img

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন যে উদ্যোগ নিল ফেসবুক

প্রকাশিত :  ১৬:৩৭, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য নতুন যে উদ্যোগ নিল ফেসবুক

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’ নামের একটি নতুন এবং সম্পূর্ণ আলাদা অ্যাপ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত এই অ্যাপটি ক্রিয়েটরদের ভিডিও বা পোস্টের দর্শক বাড়াতে এবং ভক্তদের সঙ্গে আরও সহজে যোগাযোগ রাখতে সাহায্য করবে। কিছুদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর, আইওএস বা অ্যাপল ব্যবহারকারীদের জন্য এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে।

নতুন এই অ্যাপটিতে ফেসবুক তাদের নিজস্ব ‘এআই ক্রিয়েটর অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা সাহায্যকারী যুক্ত করেছে। এটি ক্রিয়েটরের কাজের ধরন, তার লক্ষ্য এবং দর্শকদের পছন্দ বুঝে বিভিন্ন পরামর্শ দেবে। আগে নিজেদের পেজের অবস্থা বা পারফরম্যান্স বুঝতে ক্রিয়েটরদের অনেক জটিল চার্ট ও হিসাব-নিকাশ দেখতে হতো। কিন্তু এখন তারা চাইলেই এআইকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবেন। যেমন- আমার কখন পোস্ট করা উচিত? বা মানুষ আমার পোস্টে কী বলছে? এআই এসব প্রশ্নের খুব দ্রুত ও সহজ উত্তর দিয়ে দেবে।

এই অ্যাপটি আনার পেছনে মেটার মূল উদ্দেশ্য হলো টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে পাল্লা দেওয়া এবং ক্রিয়েটরদের ফেসবুকে ধরে রাখা। পাশাপাশি, কাজের আইডিয়া বা পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের জন্য ক্রিয়েটররা যেন চ্যাটজিপিটির মতো বাইরের কোনো টুলের ওপর নির্ভর না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে চাইছে মেটা।

অ্যাপটির একটি দারুণ ফিচার হলো এর এআই কমেন্ট টুল। এটি পেজের সবচেয়ে জরুরি কমেন্টগুলো খুঁজে বের করবে এবং ক্রিয়েটরের নিজস্ব কথা বলার ধরন অনুযায়ী উত্তরের একটি খসড়া বা ড্রাফট তৈরি করে দেবে। ক্রিয়েটররা চাইলে পোস্ট করার আগে সেই উত্তর নিজের মতো করে পাল্টে নিতে পারবেন।

এছাড়াও, প্রতিদিন অ্যাপটিতে ঢোকার পর ক্রিয়েটররা তাদের দিনের জরুরি কাজগুলোর একটি তালিকা দেখতে পাবেন। সেখানে আগের পোস্টগুলো কেমন চলছে, লক্ষ্যের দিকে কতটা এগোলেন বা কাদের কমেন্টের উত্তর দেওয়া দরকার, সেসব তথ্য সুন্দরভাবে সাজানো থাকবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ক্রিয়েটররা অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারছেন।

মেটা ইদানীং শুধু এই একটি অ্যাপই নয়, আরও বেশ কিছু নতুন অ্যাপ বাজারে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক গ্রুপের জন্য রেডিটের মতো অ্যাপ ‘ফোরাম’, বন্ধুদের সাথে ছবি শেয়ার করার অ্যাপ ‘ইনস্ট্যান্টস’, গেম খেলার অ্যাপ ‘পকেট’ এবং শিশুদের জন্য এআই দিয়ে গল্প বানানোর অ্যাপ ‘স্টোরিকিট’।

সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ।

img

ইলন মাস্কের স্পেসএক্স রকেটের আঘাতে চাঁদে নতুন গর্ত, ছবি প্রকাশ

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ১১ আগষ্ট ২০২৬

মহাকাশে এক বছরেরও বেশি সময় ভেসে থাকার পর গত ৫ আগস্ট ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানা ওই অংশের সংঘর্ষে সেখানে নতুন একটি গর্ত তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে সংঘর্ষের আগের ও পরের ছবি প্রকাশ পেয়েছে। এসব ছবিতে চাঁদের পৃষ্ঠে সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট পরিবর্তন ও নতুন গর্তের চিত্র ফুটে উঠেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দানুরি স্যাটেলাইট সেই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এসব ছবি তুলেছে। ছবিগুলোতে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ফলে চাঁদের উপরিভাগে বেশ গভীর একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। এটি চাঁদের জন্য সামান্য ক্ষতি হলেও, মহাকাশে ক্রমবর্ধমান আবর্জনা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ৪ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এবং ৩৯ ফুট লম্বা ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের ওই পরিত্যক্ত অংশের আঘাতের তীব্রতা ছিল প্রায় ৩ টন ওজনের টিএনটি বিস্ফোরণের সমান। এ আঘাতের ফলে চাঁদের বুকে প্রায় ২৭ মিটার চওড়া এবং ৫ মিটার গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় আশপাশ এলাকায় পাথর ও ধূলিকণাও ছিটকে পড়ায় স্থানটি আগের চেয়ে বেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে গেছে। শিগগির নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটার থেকে তোলা আরও স্পষ্ট ছবির মাধ্যমে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এদিকে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের কাছে এই ঘটনাটি এক বিরল গবেষণার সুযোগ এনে দিয়েছে। প্রতিবছর চাঁদে হাজার হাজার উল্কাপাত হলেও তাদের আকার ও ভর জানা থাকে না। কিন্তু ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের ওজন ও উপাদান জানা থাকায় বিজ্ঞানীরা নিখুঁতভাবে এবারের সংঘর্ষের তথ্য জানতে পেরেছেন।

এর আগে, গত ২০০৬ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার স্মার্ট ১ স্যাটেলাইট ও ২০২২ সালে চীনের একটি মহাকাশযানের পরিত্যক্ত অংশ চাঁদের বুকে আঘাত হানার ফলে দুটি গর্ত তৈরি হয়েছিল।

সূত্র: ডেইলি মেইল