img

বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা

প্রকাশিত :  ১৪:১৩, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা

ব্রিটেনের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্দো-প্যাসিফিক সীমা মালহোত্রা ঢাকায় আসছেন সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)।

আজ রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের এক নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রমতে, সীমা মালহোত্রা সোমবার বিকেল ৫টায় ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। এসময় প্রয়োজনীয় প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নেবেন। সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নেবেন। বিকেল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভা সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে সীমা মালহোত্রাও উপস্থিত থাকবেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে জানায়, সীমা মালোথ্রা বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা এবং নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এই সাক্ষাতের সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি। সাক্ষাৎ হলে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সীমা মালহোত্রা একজন ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির সদস্য। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে লেবার পার্টির নির্বাচনী বিজয়ের পর তিনি প্রথমে হোম অফিসে পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসে ইন্দো-প্যাসিফিকবিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল যুক্তরাজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে এশিয়া-প্যাসিফিক দেশসমূহ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বাংলাদেশের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। সীমা মালোথ্রা এই অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নীতি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করেন। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উন্নয়ন সহায়তায় দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

এই সফরের মাধ্যমে সীমা মালহোত্রা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি আস্থার প্রতীক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। মঙ্গলবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হতে ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশসহ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও সার্কভুক্ত দেশগুলো।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

পদত্যাগ করতে প্রস্তুত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

প্রকাশিত :  ১০:১৯, ১৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৩, ১৭ মে ২০২৬

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। এমনটাই নাকি তিনি জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ মহলকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে রাজি আছেন, তবে তিনি তা ‘নিজের শর্তে’ করতে চান।

সূত্রটি জানায়, তিনি বুঝতে পারছেন বর্তমান পরিস্থিতির বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন টেকসই নয়। তবে তিনি মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো সময়েই সরে দাঁড়াতে চান। এ জন্য তিনি একটি সময়সূচি ঘোষণা করবেন। 

সংকটে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার

ভোটারদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে বর্তমানে সংকটে পড়েছে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার।  পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ এবং শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক, স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফল—সব মিলিয়ে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

সবশেষ ধাক্কা আসে স্টারমার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মাধ্যমে।

শনিবার স্ট্রিটিং জানান, ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজের প্রার্থিতা তুলে ধরবেন।

ভাষণে তিনি স্টারমারকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর জন্য একটি ‘সময়সূচি নির্ধারণ’র আহ্বানও জানান।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তাও দ্রুত কমছে। জরিপ সংস্থা ইউগোভের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক লেবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “অসন্তুষ্ট” মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

ইউগভ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে স্টারমার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। অনেকেই তার অবস্থার সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রুসের মাত্র ৪৯ দিনের শাসনামলের তুলনা করছেন।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর