img

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠালো যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত :  ০৪:১৯, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠালো যুক্তরাজ্য

ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাতারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। কাতারের দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কাতার সরকারের আমন্ত্রণে পাঠানো এসব টাইফুন যুদ্ধবিমান যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট নম্বর ১২ স্কোয়াড্রনের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এই অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, যৌথ স্কোয়াড্রনের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা উভয় দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে।
\r\nএদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বহন করছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে রণতরীটি। এর সঙ্গে রয়েছে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ অতিরিক্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামও অঞ্চলটিতে পাঠানো হচ্ছে।

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি’ হিসেবে ইরানের দিকে এই ‘নৌবহর’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলেও জানা গেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
\r\nপ্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র দ্য ন্যাশনালকে জানিয়েছে, এই সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রটি আরও জানায়, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুধু আশ্বাসমূলক নয়, বরং ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।
\r\nটাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো আগে সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে এবং গত বছর ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার কাতারে এই মোতায়েনকে ‘প্রতিরক্ষামূলক ও সহযোগিতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা যুক্তরাজ্য–কাতার প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে।
\r\nএদিকে ইরান আগেও আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এই ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা একে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।
\r\nউল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে অতিরিক্ত ‘কন্টিনজেন্সি সাপোর্ট’ পাঠিয়েছিল, যাতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও নিরাপত্তা সহায়তার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল যুক্তরাজ্য।
\r\nপ্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে উন্নত রাডার আপগ্রেড পাচ্ছে, যা এগুলোর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াবে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:৫৬, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৩৮, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাব কমানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যুক্তরাজ্য বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। 

আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

স্টারমার বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা হওয়া উচিত এবং হরমুজ প্রণালি খোলা থাকা উচিত। এই নীতির ভিত্তিতে দেশগুলোর একটি জোট গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, এটি আমাদের সবার স্বার্থে জরুরি। কারণ ইরানের যুদ্ধ যা ঘটছে, তা আমাদের প্রত্যেকের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এ কারণেই দেশগুলো একত্রিত হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ দরকার, সরবরাহ ও অর্থনৈতিক সমন্বয় দরকার, পাশাপাশি কিছু সামরিক পরিকল্পনাও প্রয়োজন। আজ আমরা সেটিই করতে একত্র হচ্ছি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার বিকেলে স্টারমার ও ম্যাকরন প্রায় ৪০টি দেশের ভার্চুয়াল বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকের লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ পুনরুদ্ধারে বহুপাক্ষিক মিশন গঠন করা।

 


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর