img

লন্ডনে পাকিস্তান দূতাবাসে ভারতীয়দের হামলা

প্রকাশিত :  ১০:২৮, ২৭ এপ্রিল ২০২৫

লন্ডনে পাকিস্তান দূতাবাসে ভারতীয়দের হামলা

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে পাকিস্তানি হাইকমিশনে হামলা হয়েছে। রোববার (২৭ এপ্রিল) এ তথ্য জানায় জিওটিভি নিউজ।

লন্ডন থেকে মুর্তজা আলী শাহ জানান, লন্ডনে পাকিস্তানি হাইকমিশনে হামলা হয়েছে। ভারতীয়দের হামলায় দূতাবাসের জানালার কাচ ভেঙে যায়। এ ছাড়া ভবনের সাদা দেয়াল এবং হাইকমিশন ভবনের ফলকে গেরুয়া রঙ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

এর একদিন আগে দূতাবাসের বাইরে শত শত ভারতীয় বিক্ষোভ করে। সে সময় সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছিল স্থানীয় পুলিশ।

এদিকে লন্ডনে পাকিস্তানি হাইকমিশনের বাইরে পাকিস্তানের সমর্থনে পাল্টা সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ থেকে ভারতের দোষারোপের কূটনীতির প্রতি নিন্দা জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাশ্মীরের পেহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ পর্যটক নিহত হয়েছেন। ভারত এ হামলার পেছনে আন্তঃসীমান্ত সংযোগের অভিযোগ করেছে। এ ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অন্তত ৭টি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। এতে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দূতাবাসে হামলার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান আত্মরক্ষায় সক্ষম। পূর্ণ প্রস্তুতিতে আছে দেশটির সেনারা। সেনাপ্রধান অসিম মুনির এমন দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমির (পিএমএ) পাসিং আউট প্যারেডে দেওয়া ভাষণে অসিম মুনির সেনা প্রস্তুতি ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আত্মরক্ষার জন্য পাকিস্তানের প্রস্তুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। দেশের স্থিতিস্থাপকতা এবং শক্তি তার ইতিহাস ও ত্যাগের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত।

তিনি বলেন, দ্বি-জাতি তত্ত্ব মুসলিম এবং হিন্দুদের মধ্যে পার্থক্যকে নির্দেশ করে। যা পাকিস্তানের পরিচয় এবং অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।

জেনারেল মুনির উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের পূর্বপুরুষরা একটি পৃথক মুসলিম পরিচয়ের বিশ্বাসের দ্বারা দেশ গঠনের জন্য অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেন, পাকিস্তানের জনগণ তাদের মাতৃভূমি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ। দেশকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতিতে অটল সেনারা। পাকিস্তান যে কোনো বহিরাগত হুমকির মুখোমুখি হতে সক্ষম।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করতে পারে না : যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে কোনোভাবেই ‘জিম্মি’ অবস্থায় রাখতে পারে না।

\r\n

এদিকে, জাতিসংঘের মাধ্যমে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, যুক্তরাজ্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের সমর্থক। ইরানকে অবশ্যই আঞ্চলিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যাবে না।

তিনি বলেন, ইরান প্রণালিকে জিম্মি করে রাখতে পারে না। তারা জাহাজে হামলা করতে পারে না, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের নিশানা করতে পারে না এবং পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করতে পারে না। তবে আমরা অবশ্যই কূটনৈতিক সমাধান চাই। আমরা চাই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং ধারাবাহিক।

সংকট সমাধানে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত আছে এবং যুক্তরাজ্য এতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ তারা প্রণালীটি পুনরায় খুলতে চায়। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করাকে লন্ডন ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রধান অগ্রাধিকার।

স্টিফেন ডাউটি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি, আমাদের অর্থনীতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের জন্য এই প্রণালী পুনরায় খোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন বজায় রাখতে যুক্তরাজ্য ফ্রান্স ও বাহরাইনসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে প্রণালিতে মুক্ত ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার থাকবে। এ নৌপথে কোনো শুল্ক বা নিরাপত্তা হুমকি চলবে না। নৌচলাচলের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য বর্তমানে প্রায় ৯০টি দেশের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। এ জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা ও সামরিক-রাজনৈতিক সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর