img

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, আরও সংকটে কিয়ার স্টারমার

প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ১৫ মে ২০২৬

ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, আরও সংকটে কিয়ার স্টারমার

সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের। এবার তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেছেন। কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্টারমারের কাছে লেখা পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং লেখেন, তিনি তার (স্টারমার) নেতৃত্বে আস্থা হারিয়েছেন। সুতরাং সরকারি পদে থাকা তার জন্য আর সম্মানজনক হবে না এবং নীতিগতভাবেও ঠিক হবে না।

পত্রটি এক্সে শেয়ার করেছেন স্ট্রিটিং। এতে তিনি লিখেছেন, এটি স্পষ্ট যে, কিয়ার স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না।

পদত্যাগপত্রে স্ট্রিটিং আরও লেখেন, “যেখানে আমাদের দূরদৃষ্টি দরকার, সেখানে আমাদের আছে শূন্যতা। যেখানে আমাদের দিক নির্দেশনা দরকার, সেখানে আমরা ভেসে চলছি।”

ওয়েস স্ট্রিটিং শিগগিরই লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছেন বলে জল্পনা ডালপালা মেলেছিল আগেই। এর মধ্যেই তার পদত্যাগের খবর এল।

তবে স্ট্রিটিং এখনও স্টারমারকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেননি। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে গেলে স্ট্রিটিংকে অন্তত ৮১ জন এমপি’র সমর্থন জোগাড় করতে হবে।

গত সপ্তাহে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর দল থেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে।

কয়েক ডজন এমপি স্টারমারকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার সকালে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র ২০ মিনিটেরও কম সময় বৈঠক করেন স্ট্রিটিং।

নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির জন্য সরকারের অজনপ্রিয়তাকে দায়ী করে স্ট্রিটিং বলেন, দলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা ‘ভিশন’ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে একটি ‘শূন্যতা’ তৈরি হয়েছে।

স্টারমারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “নেতারা সাধারণত দায়িত্ব নেন, কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় তার বদলে অন্য কাউকে বলির পাঁঠা হতে হচ্ছে।”

দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় যে সাহসী সমাধান প্রয়োজন, বর্তমান সরকার তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও স্ট্রিটিং মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করায় এবং দলীয় এমপি-দের অব্যাহত চাপের মুখে বর্তমানে নিজের প্রধানমন্ত্রিত্ব টেকাতে লড়াই করছেন কিয়ার স্টারমার।






যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

হজযাত্রীদের প্রতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান

প্রকাশিত :  ১৮:২৯, ১৩ মে ২০২৬

জনমত রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যের হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) এবং ন্যাশনাল ট্রাভেল হেলথ নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সেন্টার (NaTHNaC) হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের ভ্রমণের আগে এবং চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় MERS-CoV সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হজ ও ওমরাহর মতো বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতির কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই ভ্রমণকারীদের নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা এবং সাধারণ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। NaTHNaC হজযাত্রীদের জন্য বিস্তারিত স্বাস্থ্য নির্দেশিকা প্রদান করে থাকে, যা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সহায়ক।

MERS-CoV একটি শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস, যা জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এটি সাধারণত প্রাণী, বিশেষ করে উট থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়, তবে মানুষে মানুষেও ছড়াতে পারে। যদিও যুক্তরাজ্য থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ঝুঁকি খুব কম এবং বর্তমানে সৌদি আরবে ভ্রমণের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবুও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। ভ্রমণের সময় বিশেষত খামার, পশুর বাজার বা উটের সংস্পর্শে আসার পর হাত ভালোভাবে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

UKHSA হজযাত্রীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে: নিয়মিত সাবান ও পানি বা অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখা, কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু ব্যবহার করা এবং তা যথাযথভাবে ফেলা, ভিড়পূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনে মাস্ক পরা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগাভাগি না করা। এছাড়া উট বা উটের বর্জ্য থেকে দূরে থাকা, কাঁচা দুধ বা অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা পশু খাদ্য গ্রহণ এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে অবস্থানকালীন বা যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর যদি জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার ১৪ দিনের মধ্যে এই উপসর্গ দেখা দিলে GP বা NHS 111-এ যোগাযোগ করে সাম্প্রতিক ভ্রমণের তথ্য জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

UKHSA-এর MERS-CoV বিষয়ক প্রধান ডা. রিচার্ড পিউলেস্টন বলেন, সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের সময় উট এবং উটজাত পণ্য থেকে দূরে থাকা এবং যথাযথ হাত ও শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

NaTHNaC-এর পরিচালক ডা. দীপ্তি প্যাটেল জানান, হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য যাত্রা শুরু করার আগে স্বাস্থ্যবিধি, টিকা এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। তাদের প্রস্তুতকৃত তথ্যপত্র হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা এবং পরামর্শ প্রদান করে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সকল হজযাত্রীকে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা নিরাপদ, সুস্থ এবং নির্বিঘ্নভাবে তাদের পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।