img

ক্ষমা চেয়েও পদত্যাগের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

প্রকাশিত :  ০৯:০২, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১১, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ক্ষমা চেয়েও পদত্যাগের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে ম্যান্ডেলসন বিতর্ক এবং এর জেরে একের পর এক জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের পদত্যাগের ঘটনায় সৃষ্ট নৈরাজ্যের মধ্যে স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ থেকেই যাচ্ছে। অবশ্য পদত্যাগের এসব দাবি নাকচ করেছেন স্টারমার। সোমবার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ার।

সোমবার তড়িঘড়ি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান, যা ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের নেতৃত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সিনিয়র এই লেবার রাজনীতিবিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার এবং ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা প্রয়োজন।’

সারওয়ার জানান, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে ‘অসংখ্য ভুল’ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে একজন ‘ভদ্রলোক’ হিসেবে অভিহিত করলেও সারওয়ারের মতে, স্টারমার আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির জয়ের সম্ভাবনা নস্যাৎ করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখন দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখা উচিত।

জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে তাঁকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এরপর ওই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেন তাঁর চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি। এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার পরও ২০২৪ সালে ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় ম্যাকসুইনির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক বেড়ে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে চাপের মুখে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন স্টারমারের শীর্ষ উপদেষ্টা ম্যাকসুইনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা জানার পরও তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। কেবল ম্যাকসুইনিই নয়, স্টারমারের যোগাযোগ প্রধান টিম অ্যালানও পদত্যাগ করেছেন। ম্যাকসুইনির পদত্যাগের এক দিন পরই অ্যালান পদত্যাগ করেন। সূত্র : দ্য মিরর

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

পদত্যাগ করতে প্রস্তুত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

প্রকাশিত :  ১০:১৯, ১৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৩, ১৭ মে ২০২৬

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। এমনটাই নাকি তিনি জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ মহলকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে রাজি আছেন, তবে তিনি তা ‘নিজের শর্তে’ করতে চান।

সূত্রটি জানায়, তিনি বুঝতে পারছেন বর্তমান পরিস্থিতির বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন টেকসই নয়। তবে তিনি মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো সময়েই সরে দাঁড়াতে চান। এ জন্য তিনি একটি সময়সূচি ঘোষণা করবেন। 

সংকটে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার

ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে বর্তমানে সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার।  পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফল—সব মিলিয়ে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

সবশেষ ধাক্কা আসে স্টারমার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে।

শনিবার স্ট্রিটিং জানান, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রার্থিতা তুলে ধরবেন।

ভাষণে তিনি স্টারমারকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি ‘সময়সূচি নির্ধারণ’র আহ্বানও জানান।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তাও দ্রুত কমছে। জরিপ সংস্থা ইউগোভের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক লেবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “অসন্তুষ্ট” মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

ইউগভ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অনেকেই তার অবস্থার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র ৪৯ দিনের শাসনামলের তুলনা করছেন।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর