img

জ্বালানি সংকট: মালয়েশিয়ায় চালু হচ্ছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

প্রকাশিত :  ০৮:৫৪, ০২ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকট: মালয়েশিয়ায় চালু হচ্ছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘোষণা দিয়েছেন, এ মাস (এপ্রিল) থেকেই সরকারি কর্মীরা ঘরে বসে কাজ শুরু করবেন। খবর রয়টার্স।

আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই নীতি কার্যকর হবে। এর আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা এবং রাষ্ট্র-সংযুক্ত কোম্পানির কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং শক্তি সরবরাহের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি জানান, এই নীতির বিস্তারিত শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রোনাসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এ ছাড়া, জ্বালানি সংকট নিয়ে অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে জ্বালানি ভর্তুকি দিতে, যাতে সাধারণ মানুষের জন্য খুচরা জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

অন্যদিকে, দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভর্তুকিবিহীন ডিজেলের দাম টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো বেড়েছে। তবে আরওএন৯৭ পেট্রোলসহ কিছু জ্বালানির দাম সামান্য কমেছে।

img

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় বলে অনেকেই মনে করেন । কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেক মানুষ সকালে উঠে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ঘুমের অভাবের কারণে নয়; বরং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীর নির্দিষ্ট সময় ঘুমালেও সেই ঘুম যথেষ্ট গভীর বা পুনরুদ্ধারকারী হয় না। ফলে সকালে উঠলেও শরীর সতেজ লাগে না, বরং মন ভারী ও ধীর মনে হয়।

এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি কেবল ঘুমের পরিবেশে নয়, বরং শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

থাইরয়েডের সমস্যা

ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি সঠিকভাবে কাজ করে না এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে সারাদিন শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে এবং ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণা বলছে, এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সমস্যায় পড়ে। ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও কখনও ঘুমের মধ্যেই সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেশি থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং তা শরীরকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার দিতে পারে না। এর প্রভাব সকালে শক্তি ও সতেজতার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।