img

জরিপের রাজনীতি

প্রকাশিত :  ১৬:৫২, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

জরিপের রাজনীতি

সাইফুল খান 

জরিপ আজ কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি ক্ষমতা–নীতিনির্ধারণ–জনমত নির্মাণের এক নীরব প্রযুক্তি। মানুষের ধারণা, রাজনৈতিক আবহ, ভোটার আচরণ, এমনকি আন্তর্জাতিক কূটনীতিক বার্তা সবকিছুতেই জরিপ হয়ে উঠেছে একধরনের “অদৃশ্য ভাষা”। এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে স্পন্সরশিপ, রাজনৈতিক স্বার্থ, প্রশ্ন তৈরির কাঠামোগত প্রতারণা এবং “জনগণ যা ভাবছে” এর কৃত্রিম নির্মাণ। ফলে জরিপ অনেক সময় সত্যের প্রতিবিম্ব নয়, বরং সত্যকে নিয়ন্ত্রণের শিল্প।

জরিপের রাজনৈতিক ভিত্তি: জনমত কি আদৌ ‘জনতার’?

২০শ শতকের রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ওয়াল্টার লিপম্যান তাঁর ক্ল্যাসিক বই Public Opinion (1922)-এ বলেন জনগণের মতামত বাস্তবতার উপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বরং অভিপ্রায়, প্রচারণা, প্রভাব ও তথ্যপ্রবাহের ওপর দাঁড়ায়। লিপম্যান এটাকে বলেন “pictures in our heads” মাথার ভেতর তৈরি হওয়া কল্পিত বাস্তবতা। জরিপ সেই কল্পিত বাস্তবতাকে সংখ্যার ছকে পরিণত করে, এবং জনগণ ভুলভাবে ধরে নেয় “এটাই সত্য।”

একই ভাবনার বিস্তৃত রূপ পাওয়া যায় Noam Chomsky ও Edward S. Herman–এর Manufacturing Consent (1988)বইয়ে। এখানে দেখানো হয়েছে গণমাধ্যম, কর্পোরেট শক্তি ও রাজনৈতিক ক্ষমতা এমনভাবে তথ্য বেছে নেয় যে জনমত মূলত উৎপাদিত (manufactured)। জরিপ সেই উৎপাদনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার কারণ এটি বিজ্ঞানের মুখোশ পরে থাকে।

সামাজিক জরিপের রাজনীতি বিশ্লেষণ করেছেন Pierre Bourdieu, তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ Public Opinion Does Not Exist (1973)-এ। বোর্দিও দেখিয়েছেন, জরিপ প্রশ্ন বানানোর সময়ই একটি “সম্ভাব্য মতামত” তৈরি করে দেওয়া হয়।স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে বাস্তব সমাজকে সংকুচিত করা হয় এবং প্রতিবেদন লেখার সময় তা রাজনৈতিক অর্থ পায়। তাঁর মূল বক্তব্য: “জরিপ জনমত মাপে না বরং জনমতকে বানায়।”

অধুনিক গবেষণায় জরিপকে বলা হয় “opinion technology” মতামত গঠনের প্রযুক্তি। এর ভেতরে স্পন্সরের অর্থ, মিডিয়ার ভাষা, রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল এবং মনস্তত্ত্ব মিলেমিশে বিশেষ ধরনের “সত্য” তৈরি করে।

জরিপে প্রতারণার চারটি প্রধান স্তর

১. স্যাম্পলিং প্রতারণা

নির্দিষ্ট এলাকা, গোষ্ঠী, বয়স বা শ্রেণিকে অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়। গ্রামীণ ভোটার বাদ রেখে শহুরে জনগোষ্ঠী বেশি নিলে সরকারবিরোধী “মুড” বেশি দেখাবে। অনলাইন জরিপে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের মতামতই বেশি উঠে আসে, যা গরিবদের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না।

২. প্রশ্নের ভাষায় রাজনৈতিক ফাঁদ

প্রশ্ন যদি হয় “আপনি কি মনে করেন দেশে দুর্নীতি বেড়েছে?” উত্তর নির্দিষ্ট দিকেই যাবে।

কিন্তু প্রশ্ন যদি হয় “গত ৫ বছরে কোন খাতের উন্নয়ন বেশি চোখে পড়েছে?” তাহলে সরকার সমর্থক ভাবনা উঠে আসবে।নিরীহ প্রশ্নই কখনো কখনো মত গঠনের কৌশল।

৩. স্পন্সরশিপ ও অর্থের রাজনীতি

কর্পোরেট কোম্পানি নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে “জনমত” দেখায়। আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্প বৈধ করতে জরিপ ব্যবহার করে। রাজনৈতিক দল নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে “প্রী-পোল স্টাডি” বানায়। এগুলোই বোর্দিওর ভাষায় “প্রতিষ্ঠানগত মতামত-উৎপাদন”।

৪. ফল প্রকাশের মিডিয়া কৌশল

মিডিয়া সবচেয়ে আলোড়ন তোলা সংখ্যা শিরোনামে রাখে।  “৭০% মানুষ অমুক নেতাকে চান” এই বাক্যটি মানে হয়তো মাত্র ১২০০ জনের মধ্যে ৮৪০ জন। কিন্তু মানুষের মনে এটি দাঁড়িয়ে যায় “দেশের ৭০% জনগণ” হিসেবে। সংখ্যা এভাবেই রাজনৈতিক অস্ত্র হয়।

জরিপ বনাম বাস্তবতা: চাঞ্চল্যকর অমিলের আন্তর্জাতিক উদাহরণ

উদাহরণ ১: ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোট

ব্রিটিশ অধিকাংশ জরিপই দেখাচ্ছিল “Remain” জিতবে। রেফারেন্স: The Guardian Poll Tracker, 2016  কিন্তু বাস্তবে “Leave” জিতে যায়।

কারণ—

ফোনে জরিপে অংশ নেয়া মানুষরা নিজের মতামত গোপন রেখেছিল। সামাজিক চাপে অনেকেই সত্য বলেনি। জরিপ প্রতিষ্ঠানগুলো শহুরে, তরুণ ভোটার বেশি ধরেছিল।

এটি “Shy voter effect” এর এক ক্লাসিক উদাহরণ।

উদাহরণ ২: ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্প বনাম হিলারি

মার্কিন প্রধান জরিপগুলো দেখাচ্ছিল হিলারি ক্লিনটন জিতবেন। রেফারেন্স: Nate Silver, FiveThirtyEight Election Model (2016)

বাস্তবে ট্রাম্প জিতে যায়।

কারণ—

জরিপগুলো ‘working class’ শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের যথেষ্ট অন্তর্ভুক্ত করেনি। ‘Shy Trump voter’ রা বাস্তব মত প্রকাশ করেনি।

মিডিয়া জরিপকে ‘মুড’ তৈরির অস্ত্র বানিয়েছিল।

উদাহরণ ৩: ২০১৯ সালের ভারত নির্বাচন

অনেক আগাম জরিপে বিজেপি কম আসন পাবে বলা হয়েছিল। রেফারেন্স: CSDS-Lokniti Pre-poll Survey, 2019

কিন্তু বাস্তবে বিজেপি একতরফা জয় পায়।

কারণ—

গ্রামীণ হিন্দু ভোটার স্যাম্পলে কম ছিল। অনেক প্রশ্ন সূক্ষ্মভাবে বিজেপি-বিরোধী বর্ণনা তৈরি করেছিল। সামাজিক চাপের কারণে হিন্দুত্ববাদী সমর্থক ভোটার নিজেদের মতামত প্রকাশ করেনি।

উদাহরণ ৪: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “Crime Perception Study”

জরিপে দেখা গেছে ৭৮% আমেরিকান মনে করে “দেশে অপরাধ বাড়ছে।” কিন্তু FBI রিপোর্টে দেখা গেছে অপরাধ ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রেফারেন্স:

– Gallup Crime Survey 2022

– FBI Uniform Crime Reports

এখানে মিডিয়া বর্ণনা জনমতের ওপর এমন প্রভাব ফেলেছে যে বাস্তবতার সম্পূর্ণ উল্টো ধারণা জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জরিপ কেন বাস্তবতার প্রতিফলন নয়, বরং বাস্তবতার নির্মাতা।জরিপকে সাধারণ মানুষ “তথ্য” মনে করলেও বাস্তবে জরিপ হলো একটি রাজনৈতিক ভাষা।

এটি তিনভাবে বাস্তবতা তৈরি করে:

১. Bandwagon Effect

যখন বলা হয় “৬০% মানুষ অমুক নীতিকে সমর্থন করে”। ৫% মানুষও কখনো কখনো সেই দিকে সরে যায়।জরিপ বাস্তবতা নয়, বাস্তবতা নির্মাণের প্রক্রিয়া।

২. Framing Effect

কিভাবে প্রশ্ন করা হলো সেটিই বাস্তবতা নির্ধারণ করে। যদি জিজ্ঞেস করা হয়—

“দেশে দুর্নীতি আছে কি নেই?” দুর্নীতি ‘আছে’ বলা হবে। ফলে মিডিয়া এটি ব্যবহার করে সমালোচনার জোয়ার তৈরি করে।

৩. Authority Effect

সংখ্যা ও গ্রাফ দেখে মানুষ মনে করে “এটা তো বিজ্ঞান”। এভাবে জরিপ সত্যের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। বস্তুত জরিপ একধরনের সফট পাওয়ার, যা নির্বাচনের আগে এবং পরে মানুষের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করে।

একাডেমিক রেফারেন্স

1. Walter Lippmann, Public Opinion, 1922

2. Pierre Bourdieu, “Public Opinion Does Not Exist”, Communication and Class Struggle, 1973

3. Noam Chomsky & Edward S. Herman, Manufacturing Consent, 1988

4. George Gallup, The Pulse of Democracy, 1940

5. Herbert Asher, Polling and the Public: What Every Citizen Should Know, 2017

6. FiveThirtyEight Polling Analysis Archives (Nate Silver)

7. CSDS–Lokniti: National Election Studies

8. Gallup Crime Surveys, various years

9. FBI Uniform Crime Reports

শেষকথা

জরিপকে বোঝা মানে সংখ্যাকে বোঝা নয়। বরং সংখ্যার রাজনীতি বোঝা।কে প্রশ্ন করলো? কারা উত্তর দিল? ফল প্রকাশ করলো কারা? কাদের স্বার্থ এতে রক্ষা পেল? এগুলো না দেখলে জরিপ দেখতে পাবেন, কিন্তু সত্য দেখতে পারবেন না।

জরিপ হলো আধুনিক বিশ্বের এক নীরব ক্ষমতা, যা সংখ্যার নামে মানুষের মনের উপর রাজত্ব করে।


লেখক- ইতিহাস, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক।

মতামত এর আরও খবর

img

পুঁজিবাজারের প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনতে একজন 'হিরো'র প্রয়োজন

প্রকাশিত :  ১৯:৪৬, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৮, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​সম্পাদকীয়

​পুঁজিবাজার আসলে শুধু সূচক, লেনদেন কিংবা কিছু সংখ্যার সমষ্টি নয়। এর ভেতরে জড়িয়ে থাকে লাখো বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশা, সঞ্চয়, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। একটি প্রাণবন্ত বাজার গড়ে তুলতে হলে দরকার এমন কিছু মানুষ, যাঁদের চিন্তা, সময় ও আগ্রহ গভীরভাবে এই বাজারকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।

​এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে পুঁজিবাজারের বহুল আলোচিত নাম আবুল খায়ের, বাজারে যিনি পরিচিত 'হিরো' নামে। তাঁকে নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে, বিতর্কও থাকতে পারে; তবে একটি সত্য অস্বীকারের উপায় নেই, বাজারের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও সক্রিয় উপস্থিতি আলোচনায় একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

​এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো, একজন সক্রিয় বাজারসংশ্লিষ্ট মানুষকে আমরা আসলে কোন দৃষ্টিতে দেখছি? তাঁকে দূরে ঠেলে রাখার সংস্কৃতি কি বাজারকে সত্যিই শক্তিশালী করবে, নাকি নিয়মকানুনের সীমার মধ্যে থেকে তাঁর মতো সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের শক্তিকে কাজে লাগানোই বেশি ফলদায়ক হবে?

​সক্রিয় বিনিয়োগকারী যত বাড়ে, বাজার নিয়ে আলোচনা যত জমে ওঠে, কোম্পানির মৌলভিত্তি নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণে আগ্রহ যত বাড়ে, বাজারও ততই প্রাণবন্ত হওয়ার সুযোগ পায়। কেউ যদি প্রতিদিন বাজার নিয়ে ভাবেন, কোম্পানির পারফরম্যান্স অনুসরণ করেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করেন, তাহলে মূল আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত, সেই আগ্রহকে কীভাবে গঠনমূলক দিকে চালিত করা যায়।

​আমরা মনে করি, কোনো সক্রিয় অংশগ্রহণকারীকে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের মাপকাঠিতে নয়, বরং বাজারের নিয়ম, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার কাঠামোর ভেতরেই মূল্যায়ন করা উচিত। নিয়ম হবে সবার জন্য সমান; কিন্তু যাঁরা সেই নিয়ম মেনে বাজারে সক্রিয় থাকেন, তাঁদের অবদানও স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

​আবুল খায়েরকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও বাজারসংশ্লিষ্ট অনেকেই তাঁর সক্রিয়তার কথা জানেন। একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব কাউকে ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করা নয়, বরং যেকোনো ইতিবাচক দিক তুলে ধরা এবং বাজারের স্বার্থে জরুরি প্রশ্নগুলো সামনে আনা।

​এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিবেদন বা সম্পাদকীয়তে কারও ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরা মানেই এই নয় যে তার বিনিময়ে কোনো সুবিধা নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা দাঁড়িয়ে থাকে স্বাধীনতা, দায়িত্বশীলতা এবং তথ্যনির্ভরতার ওপর। আমাদের অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিবেদনেও এই নীতি সমানভাবে অনুসৃত হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বা বাণিজ্যিক সম্পর্ককে সংবাদ বা সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।

​বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে আমরা সবসময় অগ্রাধিকার দিই। কারণ শক্তিশালী পুঁজিবাজার মানে শুধু কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে যাওয়া নয়; এর অর্থ বাজারে আস্থা তৈরি হওয়া, অংশগ্রহণ বাড়া, ভালো কোম্পানির যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগসংস্কৃতি গড়ে ওঠা।

​এই প্রেক্ষাপটে আবুল খায়েরের মতো সক্রিয় অংশগ্রহণকারীর ভূমিকা নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। তাঁর উপস্থিতি নিয়ে কারও ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁকে ঘিরে যে আগ্রহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও সমীচীন নয়।

​বাজারে প্রাণ ফেরাতে দরকার আস্থা, স্বচ্ছতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ। দরকার এমন একটি পরিবেশ, যেখানে বিনিয়োগকারী নির্দ্বিধায় মত প্রকাশ করতে পারেন, বাজার নিয়ে ভাবতে পারেন এবং নিয়ম মেনে অংশ নিতে পারেন। কাউকে অকারণে দমিয়ে রাখার বদলে নিয়মের ভেতরে থেকে ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগানোই হতে পারে একটি পরিণত পুঁজিবাজারের বৈশিষ্ট্য।

​কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে কেন এত কথা? উত্তরটা সহজ, ভালো কিছু চোখে পড়লে সেটি ভালো বলাই স্বাভাবিক। যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাজারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখেন, তাঁদের সেই দিক আলোচনায় আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

​আজকের পুঁজিবাজারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আস্থা। বিনিয়োগকারীরা চান প্রাণবন্ত, স্বচ্ছ ও সুযোগসমৃদ্ধ একটি বাজার, যেখানে ভালো কোম্পানি প্রাপ্য মূল্যায়ন পায়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী উৎসাহ পান এবং ইতিবাচক অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ে।

​তাই মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত কে বাজারে আছেন, তা নয়; বরং বাজারকে আরও কার্যকর করার উপায় কী, সেটিই।

​আবুল খায়ের যদি সত্যিই দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজার নিয়ে ভাবেন, কাজ করেন এবং সক্রিয় থাকেন, তবে তাঁর সেই আগ্রহকে বাজারের ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ আছে কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা দরকার।

​কারণ পুঁজিবাজারকে প্রাণবন্ত করতে শুধু নীতিমালাই যথেষ্ট নয়; দরকার মানুষ, দরকার অংশগ্রহণ, দরকার আস্থা, আর দরকার বাজারকে ভালোবাসে এমন সক্রিয় মানুষ।

​হিরো নিছক একজন ব্যক্তি। কিন্তু তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা আমাদের একটি বড় প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। আমরা কি সক্রিয় বাজার অংশগ্রহণকারীদের দূরে সরিয়ে রাখব, নাকি নিয়মের কাঠামোর ভেতরে রেখে তাঁদের ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগাব?

​শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব একটি পুঁজিবাজার গড়তে দ্বিতীয় পথটিই বিবেচনার যোগ্য।