img

হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে নতুন সুবিধা

প্রকাশিত :  ১০:০৭, ২৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১১, ২৯ জুন ২০২৬

হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে নতুন সুবিধা

আরেকটি নতুন ফিচার নিয়ে কাজ করছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ । এতে স্ট্যাটাস ২৪ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে গেলেও তা ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ব্যবহারকারীদের প্রিয় মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও আর হারিয়ে যাবে না।

হোয়াটসঅ্যাপে বর্তমানে স্ট্যাটাস প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পর সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় এবং আর দেখা যায় না। কিন্তু নতুন ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীরা তাদের পুরোনো স্ট্যাটাস একটি ব্যক্তিগত সংরক্ষণাগারে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ এরই মধ্যে এই ফিচারের পরীক্ষামূলক সংস্করণ কিছু অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করেছে। বিশেষ করে যারা বেটা ভার্সন ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে অনেকে নতুন সুবিধাটি দেখতে পাচ্ছেন।

এই ফিচারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো, স্ট্যাটাস আলাদা করে ডাউনলোড বা সংরক্ষণ করতে হবে না। ব্যবহারকারীর শেয়ার করা স্ট্যাটাস নির্ধারিত সময় শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্কাইভে জমা হবে। পরে ইচ্ছা করলে সেই পুরোনো স্ট্যাটাস আবারও শেয়ার করা যাবে।

গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে হোয়াটসঅ্যাপ। আর্কাইভে রাখা স্ট্যাটাস কেবলমাত্র যিনি পোস্ট করেছেন তিনিই দেখতে পারবেন। অন্য কোনো ব্যবহারকারী, পূর্বে দেখে থাকলেও, সেই স্ট্যাটাস আর দেখতে পারবেন না।

নতুন এই সুবিধা ব্যবহার করতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে গিয়ে স্টোরেজ অ্যান্ড ডাটা বিভাগে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে স্ট্যাটাস আর্কাইভ নামে একটি অপশন পাওয়া যাবে, যা চালু করলে ভবিষ্যতের স্ট্যাটাসগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হবে।

সংরক্ষিত স্ট্যাটাস দেখতে হলে আপডেটস ট্যাবে গিয়ে উপরের তিন ডট মেনুতে ট্যাপ করতে হবে। এরপর স্ট্যাটাস আর্কাইভ অপশনে প্রবেশ করলেই পুরোনো স্ট্যাটাসগুলো দেখা যাবে।

বর্তমানে এই ফিচারটি সীমিতসংখ্যক অ্যান্ড্রয়েড বেটা ব্যবহারকারীর জন্য চালু করা হয়েছে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে চালু হতে পারে। তাই সর্বশেষ আপডেট ইনস্টল করার পরও ফিচারটি না পাওয়া গেলে কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

স্টারলিংক নিয়ে মুখোমুখি মাস্ক-ভারত, পালটাপালটি বার্তা

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর পথে কারা বাধা দিচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ইলন মাস্ক। বুধবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্পেসএক্সের কর্ণধার অভিযোগ করেন, কিছু ‘অলিগার্ক’ বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠী নিজেদের একচেটিয়া ব্যবসায়িক আধিপত্য ধরে রাখতে ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ ঠেকিয়ে দিচ্ছে।

তবে মাস্কের অভিযোগের পরই বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারত সরকার তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলেছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার জন্য ভারতে একটি ‘ন্যায্য ও বৈষম্যহীন’ অনুমোদন কাঠামো রয়েছে।

সম্প্রতি ইলন মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কিছু ‘অলিগার্ক’ নিজেদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছে।

তবে ভারতীয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে না। লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হচ্ছে।

ভারতে ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জিএমপিসিএস—গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন বাই স্যাটেলাইট—লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো ইলন মাস্কের স্টারলিংক, ভারতী গ্রুপ-সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের মালিকানাধীন জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস। এ ছাড়া জেফ বেজোসের অ্যামাজন লিও-ও লাইসেন্সের অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, লাইসেন্সধারী সব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের এই প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা পরবর্তী ধাপে স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য আবেদন করতে পারবে।

স্টারলিংক এক বছরেরও বেশি আগে ভারতে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পেলেও এখনো দেশটিতে বাণিজ্যিক সেবা শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। তবে ভারতের দাবি, লাইসেন্স পাওয়া তিন প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে প্রায় একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে। ফলে স্টারলিংককে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

এর আগে ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ স্পেসএক্সের স্টারলিংক বিজনেস অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার বলেন, ভারতে সেবা চালুর জন্য প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করেছে।

তিনি জানান, ভারতের জন্য ২০টি গেটওয়ে সাইট স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে শত শত অ্যান্টেনা রয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত মেনে ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশটির ভেতরেই রাখার ব্যবস্থাও করেছে স্টারলিংক।

ফলে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের নিরাপত্তা যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের পরবর্তী প্রক্রিয়া।