সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা

img

লন্ডনে সর্বোচ্চ সতর্কতা: মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে দূতাবাসের জরুরি বিধিনিষেধ

প্রকাশিত :  ১৬:২০, ০২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৫৫, ০২ মে ২০২৬

লন্ডনে সর্বোচ্চ সতর্কতা: মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে দূতাবাসের জরুরি বিধিনিষেধ

যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় দেশটিতে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে ‘সিভিয়ার’ বা ‘তীব্র’ ঘোষণা করার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫-এর মতে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বড় কোনো হামলার আশঙ্কা “অত্যন্ত প্রবল”।

গত শুক্রবার এক নিরাপত্তা বার্তায় মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের স্কুল, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং জনাকীর্ণ পর্যটন এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একইসাথে গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোতে চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন এবং যাতায়াতের রুট পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ব্রিটিশ ‘জয়েন্ট টেররিজম অ্যানালাইসিস সেন্টার’ হুমকির মাত্রা ‘সাবস্ট্যানশিয়াল’ থেকে বাড়িয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধাপ ‘সিভিয়ার’-এ উন্নীত করেছে। গত বুধবার লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ইহুদি ব্যক্তিদের ওপর ছুরিকাঘাত এবং গত সপ্তাহে উত্তর লন্ডনের কয়েকটি সিনাগগে হামলার ঘটনার পর এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে উগ্র ইসলামপন্থী এবং চরম দক্ষিণপন্থী—উভয় গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেই নাশকতার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে ইহুদি ও ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমেরিকান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো এখন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করেছে এবং নাগরিকদের সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা 

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করতে পারে না : যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে কোনোভাবেই ‘জিম্মি’ অবস্থায় রাখতে পারে না।

\r\n

এদিকে, জাতিসংঘের মাধ্যমে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, যুক্তরাজ্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের সমর্থক। ইরানকে অবশ্যই আঞ্চলিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যাবে না।

তিনি বলেন, ইরান প্রণালিকে জিম্মি করে রাখতে পারে না। তারা জাহাজে হামলা করতে পারে না, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের নিশানা করতে পারে না এবং পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করতে পারে না। তবে আমরা অবশ্যই কূটনৈতিক সমাধান চাই। আমরা চাই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং ধারাবাহিক।

সংকট সমাধানে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত আছে এবং যুক্তরাজ্য এতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ তারা প্রণালীটি পুনরায় খুলতে চায়। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করাকে লন্ডন ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রধান অগ্রাধিকার।

স্টিফেন ডাউটি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি, আমাদের অর্থনীতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের জন্য এই প্রণালী পুনরায় খোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন বজায় রাখতে যুক্তরাজ্য ফ্রান্স ও বাহরাইনসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে প্রণালিতে মুক্ত ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার থাকবে। এ নৌপথে কোনো শুল্ক বা নিরাপত্তা হুমকি চলবে না। নৌচলাচলের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য বর্তমানে প্রায় ৯০টি দেশের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। এ জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা ও সামরিক-রাজনৈতিক সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর