img

এপস্টেইনের কাছে সরকারি তথ্য পাচার, যুক্তরাজ্যে তদন্ত শুরু

প্রকাশিত :  ০৮:৪৮, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এপস্টেইনের কাছে সরকারি তথ্য পাচার, যুক্তরাজ্যে তদন্ত শুরু

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদ্য পদত্যাগ করা নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সরকার। অভিযোগ উঠেছে, ম্যান্ডেলসন দেশটির বাজার ব্যবস্থা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য জেফরি এপস্টেইনের কাছে পাচার করেছিলেন।

পিটার ম্যান্ডেলসন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ছিলেন। কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের নথিতে তাঁর নাম আসায় গত বছর দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়। ২০০৯ সালে গর্ডন ব্রাউনের সরকারে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ওই সময় এপস্টেইনের কাছে বিভিন্ন তথ্য পাচার করেন ম্যান্ডেলসন। 

গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ সরকার জানায়, ম্যান্ডেলসন বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে এপস্টাইনকে যে ইমেইলগুলো পাঠিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলো পর্যালোচনার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নথিগুলোর প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সেগুলোতে ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দা সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাজার সংবেদনশীল তথ্য ছিল।

নথি পাওয়ার পর মেট্রোপলিটন পুলিশ ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি পদে অসদাচরণের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ম্যান্ডেলসনের কাছে থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বিবিসি জানতে পেরেছে, ম্যান্ডেলসনের অবস্থান হলো- তিনি কোনো অপরাধমূলক কাজ করেননি। কোনো আর্থিক লাভের আশায় প্ররোচিতও হননি।

এপস্টেইনের দ্বারা ভুক্তভোগীদের কাছে গত জানুয়ারিতে ক্ষমা চেয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন। গত সোমবার একটি ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এপস্টাইনের অ্যাকাউন্টে ম্যান্ডেলসন ৭৫ হাজার ডলার স্থানান্তর করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন নথির একটি ছবিতে টি-শার্ট ও অন্তর্বাস পরা নারীর পাশে ম্যান্ডেলসনকে দেখা গেছে। ওই নারীর মুখের অংশ মার্কিন কর্তৃপক্ষ অস্পষ্ট করে দিয়েছে। 

এ নিয়ে ম্যান্ডেলসন বিবিসিকে বলেছিলেন, তিনি ওই নারীকে চিনতে পারছেন না। জায়গাটি কোথায় তাও শনাক্ত করতে পারছেন না।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ক্ষমা চেয়েও পদত্যাগের চাপে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

প্রকাশিত :  ০৯:০২, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১১, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে ম্যান্ডেলসন বিতর্ক এবং এর জেরে একের পর এক জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের পদত্যাগের ঘটনায় সৃষ্ট নৈরাজ্যের মধ্যে স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ থেকেই যাচ্ছে। অবশ্য পদত্যাগের এসব দাবি নাকচ করেছেন স্টারমার। সোমবার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ার।

সোমবার তড়িঘড়ি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান, যা ডাউনিং স্ট্রিটে স্টারমারের নেতৃত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সিনিয়র এই লেবার রাজনীতিবিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার এবং ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসা প্রয়োজন।’

সারওয়ার জানান, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে ‘অসংখ্য ভুল’ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে একজন ‘ভদ্রলোক’ হিসেবে অভিহিত করলেও সারওয়ারের মতে, স্টারমার আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির জয়ের সম্ভাবনা নস্যাৎ করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখন দেশের স্বার্থ সবার আগে দেখা উচিত।

জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে তাঁকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আগেই ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এরপর ওই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেন তাঁর চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি। এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার পরও ২০২৪ সালে ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ঘটনায় ম্যাকসুইনির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক বেড়ে চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে চাপের মুখে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন স্টারমারের শীর্ষ উপদেষ্টা ম্যাকসুইনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের বন্ধুত্বের কথা জানার পরও তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। কেবল ম্যাকসুইনিই নয়, স্টারমারের যোগাযোগ প্রধান টিম অ্যালানও পদত্যাগ করেছেন। ম্যাকসুইনির পদত্যাগের এক দিন পরই অ্যালান পদত্যাগ করেন। সূত্র : দ্য মিরর

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর