img

আগামীকাল রোববার বাজারে আস্থার প্রত্যাবর্তন: কেন বাড়তে পারে ASIATICLAB–সহ বহু শেয়ারের দাম

প্রকাশিত :  ০৯:২২, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৩, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

আগামীকাল রোববার বাজারে আস্থার প্রত্যাবর্তন: কেন বাড়তে পারে ASIATICLAB–সহ বহু শেয়ারের দাম

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ, ২৯ নভেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের নীরবতার ভেতর দিয়ে এগিয়ে চলেছে—লেনদেনের কমতি, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং সামগ্রিক আর্থিক পরিবেশের অনিশ্চয়তা বাজারকে চাপে ফেলে দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ধীরে ধীরে যে ইতিবাচক সেন্টিমেন্ট তৈরি হচ্ছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কয়েকটি শক্তিশালী ফান্ডামেন্টাল–সমৃদ্ধ কোম্পানি। বিশেষত আসিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড (ASIATICLAB)–এর সাম্প্রতিক আর্থিক তথ্য ও মূল্য আচরণ বিশ্লেষণ করে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে—আগামীকাল রোববার শেয়ারটির দামে স্বাভাবিক একটি উত্থান দেখা যেতে পারে।

বাজারে সামান্য অস্থিরতা থাকলেও বিভিন্ন সূচক ও পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে—ASIATICLAB–সহ অন্যান্য ভ্যালু শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে। কেন বাড়তে পারে এবং কোন তথ্য সেই সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে—সবকিছু নিয়েই আজকের এই বিশ্লেষণ।

১) শক্তিশালী মূল্যসংশোধন—‘ডিপ–বায়’ সুযোগ তৈরি

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারটির সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৫১.৮০ টাকায়, যা আগের দিনের তুলনায় ১.১৫% কম।

গত—

৩০ দিনে মোট পতন: ১০%,

১৫ দিনে: ৭%,

৩ মাসে: প্রায় ৪%।

অর্থাৎ শেয়ারটি টানা একটি স্বাস্থ্যকর সংশোধনের মধ্য দিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিকে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা “ডিপ–বায় জোন” হিসেবে বিবেচনা করেন—যখন শেয়ারের মূল্য তার প্রকৃত ফান্ডামেন্টাল ভ্যালুর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে আসে।

শেয়ারটির ৫২–সপ্তাহের সর্বোচ্চ ছিল ৬৫ টাকা; বর্তমান মূল্য তার তুলনায় প্রায় ২০% কম।

ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বাভাবিক মনস্তত্ত্ব তৈরি হয়—

“আগে না কিনলেও সমস্যা নেই, এখন তো সস্তা—একটু কিনে রাখা যায়।”

এ কারণে রোববার ক্রয়চাপ বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।

২) ছয় মাস ও এক বছরের অসাধারণ গ্রোথ ট্রেন্ড

স্বল্পমেয়াদে সংশোধন থাকলেও মধ্য–দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স এখনো শক্তিশালী—

৬ মাসে বৃদ্ধি: +৫২%,

১ বছরে বৃদ্ধি: +৬৬%।

এটি প্রমাণ করে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি দুর্বল নয়, বরং প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল। তাই সংশোধনের পর স্বাভাবিকভাবেই রিবাউন্ডের প্রত্যাশা তৈরি হয়।

৩) দৃঢ় ফান্ডামেন্টাল—P/E, EPS ও NAV বিনিয়োগ–বান্ধব

ডিএসইর তথ্য:

P/E Ratio: ১০.৪৪ → ফার্মা সেক্টরে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য,

EPS (শেষ ৪ কোয়ার্টার): ৪.৯৬ → আয়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি,

NAV প্রতি শেয়ার: ৫৫.৩৩ টাকা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—

বর্তমান দাম NAV–এর নিচে, অর্থাৎ কোম্পানিটি অবমূল্যায়িত অবস্থানে রয়েছে। NAV–এর নিচে থাকা শেয়ার সাধারণত দ্রুত বিনিয়োগকারীদের নজরে আসে।

৪) ইপিএস–এর ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

EPS–এর সাম্প্রতিক ডেটা:

Q1–২০২৫: ১.২৪

Q3–২০২৫: ০.৭৫

EPS বৃদ্ধি মানে কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে ভালো ব্যবসা করছে—যা ভবিষ্যৎ আয়, ক্যাশ ফ্লো ও লভ্যাংশ সম্ভাবনা শক্তিশালী করে। বাজার খোলার পর এমন তথ্য ক্রয়চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৫) শক্তিশালী লেনদেন—লিকুইডিটি সক্রিয়

ভলিউম: ৫,৮৫,৩৭৬ শেয়ার,

উচ্চ লিকুইডিটি মানে শেয়ারটি কেনা–বেচা সহজ—যা বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আস্থা দেয়।

৬) শেয়ারহোল্ডিং প্যাটার্ন—পাবলিক শেয়ার বৃদ্ধি

পাবলিক শেয়ার বৃদ্ধি: +০.৩৩%,

ইনস্টিটিউশনাল কমেছে: −০.৩৩%,

পরিচালক: ৪০.৭১%।

পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং বৃদ্ধি সাধারণত বাড়তি চাহিদার ইঙ্গিত দেয়—যা বাজারে ইতিবাচক সেন্টিমেন্ট তৈরি করে।

৭) সার্কিট লো–এর কাছে অবস্থান—রিভার্সালের সম্ভাবনা বেশি

সার্কিট লো: ৪৭.২০

বর্তমান মূল্য: ৫১.৮০

অর্থাৎ শেয়ারটি নিচের সীমার কাছাকাছি। বিনিয়োগকারীদের ধারণা—এ অবস্থান থেকে শেয়ার খুব বেশি নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে “বটম–ফিশিং” প্রবণতা সক্রিয় হয়।

৮) ওভারসোল্ড রেঞ্জ—টেকনিক্যাল রিবাউন্ড সম্ভাবনা

৩০ দিনে ১০% ও ১৫ দিনে ৭% পতনের ফলে RSI ও MACD–এর মতো সূচকে ওভারসোল্ড সিগন্যাল দেখা যাচ্ছে। টেকনিক্যাল ট্রেডাররা সাধারণত এমন অবস্থায় নতুন এন্ট্রি নেন—যা রোববার ক্রয়চাপ বাড়াতে পারে।

৯) সেক্টরাল সাপোর্ট—ফার্মা সেক্টরের স্থিতিশীলতা

ASIATICLAB ফার্মাসিউটিক্যালস সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত—বাংলাদেশের সবচেয়ে স্থিতিশীল ও লাভজনক সেক্টরগুলোর একটি। অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগকারীরা এই সেক্টরকে নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচনা করেন।

১০) সপ্তাহান্তের আগের বিশ্লেষণ—রোববার বাড়তে পারে ক্রয়চাপ

সাপ্তাহিক ছুটির সময়ে বিনিয়োগকারীরা—

ডেটা বিশ্লেষণ করেন,

গ্লোবাল মার্কেট পর্যবেক্ষণ করেন,

পরবর্তী সপ্তাহের পরিকল্পনা ঠিক করেন।

এই সময়ে ভ্যালু–পিক শেয়ারগুলো তাদের নজরে পড়ে। ASIATICLAB–এর বর্তমান দাম সস্তা হওয়ায় রোববার সকাল থেকেই ক্রয়কিউ দেখা যেতে পারে।

চূড়ান্ত বিশ্লেষণ: রোববার উত্থানের সম্ভাবনা শক্তিশালী

ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে—

NAV–এর নিচে → অবমূল্যায়িত,

EPS বাড়ছে → শক্তিশালী আয়,

লেনদেন সক্রিয় → ভালো লিকুইডিটি,

৬ মাস–১ বছরের গ্রোথ → স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি,

সেক্টর শক্তিশালী → ফার্মা Safe Zone,

টানা সংশোধন → ডিপ–বায় জোন,

টেকনিক্যাল ওভারসোল্ড → রিবাউন্ড সম্ভাবনা,

পাবলিক শেয়ার বৃদ্ধি → চাহিদা বাড়ছে।

➡ সব মিলিয়ে, আগামীকাল রোববার ASIATICLAB–সহ বেশ কয়েকটি ফান্ডামেন্টাল শেয়ারের দামে শক্তিশালী উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

➡ বাজার সার্বিকভাবে সবুজ থাকলে স্বল্পমেয়াদে ২–৪% পর্যন্ত রিবাউন্ড দেখা যেতে পারে।

img

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ০৮:৪৭, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, যেখানে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামেনি, তাই আপাতত নীতি শিথিল করার সুযোগ নেই।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

মুদ্রানীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে যা ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিলো। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিত ২০ শতাংশ। গত মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর নাগাদ সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

আগামী জুন নাগাদ ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ ধরা হয়েছে। আর মুদ্রা সরবরাহ গত ডিসেম্বর নাগাদ ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকলেও অর্জিত হয় ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগামী জুনে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে  ৪৩০ কোটি ডলার কেনায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাজারে দিয়েছে। যে কারণে মুদ্রা সরবরাহ বাড়তির দিকে রয়েছে।

গভর্নর বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। গভর্নর হিসেবে এই সরকারের সময়ে পরিচালনাগত দিক দিয়ে তিনি স্বাধীনতা ভোগ করেছেন।  কোনো চাপ অনুভব করেননি। তবে তার আক্ষেপ রয়ে গেলো কয়েকটি আইন না হওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ব্যাংক কোম্পানি আইন, অর্থ ঋণ আদালত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা হয়নি। এই সরকারের সময়ে এটা হওয়া দরকার ছিলো। অবশ্য এ সময়ে যা হয়েছে তা কম না।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব সরকারই চায় স্বল্প মেয়াদি অর্থনীতিকে বুস্ট করতে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা থাকা দরকার। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিনেন্সে বিভিন্ন সংশোধনীর চেষ্টা করা হয়েছিল। আগামী সরকারের শুরু থেকেই এটা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

পরবর্তী সরকারের সময়ে সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে না পারলে দায়িত্বপালন করবেন কিনা জানতে চাইলে হেসে উঠে গভর্নর বলেন, ‘এটা তখন বোঝা যাবে। ব্রিজের কাছে গিয়ে বলা যাবে ব্রিজ পার হবো কিনা। যে সরকারি আসুক আর্থিক খাতের শৃংখলা রক্ষা কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতির ভঙ্গি প্রকাশ করে। যেখানে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রা সরবরাহ কেমন রাখা হবে, তার একটি ধারণা দেওয়া হয়। আর মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো-কমানোর অন্যতম টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয় নীতি সুদহার। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই মাসে তিন দফায় ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয় নীতি সুদহার। ওই বছরের নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পরের মাস থেকে কমতে কমতে গত অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নামে। সেখান থেকে টানা তিন মাস বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ হয়েছে।

মুদ্রানীতি ঘোষণার শুরুতে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার আসলে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা বাড়বে। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে সংস্থাটির সব ধরনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর