img

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ১৪ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৯, ১৪ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করলো বিজেপি

পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার । এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

গতকাল বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি এবং পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা রাজ্যে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নতুন এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সরকারি পশু চিকিৎসকের যৌথ স্বাক্ষর করা সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই বিধিনিষেধ গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং স্ত্রী ও পুরুষ মহিষসহ সব ধরনের গবাদি পশুর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। 

জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে সনদ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। এ ছাড়া গুরুতর আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে কোনো পশু স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তবেই সেটিকে জবাইয়ের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে।

পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণের বিষয়েও কড়াকড়ি আরোপ করেছে রাজ্য সরকার বিজেপি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো খোলা জায়গায় পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

নিয়মটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করার জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা বা চত্বর পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই নতুন আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা, ছয় মাসের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ছাড়া এই সংক্রান্ত সব ধরনের অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে। 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই এই আমূল পরিবর্তন আনা হলো। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং নতুন সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

img

আমিরাত উপকূল থেকে জাহাজ জব্দ, নেয়া হচ্ছে ইরানের দিকে

প্রকাশিত :  ১৩:১৫, ১৪ মে ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলের কাছে নোঙর করা একটি জাহাজ দখল করে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এ তথ্য জানায় ইউকেএমটিও। খবর এএফপির।

ইউকেএমটিও জানায়, ফুজাইরাহ বন্দরের উত্তর-পূর্বে প্রায় ৩৮ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানরত জাহাজটিতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে জাহাজটি ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। তবে জাহাজটির নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং এখনো কেউ এ ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।

ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দুই নেতার আলোচনায় ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং এর কারণে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। তবে ইউএই কর্তৃপক্ষ দ্রুত সেই দাবি অস্বীকার করে।

ফুজাইরাহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র এবং পারস্য উপসাগরের বাইরে দেশটির প্রধান সমুদ্রবন্দর। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এলাকাটি একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।

গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়া জানায় হরমুজে তাদের একটি কার্গো জাহাজে হামলা হয়েছে। কাতার পরবর্তীতে জানায়, আমিরাত থেকে তাদের জলসীমায় জাহাজটি আসছিল। তখন এতে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর