img

ইরানে এক রাতেই ৯ বার ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

প্রকাশিত :  ১৩:০১, ১৩ মে ২০২৬

ইরানে এক রাতেই ৯ বার ভূমিকম্প, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এক রাতের মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানের পূর্বাঞ্চলে টানা ৯টি মৃদু ভূমিকম্পের ঘটনায় নতুন করে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর আশপাশে জমে থাকা ভূত্বকীয় চাপ ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে তেহরানের পূর্বদিকে পারদিস এলাকায় এসব কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পগুলো সংঘটিত হয়েছে মোশা ফল্টের কাছাকাছি এলাকায়, যা দেশটির অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফল্ট রাজধানী তেহরান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যে ছোট কম্পন হলেও একই রাতে ধারাবাহিকভাবে এতগুলো ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা।

মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, একটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। তবে এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূকম্প বিশেষজ্ঞ মেহদি জারি বলেন, এই কম্পনগুলো ভবিষ্যতের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ শক্তি নির্গমনের ইঙ্গিত কি না, নাকি আরও বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস; তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরানের ঝুঁকি শুধু সক্রিয় ফল্ট লাইনের কারণেই নয়; ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল প্রস্তুতিও পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

তার মতে, তুলনামূলক ছোট ভূমিকম্পও রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ শহরটির অবকাঠামো অনেক জায়গায় দুর্বল এবং অতিরিক্ত যানজট জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে।

প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষের বসবাস তেহরানে। শহরটি উত্তর তেহরান, মোশা ও রে; এই ৩টি বড় সক্রিয় ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

ইরানি বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, তেহরানের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে তা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইরান এখনো ভুলতে পারেনি ২০০৩ সালের বাম ভূমিকম্পের স্মৃতি। সেই দুর্যোগে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

সূত্র : আল জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ইরানে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

প্রকাশিত :  ০৫:৩২, ১৩ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৮, ১৩ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করার কথা বিবেচনা করছে ।

গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে এনবিসি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা পূর্ববর্তী প্রচারাভিযানের শিরোনাম, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিবর্তন করে অপারেশন স্লেজহ্যামার নিয়ে আলোচনা করছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় আকারের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটি শুরু হওয়ার কথা।

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়া এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবারও শুরু হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন নতুন অভিযানের নাম ব্যবহার করলে হোয়াইট হাউস দাবি করতে পারবে যে এটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন’-এর আওতায় আলাদা সামরিক অভিযান। ওই আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতদিন সামরিক অভিযান চালাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেছেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরান গত মাসে শত্রুতা বন্ধ করতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। 

এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো চলছে কারণ, তেহরান পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ‘ন্যূনতম গ্যারান্টি’ পূরণ না করা পর্যন্ত নতুন আলোচনায় জড়িত হতে অস্বীকার করেছে।

 এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধের সমাপ্তি- বিশেষ করে লেবাননে - নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরানের প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করার পরে এটি সামনে এলো।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দেয়, যাকে তেহরান একতরফা বলে সমালোচনা করেছিল। তারপর ইরানের দেওয়া প্রস্তাবকে ওয়াশিংটন অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করে। 

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। 

সূত্র: আনাদোলু


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর