img

ইরান যুদ্ধের মধ্যে নেতানিয়াহুর ‘গোপন সফরের’ বিষয়ে যা বলল আমিরাত

প্রকাশিত :  ০৬:১৫, ১৪ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের মধ্যে নেতানিয়াহুর ‘গোপন সফরের’ বিষয়ে যা বলল আমিরাত

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের মধ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আবুধাবিতে ‘গোপন সফর’ করেছেন বলে তার দপ্তরের দাবি নাকচ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সামরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিকুদ পার্টির এই নেতা সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। 

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (পিএমও) দাবি অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর এই সফরের ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’  হয়েছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের মাধ্যমে ইসরাইল ও আমিরাতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি হয়েছে।

বুধবার রাতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ উল্লেখ করে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত স্পষ্ট জানাচ্ছে যে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আমিরাত সফর কিংবা দেশে কোনো ইসরাইলি সামরিক প্রতিনিধিদল গ্রহণের খবরগুলো সঠিক নয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমিরাত পুনরুল্লেখ করছে যে, ইসরাইলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রকাশ্য এবং তা সুপরিচিত ও দাপ্তরিকভাবে ঘোষিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর কাঠামোর আওতায় পরিচালিত। এর বাইরে অস্বচ্ছ বা অনানুষ্ঠানিক কোনো ব্যবস্থার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের অঘোষিত সফর বা গোপন চুক্তির যে কোনো দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত ২৬ মার্চ নেতানিয়াহু ও শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড) সাক্ষাৎ করেছিলেন। মূলত চলমান যুদ্ধের মধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সমন্বয় করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। নেতানিয়াহুর দপ্তরের করা পোস্টের পর রয়টার্স এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

নেতানিয়াহুর দপ্তরের এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি প্রকাশ করেন যে, ইরান যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিচালনার জন্য ইসরাইল তাদের ‘আয়রন ডোম’ ইন্টারসেপশন সিস্টেমের ব্যাটারি পাঠিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর হামলা এবং আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পালটা হামলা শুরু করে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম দিকেই ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

সূত্র: আলজাজিরা


img

আমিরাত উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, নেয়া হচ্ছে ইরানের দিকে

প্রকাশিত :  ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজ দখল করে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এ তথ্য জানায় ইউকেএমটিও। খবর এএফপির।

ইউকেএমটিও জানায়, ফুজাইরাহ বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৮ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানরত জাহাজটিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে জাহাজটি ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। তবে জাহাজটির নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং এখনো কেউ এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।

ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দুই নেতার আলোচনায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং এর কারণে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। তবে ইউএই কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেই দাবি অস্বীকার করে।

ফুজাইরাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র এবং পারস্য উপসাগরের বাইরে দেশটির প্রধান সমুদ্রবন্দর। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এলাকাটি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।

গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়া জানায় হরমুজে তাদের একটি কার্গো জাহাজে হামলা হয়েছে। কাতার পরবর্তীতে জানায়, আমিরাত থেকে তাদের জলসীমায় জাহাজটি আসছিল। তখন এতে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর