img

‘কিং’-এর জন্য রোমান্টিক নাচের দৃশ্যের শুটিং করলেন শাহরুখ খান ও দীপিকা পাডুকোন

প্রকাশিত :  ১৭:২৭, ০৭ মে ২০২৬

‘কিং’-এর জন্য রোমান্টিক নাচের দৃশ্যের শুটিং করলেন শাহরুখ খান ও দীপিকা পাডুকোন

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান ও দীপিকা পাডুকোন মেট গালায় উপস্থিত না থাকলেও, তাদের আসন্ন ছবি ‘কিং’-এর একটি গানের দৃশ্যের শুটিং করতে সমুদ্রসৈকতে গিয়ে তারা অনলাইনে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্প্রতিক কয়েকটি ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতে রোমান্টিক আবহে গান ও নাচের দৃশ্যের শুটিং করছেন শাহরুখ ও দীপিকা। ভাইরাল হওয়া দৃশ্যগুলোতে দুজনকে হালকা ও সাদামাটা রঙের পোশাকে দেখা যায়। সোনালি সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর পটভূমিতে একে অপরের দিকে হেঁটে আসছেন তারা, এরপর কোরিওগ্রাফির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোমান্টিক নাচে অংশ নিচ্ছেন।

ভিডিওতে আরো দেখা যায়, একটি দৃশ্য নিখুঁতভাবে ধারণ করতে শাহরুখ ও দীপিকাকে দুই-তিনবার একই নাচের স্টেপ করতে হয়েছে। মাঝে মাঝে নাচ থামিয়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে গিয়ে নতুন করে শট শুরু করতে দেখা যায় তাদের। পুরো দৃশ্যজুড়ে ছিল সিনেমাটিক আবহ ও রোমান্সের ছোঁয়া, যা ভক্তদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুটিংয়ের জন্য সমুদ্রসৈকতের একটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা হলেও কৌতূহলী দর্শকদের ভিড় ঠেকানো যায়নি।

দূর থেকে শুটিং দেখার জন্য অনেক মানুষ জড়ো হন ও তাদের মধ্য থেকেই কেউ কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপর থেকেই ‘কিং’-এর শুটিং নিয়ে আলোচনা শুরু হয় নেটদুনিয়ায়।

জানা গেছে, ছবির শুটিং শুরু করতে গত সপ্তাহেই দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছেছেন শাহরুখ ও দীপিকা। নির্মাতারা ছবির কাজ শুরু করেছেন একটি রোমান্টিক গানের দৃশ্য দিয়েই।

সেট থেকে ফাঁস হওয়া ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ডে একটি গানের অংশও শোনা যায়। নেটিজেনদের ধারণা, সেটি ব্রিটিশ গায়ক এড শিরান-এর কোনো জনপ্রিয় গানের সুর হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে শুটিং সেট থেকে ছবি ও ভিডিও ফাঁস হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছবির পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অনুরোধ জানান, ‘কিং’-এর কোনো ফাঁস হওয়া ছবি বা ভিডিও যেন কেউ শেয়ার না করেন।

তার ভাষায়, পুরো টিম দর্শকদের জন্য সেরা সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করছে ও বড় পর্দার চমক আগেভাগে নষ্ট না করাই ভালো।

উল্লেখ্য, ‘কিং’ ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত বলিউড চলচ্চিত্রগুলোর একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। শাহরুখ ও দীপিকার জনপ্রিয় জুটি এর আগে ‘ওম শান্তি ওম’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ও ‘পাঠান’-এর মতো একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে ছবিটির। একই সময়ে হলিউডের বড় বাজেটের ছবি \'অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে\' ও \'ডুন: পার্ট থ্রি\' মুক্তি পাওয়ায় বক্স অফিসে বড় প্রতিযোগিতার আভাস মিলছে।


img

মেসির রেকর্ড ভেঙে জবাব দিলেন রোনালদো

প্রকাশিত :  ১৯:৪৮, ২৩ জুন ২০২৬

ফুটবলপ্রেমীরা বহু বছর পরও স্মরণ করবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিখ্যাত ‘সিউউউ’ উদযাপনকে। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে লাল রঙে রাঙানো গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের সামনে ৪১ বছর বয়সেও তিনি দুইবার সেই উদযাপন করেছেন। একই সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে গোল করে গড়েছেন অনন্য এক ইতিহাস।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৪১ বছর ১৩৮ দিন বয়সে জোড়া গোল করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সি খেলোয়াড় হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোল করার রেকর্ড গড়লেন রোনালদো। 

মেসির দখলে ছিল এই রেকর্ড। গতকাল রাতেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের ম্যাচে মেসির বয়স ছিল ৩৮ বছর ৩৬৩ দিন।

এ ছাড়া প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ভিন্ন ছয় আসরে গোল করার কীর্তি গড়লেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

২০০৬ বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে একটি, ২০১০ সালে চার ম্যাচে একটি, ২০১৪ সালে তিন ম্যাচে একটি, ২০১৮ সালে চার ম্যাচে চারটি ও ২০২২ সালে পাঁচ ম্যাচে একটি গোল করেন রোনালদো।  

বিশ্বকাপের ভিন্ন পাঁচ আসরে গোল আছে লিওনেল মেসির। এবারের আসরে প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে, মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার হয়ে গেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক (১৮টি)।

হিউস্টনে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচটি ৫-০ গোলে জিতেছে পর্তুগাল। পর্তুগালের হয়ে অন্য দুটি গোল করেন রাফায়েল লিয়াও (৮৭ মিনিট) ও নুনো মেন্দেজের (১৭ মিনিট)। একটি গোল হয়েছে উজবেকিস্তানের গোলকিপার আবদুভোহিদ নেমাতভের আত্মঘাতী গোল।  

জয়ে ফিরে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠল পর্তুগাল। একটি করে ম্যাচ খেলা কলম্বিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ও ডিআর কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে। দুই ম্যাচ খেলে উজবেকিস্তান এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।

পর্তুগালের দিক থেকে এ ম্যাচ একমাত্র আক্ষেপের জায়গা রোনালদোর হ্যাটট্রিক হয়নি। হ্যাটট্রিকের সুযোগ যে পাননি তা নয়, একাধিকবার সুযোগ পেয়েছেন।

৬ ও ৩৯ মিনিটে গোল করেন রোনালদো। রোনালদোর জন্য এই ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের ১–১ গোলে ড্রয়ের ম্যাচে ভীষণ নিষ্প্রভ ছিলেন কিংবদন্তি। চারপাশ থেকে ধেয়ে এসেছিল সমালোচনা। জোড়া গোলে দারুণ জবাব দিলেন পর্তুগিজ এ মহাতারকা। 

রোনালদোই এখন বিশ্বের প্রথম ফুটবলার, যিনি ছয়টি পৃথক বিশ্বকাপ আসরে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। অর্থাৎ, টানা ২০ বছর ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের গোলের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে এটি এক অসাধারণ অর্জন। একই বিশ্বকাপে লিওনেল মেসিও একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। আধুনিক ফুটবলের ইতিহাস যেন এই দুই মহাতারকার হাত ধরেই নতুন করে লেখা হচ্ছে।

প্রথম ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে যারা তার অবসর চেয়ে আসছিলেন, তারা নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। দলের ভেতর থেকেও পূর্ণ সমর্থন না পাওয়ায় তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই চাপের মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করে আসা রোনালদো আবারও জবাব দিয়েছেন মাঠেই।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কঙ্গোর মতো দৃঢ় ছিল না, সেখানে ইতিহাস গড়া এক পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। প্রথম সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারলেও পরবর্তী দুটি সুযোগ আর নষ্ট করেননি। ক্যারিয়ারজুড়ে সমালোচনা ও ব্যর্থতার জবাব মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই দিয়েছেন এই তারকা। ফুটবল ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই আছেন, যারা রোনালদোর মতো এতবার সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে পেরেছেন। 

প্রথম গোলটি আসে ডান প্রান্ত থেকে জোয়াও কানসেলোর নিখুঁত পাস এবং রোনালদোর চমৎকার দৌড় ও ফিনিশিং থেকে। গোলের পর উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। কিছুক্ষণ পর ১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া একটি ফ্রি-কিকে দর্শকরা রোনালদোকেই দেখতে চাইলেও শট নেন নুনো মেন্দেস এবং বল জড়িয়ে দেন জালে। 

তবে উত্তেজনা তখনও থামেনি। অল্প সময়ের মধ্যেই একক প্রচেষ্টায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এতে আবারও উল্লাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। ৪১ বছর বয়সেও যে তিনি গভীর পাসে দৌড়ে পৌঁছাতে পারেন এবং ঠান্ডা মাথায় গোল করতে পারেন, সেটিরই প্রমাণ মিলেছে এই গোলটিতে।

রোনালদোর এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথম ম্যাচের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পর্তুগালকে দেখা গেছে। সেট-পিস থেকেও তারা সফল হয়েছে, যার একটি থেকে আসে দলের চতুর্থ গোল। আরও একটি কৌশলগত আক্রমণ থেকেও সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে উজবেক গোলকিপার নেমাতভের শট রোনালদোর গায়ে লেগে বক্সেই ছিল, বলটি আবারও ধরে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শট নিয়েছিলেন রোনালদো। নেমাতভ দারুণভাবে ঠেকান। নইলে হ্যাটট্রিক হয়ে যেত রোনালদোর।    

দলের অধিনায়কের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ও নেতৃত্ব পর্তুগালের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তিনি আগের মতো আছেন কিনা, কতটা খেলবেন বা কতটা কার্যকর থাকবেন—এসব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে ৪১ বছর বয়সেও ইতিহাস লিখে চলেছেন রোনালদো। তিনি হয়তো বিতর্কের জবাব দিতে মাঠে নামেন না; তিনি খেলেন ইতিহাসে নিজের নাম অমর করে রাখার জন্য।