img

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রগতি: কারণ ও বাস্তবতা

প্রকাশিত :  ০৭:০০, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:১৩, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রগতি: কারণ ও বাস্তবতা

কামরুল হাসান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর বর্তমানে একাধিক স্তরের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতির পাশাপাশি শাসনব্যবস্থা, বিরোধী রাজনীতির কার্যকারিতা, জনআস্থার সংকট এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ভোটার আচরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সক্রিয়তা এবং সম্ভাব্য অগ্রগতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্রথমত, বিরোধী রাজনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা জামায়াতের জন্য তুলনামূলক সুযোগ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান বিরোধী দল সাংগঠনিকভাবে চাপে রয়েছে—মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম সীমিত, নেতৃত্ব বিকেন্দ্রীকরণ দুর্বল এবং আন্দোলনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে ধারাবাহিকতার অভাব স্পষ্ট। ফলে সরকারবিরোধী ভোটের একটি অংশ এখন ঐতিহ্যগত বিরোধী দলের বাইরে বিকল্প শক্তির সন্ধান করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই “ভোট ট্রান্সফার স্পেস” জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার ক্ষেত্র।

দ্বিতীয়ত, জামায়াতের সংগঠন কাঠামো ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি তাদের শক্তির জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়। দলটি দীর্ঘ সময় সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকলেও তাদের ছাত্র, সামাজিক ও ধর্মীয় নেটওয়ার্ক পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়নি। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদকেন্দ্রিক সামাজিক পরিসর এবং পেশাজীবী পর্যায়ে তাদের প্রভাব রাজনৈতিক বিশ্লেষণে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সংগঠন কাঠামো নির্বাচনের সময় দ্রুত সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা তৈরি করে।

তৃতীয়ত, সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনমনের অনিশ্চয়তা জামায়াতের রাজনৈতিক ভাষ্যের সঙ্গে আংশিকভাবে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দুর্নীতিবিরোধী অসন্তোষ সমাজের একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করছে। এসব ইস্যুতে জামায়াতে ইসলামী নৈতিকতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের কথা তুলে ধরছে, যা বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও ধর্মপ্রবণ ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে সাড়া ফেলতে পারে।

চতুর্থত, দলের কৌশলগত ভাষা ও ইমেজ রি-ব্র্যান্ডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জামায়াত সরাসরি রাষ্ট্রক্ষমতা বা কঠোর আদর্শিক ভাষার পরিবর্তে মানবাধিকার, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্যে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের লক্ষ্য করে ডিজিটাল কনটেন্ট, আলোচনা সভা ও নাগরিক ভাষ্য ব্যবহারের প্রবণতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এই সম্ভাবনার পাশাপাশি গভীর রাজনৈতিক ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত ঐতিহাসিক বিতর্ক, যুদ্ধাপরাধ বিচারের উত্তরাধিকার, সংবিধানিক ও আইনগত প্রশ্ন এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের অভাব—এসব বিষয় এখনো জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে বড় বাধা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের রাজনীতির ওপর নজর এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা—এই বিষয়গুলোও দলটির ভবিষ্যৎ অগ্রগতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

এছাড়া এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, নির্বাচনের চরিত্র ও অংশগ্রহণের মাত্রা যেকোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কেন্দ্রে রয়েছে। নির্বাচন যদি প্রতিযোগিতামূলক, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হয়, তাহলে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট হবে। অন্যথায় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক দলের রাজনৈতিক অগ্রগতি সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামী কিছু কৌশলগত সুবিধা ও সামাজিক সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের অতীতের অবস্থানের তুলনায় দৃশ্যমান। তবে এই অগ্রসরতা এখনো সম্ভাবনার স্তরে রয়েছে। বাস্তব রাজনৈতিক সাফল্য নির্ভর করবে ভোটার আচরণ, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি বাস্তবতা এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।

কামরুল হাসান: পলিটিকাল করেসপন্ডেন্ট, বিবিটি
img

উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত :  ১০:৩১, ০২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৭, ০২ মে ২০২৬

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ

ঢাকা, ২ মে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতি এবং উত্তাল বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক সংকট নতুন এই প্রশাসনের সামনে এক পর্বতসম চ্যালেঞ্জ দাঁড় করিয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা এবং আগামীকালের পুঁজিবাজারের গতিপথ নিয়ে একটি নিবিড় বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

সামষ্টিক অর্থনীতি: ভঙ্গুর উত্তরণের রূপরেখা

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে এক অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাত্র ৩.৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ধাক্কা কাটিয়ে সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এই যাত্রার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগের স্থবিরতা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ প্রাক্কলন করলেও বিশ্বব্যাংক কিছুটা রক্ষণশীল অবস্থান নিয়ে ৩.৯ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির মাত্র ২২.৪৮ শতাংশে নেমে আসা এবং ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট এই বিনিয়োগ মন্দাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

সাধারণ মানুষের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো জীবনযাত্রার অসহনীয় ব্যয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮.৭১ শতাংশে দাঁড়ালেও এটি সাধারণ ভোক্তাদের জন্য খুব বেশি স্বস্তি বয়ে আনে নি। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.২৪ শতাংশে নামলেও অ-খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.০৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে, যা পরিবহন, গৃহায়ণ ও পরিষেবা খাতের উচ্চমূল্যকে নির্দেশ করে। আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। যেখানে ভারত (২.৭%) ও শ্রীলঙ্কা (০.৬%) তাদের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো ৯ শতাংশের কাছাকাছি সীমায় আটকে আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় হ্রাস পেয়েছে, কারণ মজুরি বৃদ্ধির হার (৮.০৯%) এখনো জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে।

তবে সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যতম স্বস্তির জায়গা হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ ৩৫.১১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় এবং মার্চ মাসে তা ৩৪.১২ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ মার্চ মাসে ৩.৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় বহিঃখাতের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে। মুদ্রার বিনিময় হার প্রতি ডলারে ১২২.৬২ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের 'ক্রলিং পেগ' পদ্ধতির সুফল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিএনপি সরকারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে যখন দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো এক বিশাল সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের সূচনা করেছিল, তা এগিয়ে নেওয়া ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই এই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা এবং গুমসংক্রান্ত অপরাধের সংজ্ঞাসংবলিত ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ তামাদি বা বাতিল হয়ে যাওয়া নিয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার একে আইনি অসংগতি দূর করার প্রক্রিয়া বললেও প্রধান বিরোধী দলগুলো একে গণতান্ত্রিক সংস্কারের পরিপন্থী হিসেবে অভিহিত করেছে।

রাজনৈতিক মেরুকরণের পাশাপাশি দেশের ব্যাংকিং খাতের ক্ষত এখনো অত্যন্ত গভীর। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬.৪ ট্রিলিয়ন টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৫.৭৩ শতাংশ। খেলাপি ঋণ আদায় ও ব্যাংকিং সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব হবে না, যা সরাসরি জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করবে।

১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও সাফল্য

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ৩৭ হাজার ৮১৪টি নিম্ন আয়ের পরিবারকে মাসিকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য 'ফার্মার কার্ড' এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া শিক্ষাখাতে 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' এবং ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াই-ফাই নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে। তবে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে থাকায় (মার্চে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬২.৯ শতাংশ অর্জিত) এই বিপুল ব্যয়ের সংস্থান করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক চাপের কালো মেঘ

২০২৬ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই সংকটের কারণে শিল্পকারখানাগুলোতে প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যা তৈরি পোশাক রপ্তানিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সরকার জ্বালানি ভর্তুকি বাবদ মার্চ মাসে এক মাসেই ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে, যা বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এ বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণ করবে। এই উত্তরণের পর বাংলাদেশ বর্তমানে প্রাপ্ত প্রায় ৭০ শতাংশ রপ্তানি সুবিধা হারাবে। নতুন সরকারকে অতি দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জিএসপি+ বা সমজাতীয় চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে; অন্যথায় টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারাবে।

আগামীকাল রোববার (৩ মে ২০২৬) পুঁজিবাজারের পূর্বাভাস

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘকাল ধরেই বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে ভুগছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর বাজার নিম্নমুখী ছিল। আগামীকাল ৩ মে ২০২৬, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরু হবে। গত ৩০ এপ্রিল ডিএসই ব্রড ইনডেক্স ৫,২৮৬.৮৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

আগামীকালের বাজার মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। প্রথমত, গত সপ্তাহের শেষ দিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা সংগ্রহের (প্রফিট বুকিং) যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা আগামীকালও অব্যাহত থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ১০ শতাংশের উপরে থাকায় বড় বিনিয়োগকারীরা ইক্যুইটি বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তৃতীয়ত, জ্বালানি সংকটের খবর এবং লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা উৎপাদনমুখী বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সেক্টরভিত্তিক সম্ভাবনা ও পূর্বাভাস:

ব্যাংকিং খাতে যমুনা ব্যাংক বা ব্র্যাক ব্যাংকের ভালো লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে এই খাতটি স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি সংকটের কারণে সিমেন্ট ও টেক্সটাইল খাতের শেয়ারগুলো চাপে থাকতে পারে। আগামীকালের সেশনে বাজার ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনা সতর্কাবস্থায় (কশাস মোড) থাকবে। দিনের শেষে সূচক ২০ থেকে ৩০ পয়েন্টের সংশোধনী (কারেকশন) দেখতে পারে এবং লেনদেনের পরিমাণ ৭০০ থেকে ৮৫০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসই সূচকটি চলতি প্রান্তিকের শেষে ৭,২৩৪ পয়েন্টের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোলেও স্বল্পমেয়াদী অস্থিরতা কাটতে সময় লাগবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হলো, পেনাল্টি শেয়ার এড়িয়ে শক্তিশালী মৌলভিত্তিসম্পন্ন ডিভিডেন্ড-পেওয়ারি শেয়ারে নজর দেওয়া।

বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ক্রান্তিকাল পার করছে। নতুন সরকারের সংস্কার পদক্ষেপ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে আসার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর টেকসই উন্নয়ন।

মতামত এর আরও খবর