এপস্টেইনের কাছে সরকারি তথ্য পাচার, যুক্তরাজ্যে তদন্ত শুরু
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদ্য পদত্যাগ করা নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সরকার। অভিযোগ উঠেছে, ম্যান্ডেলসন দেশটির বাজার ব্যবস্থা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য জেফরি এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন।
পিটার ম্যান্ডেলসন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন। কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের নথিতে তাঁর নাম আসায় গত বছর দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়। ২০০৯ সালে গর্ডন ব্রাউনের সরকারে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ওই সময় এপস্টেইনের কাছে বিভিন্ন তথ্য পাচার করেন ম্যান্ডেলসন।
গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ সরকার জানায়, ম্যান্ডেলসন বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে এপস্টাইনকে যে ইমেইলগুলো পাঠিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলো পর্যালোচনার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নথিগুলোর প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেগুলোতে ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দা সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাজার সংবেদনশীল তথ্য ছিল।
নথি পাওয়ার পর মেট্রোপলিটন পুলিশ ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি পদে অসদাচরণের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ম্যান্ডেলসনের কাছে থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বিবিসি জানতে পেরেছে, ম্যান্ডেলসনের অবস্থান হলো- তিনি কোনো অপরাধমূলক কাজ করেননি। কোনো আর্থিক লাভের আশায় প্ররোচিতও হননি।
এপস্টেইনের দ্বারা ভুক্তভোগীদের কাছে গত জানুয়ারিতে ক্ষমা চেয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন। গত সোমবার একটি ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এপস্টাইনের অ্যাকাউন্টে ম্যান্ডেলসন ৭৫ হাজার ডলার স্থানান্তর করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন নথির একটি ছবিতে টি-শার্ট ও অন্তর্বাস পরা নারীর পাশে ম্যান্ডেলসনকে দেখা গেছে। ওই নারীর মুখের অংশ মার্কিন কর্তৃপক্ষ অস্পষ্ট করে দিয়েছে।
এ নিয়ে ম্যান্ডেলসন বিবিসিকে বলেছিলেন, তিনি ওই নারীকে চিনতে পারছেন না। জায়গাটি কোথায় তাও শনাক্ত করতে পারছেন না।



















