীয় অংশে ইসরাইলি হামলায় ফটোসাংবাদিক মাহমুদ ওয়াদি নিহত হন। চিকিৎসকরা জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুসারে যে এলাকা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণাধীন হিসেবে চিহ্নিত নয় সেই জায়গায় ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। 

ওয়াদির বাবা ইসসাম বলেন, ‘মাহমুদ নিরাপদ এলাকায় ছবি তুলছিল... কিন্তু ইসরাইল কোনো অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি পূরণ করে না।’

গাজা সিটির কেন্দ্রীয় অংশের আল-দারাজ স্কুলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে নারীসহ আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ওই স্কুলটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। গাজা সিভিল ডিফেন্স বলছে, আল-তুফাহ এলাকায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং ইউনাইটেড নেশনস ওসা’র সহায়তায় উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়া বহু মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উত্তরের বেইত লাহিয়ায় ইসরাইলি বাহিনী বহু ভবন ও স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছে। এই এলাকা এখনো ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া গাজা সিটি, খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকা এখনও ইসরাইলি হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩৫৬ জন নিহত এবং আরও ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলের হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ।

গাজা গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানায়, ওয়াদি নিহত হওয়ার পর গাজায় সাংবাদিক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৭ জনে। তারা অভিযোগ করেছে, ইসরাইল ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর ‘বুঝেশুনে হামলা ও টার্গেটেড হত্যাকাণ্ড’ চালাচ্ছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করলো ইরান

প্রকাশিত :  ০৫:৩০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান আকাশপথ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, পেন্টাগন ইরানের সেনা ঘাঁটিসহ সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে।

এদিকে ইরানের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, রাজপথে নাশকতায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃতুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান। 

সত্তরের দশকের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মুখোমুখি এখন ইরান। অর্থনৈতিক দুরবস্থার জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে সরকার পতন আন্দোলনে। উত্তাল রাজপথের আন্দোলন দমাতে কঠোর অব্স্থান নিয়েছে ইরানের সরকার। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর দাবি, প্রতিদিনই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ। এতে বেড়েই চলেছে নিহতের সংখ্যা।

বিক্ষোভ দমনে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ ইরান। দেশটির প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, রাজপথে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিলম্বিত বিচার কার্যকারিতা হারায় উল্লেখ করে তিনি সর্বোচ্চ সাজার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

ইরান ইস্যুতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আগেই দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন এরইমধ্যে দেশটির পারমাণবিক কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা ও কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। 

একই সাথে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নিজেদের আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন বিক্ষোভকারীদের মৃতুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে তেহরান। তুরস্ক, আমিরাত ও সৌদি আরবকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা হলে পাল্টা আঘাত আসবে ওই সব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে। এর পরপরই তেহরানকে আশ্বস্ত করে রিয়াদ জানায়, সৌদি আরবের আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে কোন হামলা করতে দেয়া হবেনা। 

যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এতদিন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে যে সীমিত যোগাযোগ ছিল, তা এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের ক্রমাগত সামরিক হুমকির কারণে আলোচনার পরিবেশ আর নেই।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরান ইস্যুতে বিক্ষোভ হয়েছে। জার্মানির বার্লিনে হাজার হাজার প্রবাসী ইরানি রাজপথে নেমে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি সমাবেশ ও বিশাল পদযাত্রা করেছেন। অন্যদিকে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে ইরান সরকারের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন অনেকে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেন অনেকে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর