img

কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও এক নীতিবান অফিসারের উপাখ্যান

প্রকাশিত :  ১৯:৪০, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০৩, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও এক নীতিবান অফিসারের উপাখ্যান

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ

সংকট থেকে উত্তরণ: এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে সেনাবাহিনীর ভূমিকা

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে কেবল একটি সাধারণ নির্বাচনের দিন ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির গভীর ক্ষত থেকে উত্তরণের এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনী ও তার নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থার চূড়ান্ত পরীক্ষা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভূখণ্ডে বিগত দেড় দশকের অস্থিরতা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামল শেষে এই নির্বাচনটি ছিল এক কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক। এই পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি তাঁর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন এবং পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

“আমি কথা দিচ্ছি, সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে”—তাঁর এই বলিষ্ঠ প্রতিশ্রুতি আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সামরিক-বেসামরিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিজেকে কেবল একজন দক্ষ সেনাপতি হিসেবেই নয়, বরং একজন নীতিবান ও আদর্শিক অফিসার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সুগম করেছে।

১. ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ ও স্থিতিশীলতার পথে যাত্রা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সাক্ষী হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এক ব্যাপক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। সেই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়, তখন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সেনাবাহিনী নিজ জনগণের ওপর গুলি চালাবে না। এই একটি ঘোষণা কেবল হাজার হাজার প্রাণ বাঁচায়নি, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হস্তান্তরের পথকেও সুগম করেছিল।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়েছে। সেই সময়েই সেনাপ্রধান ঘোষণা করেছিলেন যে, নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে না দেওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেই সুদূরপ্রসারী প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন।

২. নীতিবান নেতৃত্বের অনন্য উদাহরণ

একটি দেশের সেনাবাহিনী প্রধান যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকেন, তখন তা সেই বাহিনীর পেশাদারিত্বের শ্রেষ্ঠ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শুরু থেকেই নিজেকে একজন নীতিবান অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে যে, সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি তাঁর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এবং জনগণের প্রতি মানবিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সেনাপ্রধানের চরিত্রের আরেকটি বলিষ্ঠ দিক ছিল অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের যদি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকে বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চলা বিভিন্ন অপপ্রচারের বিপরীতে তিনি ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, যারা এসব করছে তারা “আমাদের সন্তানের মতো”। এই ধরনের সহনশীলতা ও পিতৃসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

৩. ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা ছিল নির্বাচন কমিশনের জন্য এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য এবং প্রথমবারের মতো সংসদীয় ভোটের সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের ওপর একটি জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই জটিল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সেনাপ্রধানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এক নিবিড় নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছিল।

এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ সেনাসদস্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সারা দেশে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। নির্বাচনের আগে থেকেই সেনাপ্রধান দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস সফর করে প্রস্তুতি তদারকি করেন। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও ঢাকার বিভিন্ন সেনাক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন—নাগরিকবান্ধব আচরণ বজায় রেখে যেন একটি শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা হয়।

রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোতে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সেনাপ্রধানের কড়া নির্দেশ ছিল, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে যেন তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর টহল দলগুলো (পেট্রোলিং ফোর্স) যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে মাত্র পাঁচ-সাত মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে, যা ভোটারদের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।

৪. জনআস্থা ও সাফল্যের প্রতিফলন

জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে সেনাবাহিনীর গ্রহণযোগ্যতা বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সেনাপ্রধানের নির্দেশনায় পূর্ণ আস্থা রাখেন। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, সেনাবাহিনী তার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, কারণ সেনাপ্রধান নিজে একজন নীতিবান অফিসার হিসেবে বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ সুসংহত রেখেছেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনী এখন ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেনাপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত অতিরিক্ত এই দায়িত্ব পালন শেষ হবে এবং তারা পুনরায় পেশাদার প্রশিক্ষণ ও দেশের প্রতিরক্ষায় পূর্ণ মনোনিবেশ করবে।

৫. এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কেবল একটি বাহিনীর প্রধান হিসেবে নয়, বরং একজন সংকট উত্তরণকারী নেতা হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, যখন একটি প্রতিষ্ঠান জাতীয় স্বার্থকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখে, তখন তা জাতির ত্রাণকর্তা হতে পারে। সঠিক সময়ে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়ার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন।

তাঁর এই নীতিবান নেতৃত্ব ও সার্বিক সহযোগিতা কেবল বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক কর্মকর্তাদের জন্যও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; বরং এটি ছিল বন্দুকের নলের পরিবর্তে জনগণের রায়কে প্রতিষ্ঠিত করার এক সাহসী সংগ্রাম, যার সফল প্রহরী ছিলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

মতামত এর আরও খবর

img

দুর্ভোগে অতিষ্ঠ আমি, আমার এই প্যাঁচাল

প্রকাশিত :  ০৬:৩৬, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

আবদুল হামিদ মাহবুব

পৃথিবী সব সময়ই অস্থির। কোথাও না কোথাও কিছু একটা ঘটতেই থাকে। আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনী কি শোনা যাচ্ছে? আগাম কেউই কিছু বলতে পারবেনা, হুট করে কখন কি ঘটে যাবে।ওইসব বড় বড় মাথাদের বিষয়। একজন সাধারন মানুষ হিসাবে আমার সমস্যা, আমার কাছে বড় বিষয়। হয়তো দেশের অন্য কোন নাগরিক, তার কাছে তার নিজের সমস্যা আমার সমস্যা থেকেও আরো অনেক বড় মনে হতে পারে। আমি লিখতে পারি, তাই সেটা প্রকাশ করি। সেই সমস্যাগ্রস্ত নাগরিক হয়তো লিখার অভ্যাস গড়ে তুলেননি। সে কারণে তার সমস্যাটা চাপা পড়ে থাকে। আমার কথাগুলো পাঠক সাধারণের ভালো নাও লাগতে পারে। কিন্তু পাঠকের সামনে প্রকাশ করতে না পারলে আমার ভেতর অস্বস্তিক কাজ করবে। তাই এই প্যাঁচাল লিখছি। 

আমার পাঠক জানেন, আমি মফস্বলের বাসিন্দা।আগে মৌলভীবাজার পৌরসভার ভিতরেই নিজেদের বাসায় বসবাস করতাম। কিন্তু বর্ষায় জলাবদ্ধতার সমস্যার কারণে প্রায় আড়াই বছর হলো শহরের লাগোয়া পাহাড়ি এলাকায় বাসা নিয়ে চলে এসেছি।শহরের কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সবুজের কাছাকাছি থাকায় মন ফুরফুরে থাকে ঠিকই। কিন্তু এতদিন শহরে থাকায় সেই প্রিয় শহরের কথা ভুলতে পারিনা। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও, অন্তত সপ্তাহে একদিন শহরের সাথে যোগাযোগ রাখতে চেষ্টা করি।

মাসের প্রথম দিন ব্যাংকে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। যাওয়ার পথে আমাদের পৌরসভায় (মৌলভীবাজার পৌরসভা) ঢুকলাম। চার মাস আগে গিয়ে একবার বলে এসেছিলাম, মৌলভীবাজার সরকারি মহাবিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশ হয়ে যাওয়া সড়কখানার বেহাল দশার কথা। এই সড়ক বড়বাড়ি হয়ে সোনাপুর পর্যন্ত পৌরসভার অংশ। কয়েক বছর ধরে এই সড়কে কোন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হচ্ছে না। আমি সহ এলাকায় বসবাস করা অনেক সরকারি কর্মকর্তা ওই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করেন। আর কেউ বেহাল দশা দেখেন কিনা আমি জানিনা! এই সড়ক দিয়ে যেতে যেতে পড়েছে কমলগঞ্জ উপজেলায় কালেঙ্গা। সেই কালেঙ্গায় প্রায় ৪০ সহস্র মানুষের বসবাস। বেশির ভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ। সবাইকে এই সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রতিদিন সিএনজি চলে কয়েকশত। বাস ট্রাকও চলে। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার, রহিমপুর, শমশেরনগর, পতনউষার এই ইউনিয়ন গুলোর কিছু অংশের মানুষ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের বাইপাস হিসাবে এই সড়ক ব্যবহার করেন। একজন পীর সাহেবের মাজার আছে কালেঙ্গায়। সেই মাজারে প্রতিদিন দেশের দূরদূরান্ত থেকে লোক আসেন বড় বড় কোচ (বাস) ভাড়া করে। এই সড়ক নিয়ে স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) ও পৌরসভার মধ্যে টানা-হেচড়া ছিল দীর্ঘদিন। আমি নিজেও খুঁজে পাচ্ছিলাম না এই সড়কের মূল মালিক কারা?

পূর্বে একবার এই সড়কের কাজ করিয়েছে মৌলভীবাজার পৌরসভা। আরেকবার এই সড়কে কাজ করায় স্থানীয় সরকার অর্থাৎ এলজিইডি। খোঁজখবর নিয়ে জেনেছিলাম দুই কর্তৃপক্ষই তখন কাজ করিয়েছিল তাদের তহবিলের খরচ দেখানোর জন্য। হায়রে লুটপাট! বিপত্তি এখান থেকেই শুরু হয়।

সেই চার মাস আগে গিয়ে জানতে পেরেছিলাম পৌরসভা এলজিইডির সাথে একটা সমোঝতা  করতে পেরেছে। তারাই এখন সড়কের উন্নয়নের কাজ করাবে। এর জন্য পাঁচ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আজও যখন গিয়ে কথা বললাম, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী সেই পুরনো বয়ান শোনালেন। এখনো প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসেনি, তাই কিছু করতে পারছেন না। মধ্যে কিছু ইট দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছিল। অত্যধিক ভারী গাড়ির চাকায় পীষ্ঠ হতে হতে সেই সব ইটের অস্তিত্ব প্রায় শেষ হয়ে গেছে। পুরো রাস্তা বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটেও চলতে পারবে কিনা আমার সন্দেহ আছে! বর্ষার আগে সড়কটি আদৌ মেরামত হবে কিনা এই এলাকার মানুষ সন্দিহান। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা প্রশাসন-সহ (পৌর প্রশাসক) কর্তৃপক্ষ এই সড়কের প্রতি সুনজর দেবেন এটাই কাম্য। ইতোমধ্যে আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সম্মানিত সংসদ সদস্যদেরও পেয়েগেছি। এই সড়কের অংশ পড়েছে সংসদীয় আসন মৌলভীবাজার-৩ ও মৌলভীবাজার-৪-এ। দুই আসনের সংসদ সদস্য উদ্যোমী ব্যক্তি। আমি দুজনকেই ভালো ভাবে জানি। এই লেখা তাদের নজরে গেলে নিশ্চয় সুদৃষ্টি দেবেন। এই সুযোগে আমি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান ও মুজিবুর রহমান চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সাফল্য কমনা করছি।

সড়কের কথা বললাম। এখন বলি মৌলভীবাজার পৌরসভার প্রাণ প্রবাহ যার মাধ্যমে রক্ষা হয় সেই \'কোদালিছড়ার\' কথা। গত ক\'মাস ধরে \'কোদালিছড়া\'য়ও স্রোত নেই। ছড়ার পুরো পানি বদ্ধ হয়ে আছে। ময়লা আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কারণ এই ছড়ার ভাটিতে পাঁচটি স্থানে বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে। কৃষকরা \'কোদালিছড়া\'র পানি দিয়ে বোরো চাষের জন্য এইসব বাঁধ দিয়েছেন। বৃষ্টি নেমে গেছে যদিও; পুরোদমে বর্ষা নামার আগে এই বাঁধগুলো পুরো কেটে না দিলে পৌর শহরের অধিকাংশ এলাকার ঘরবাড়ি প্লাবিত হতে পারে। গত বছরও এমন হয়েছিলো।

এই বাঁধগুলো অপসারণের বিষয়েও পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললাম। কিন্তু জানলাম যেটা, সেটা হচ্ছে; বাঁধ তো পৌরসভার ভেতরে নয়, সেগুলো পড়েছে মোস্তফাপুর ও গিয়াসনগর ইউনিয়নে। এখানে পৌর কর্তৃপক্ষের কিছু করণীয় নেই। তা হলে বাঁধ অপসারণ কে করবে এখন? বর্ষার বৃষ্টি নামার আগে এইসব বাঁধ অপসারিত না হলে শহরের সৈয়ারপুর, ফাটাবিল, গীর্জাপাড়া, আরামবাগ, কলিমাবাদ, কাঁজিরগাও, বেরিরচর,গোবিন্দশ্রী, ধরকাপন, চৌমুহনা, পশ্চিমবাজার, এলাকার মানুষের কপালে দুর্ভোগ আছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসাবে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন, একসময়ে জনপ্রিয় ছাত্র নেতা মৌলভীবাজার সরকারি মহাবিদ্যালয়ের নির্বাচিত ভিপি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমার খুবই প্রিয়জন মিজানুর রহমান মিজান। উনাকে এবিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ করছি। কোদালিছড়ার পানি প্রবাহ ঠিক না করলে তিনিও শহরের যে এলাকায় বসবাস করেন সে এলাকার মানুষও দুর্ভোগে পড়বে।

গত বছর বৃষ্টির জমাট পানিতে তলিয়ে অনেক দোকান মালিকের লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছিল। অনেক বাসা বাড়ির আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড়, বইপত্র, জরুরী কাগজ বিনষ্ট হয়েছে। এবারও কি তাহলে সেই অবস্থাই হবে? সময় থাকতে সংশ্লিষ্টরা সজাগ হন। আমার এই লেখা পড়ে কেউ কেউ হয়তো ক্ষুব্ধ হবে, কেউ কেউ গালিও দেবেন। বলবেন বর্ষার খবর নেই, এখন কেনো এসব লেখা?

পৌরসভা থেকে বের হয়ে ব্যাংকের কাজ সেরে হাঁটতে হাঁটতে চৌমহনা পর্যন্ত গিয়েছিলাম। সেখানে দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি নুরুল ইসলামকে পেলাম। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতা বিভাগে লেখাপড়া করা মানুষ। মফস্বলে থেকে সাংবাদিকতাই করছে। তার সাথে ছিল ডেইলি স্টারের মিন্টু দেশোয়াল। তাদেরকেও জানিয়ে আসলাম এই সমস্যার কথা। মিন্টু তার স্বভাব সুলভ হাঃ হাঃ করে হাসি দিয়েই গেল। বললাম খোঁজখবর নিয়ে নিউজ করার জন্য। করবে কিনা জানিনা! অবশ্য তাদের সাথে আমার আরো অনেক প্রসঙ্গে কথা হয়েছে। রাজনীতিসহ আমার ইদানিংকালের লেখালেখির ধরনধারণ বাদ যায়নি।

দীপ্ত টিভির তরুণ এক সাংবাদিকের সাথেও পরিচয় হলো। সিনিয়র হিসেবে তাকেও কিছু \'ছবক\' দিলাম। বললাম বাবার টাকা পয়সা থাকলে সাংবাদিকতা পেশায় থাকো, না হয় অন্য কিছু করার চিন্তা মাথায় রাখো। চাঁদাবাজ সাংবাদিক হয়ো না। সে অবশ্য জানিয়েছে, সরকারি চাকরির চেষ্টায় আছে। শুনে আমার ভালো লাগলো।

দুর্ভোগে অতিষ্ঠ আমি। তাই আমার এই প্যাঁচাল। এটা কারো ভালো লাগার কথা নয়। তাই এখানেই থামি। ধৈর্য নিয়ে যারা পড়বেন, সবাই ভালো থাকবেন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যিক। সাবেক সভাপতি: মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব। সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘গণমাধ্যম সাংবাদিকতা দেশ দশের আমার কথা’।

মতামত এর আরও খবর