img

যুদ্ধকালীন ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুরা এবং কলঙ্ক...

প্রকাশিত :  ১২:২৩, ২৮ মার্চ ২০২২
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৯, ২৮ মার্চ ২০২২

যুদ্ধকালীন ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুরা এবং কলঙ্ক...

|| হুসনা খান হাসি ||

প্রতিবছর স্বাধীনতার মাস এলেই আমরা আপ্লুত হই, মনে পড়ে বাঙালির বীরত্বের কথা। এই মাসটি একদিকে যেমন মহা আনন্দ ও গৌরবের, অন্য দিকে শোকেরও। এই মাসেই শুরু হয়েছিল মুক্তির যুদ্ধ, ত্রিশ লাখ শহীদ আর দুই থেকে চার লাখ নারীর (তাঁদের সঠিক পরিসংখ্যান কখনোই জানা যায়নি) সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধ অবশ্যই আমাদের অহংকার। তারপরও স্বাধীনতার মাস এলেই কিছু না বলা কথা মনে ভিড় করে, কিছু প্রশ্ন জেগে ওঠে হৃদয়ে। বিজয়ের আনন্দে সেসব কষ্টের কথাগুলো আমরা উচ্চারণ করি না বা এড়িয়ে যাই।

মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসকল নারী নির্যাতিত হয়েছিলেন - পাকিস্তানি হায়েনাদের কাছে যে নারীরা সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন, সেই সকল বীরাঙ্গনাদের মধ্যে কতজন শহীদ হয়েছেন, পরে মারা গেছেন, কতজন আত্মহত্যা করেছেন, গর্ভপাত করেছেন, এবং কতজন বেঁচে আছেন, তার কোন হিসাব রাষ্ট্র কি রেখেছে? এবং যারা বেঁচে ছিলেন বা আছেন 'বীরাঙ্গনা' হিসেবে স্বীকৃতি কেউ কেউ পেলেও অনেকেই রাষ্ট্রের নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, আর্থিকভাবে সহায়তা, ভাতা অনেকেই পাননি। তারা কত কষ্টে দিন যাপন করেছেন এবং করছেন, তার কোন হিসাব রাষ্ট্র কি রেখেছে? মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ইবা তাদের কাজটা কতটা ঠিকঠাক করছে?

আমরা এড়িয়ে যাই আড়ালে পড়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি কষ্টকর অধ্যায়। যুদ্ধকালীন ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুদের জীবন সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে খুব কমই বলা হয়েছে। 

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা দুই লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশী ধর্ষিতার গর্ভে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জন্ম নেওয়া শিশু, যারা যুদ্ধশিশু হিসেবে পৃথিবীর মুখ দেখেছে, বেড়ে উঠেছে। দেশের স্বাধীনতায় একটা অংশ হিসেবে তারাও অবদান রেখেছে। আমরা তাদেরকে নিয়ে আলোচনা করিনা। কি হয়েছে এই শিশুদের, কোথায় আছে তারা, বেঁচে আছে নাকি জন্মের পরপরই তাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল? তাদের কি এতিমখানায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল বা তারা কি সামাজিক ভাবে বিতাড়িত জীবনযাপন করছে, তার কোন খবর কি রাষ্ট্র রাখে? তাদেরও সমাজে সবার মতো বেঁচে থাকার অধিকার আছে, পরিচ্ছন্ন একটা ঘর, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, তারা কি কোনো সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছে?

আমরা জানি বাংলাদেশের অনেক পরিবার সেসব সন্তানদের গ্রহণ করেনি। তাদের ঠাঁই হয়নি বাংলাদেশের স্বাধীন মাটিতে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সে সময় কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ডসহ আরও কিছু দেশ যুদ্ধশিশুদের দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। সেইসব যুদ্ধশিশুরা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ কতটুকু?

আমি আমার অনুষ্ঠান 'আগামীর পথে' ২০২০ সালের ডিসেম্বরে 'মুক্তিযুদ্ধ ও অব্যক্ত কষ্টগুলো' এ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম একজন যুদ্ধ শিশু, যিনি এখন মধ্যবয়সী নারী - তার নাম মনোয়ারা ক্লার্ক। মনোয়ারা ক্লার্কের কাহিনী অত্যন্ত মর্মস্পর্শী একটি কাহিনী, কারণ তার মা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিলেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানটিকে জন্ম দিতে দুঃসাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। মনোয়ারা ক্লার্ক ধর্ষণের ফলে জন্মগ্রহণকারী একজন শিশু যিনি তৎকালীন স্বাধীন বাংলাদেশের কয়েকশ শিশুকে অন্য দেশে দত্তক দেওয়ার কর্মসূচির মধ্যে পড়েছিলেন এবং এক কানাডিয়ান দম্পতি তাকে দত্তক নেয়।

শিশু বয়স থেকে এ পর্যন্ত মনোয়ারা ক্লার্ক কানাডা, ভেনকুভারে বসবাস করছেন, কানাডিয়ান বাবা-মায়ের দ্বারা তিনি লালিত-পালিত হয়েছেন। তার সাথে আমার ৩/৪ দিন কথা হয় ফোনে এবং মেসেজের মাধ্যমে। তিনি আমার সাথে মূলত ইংরেজিতে কথা বলেছিলেন কারণ তিনি একেবারেই বাংলা বলতে পারেন না, শুধু একটি বাংলা শব্দ বলেছিলেন সেটি হলো তিনি আমাকে 'আপা' বলে সম্মোধন করেছিলেন।

ফোনালাপের একপর্যায়ে তিনি বলেন, "আমি আমার জন্ম সনদ আনতে ২০১৪ সালে ঢাকায় গিয়েছিলাম, আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।, সরকারী অফিস যেতে হয়েছে, এর কাছে ওর কাছে অনেক জনের কাছে যেতে হয়েছে, কোথায় এবং কিভাবে আমার জন্ম হয়েছিলো এমন অনেক প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়েছিল আমাকে।" তিনি খুব আবেগ প্রবণ হয়ে বললেন যে, "যুদ্ধশিশু হয়ে জন্মানোর জন্য কি আমি দায়ী? আমার মা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ধর্ষণের শিকার হয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে গর্ভবতী হয়েছিলেন, আমাকে দেখাশোনা করার দায়ভার কি আমার নিজের দেশের ছিলনা? যখন সেখানে সবকিছু ঘটেছিল। আমার দেশ শুধু আমার বৈধতাই অস্বীকার করেনি বরং আমার জন্ম, জাতীয়তা, ভাষা ও সংস্কৃতিও অস্বীকার করেছে।" 

যদিও অনেক কষ্টের পর শেষ পর্যন্ত তিনি তার জন্ম সনদ পেতে সফল হয়েছিলেন। কিন্তু অন্ত্যন্ত দুঃখের সাথে তিনি জানালেন বাংলাদেশের ব্যাপারে তার আর কোনো আগ্রহ নেই এবং ২০১৪ সালে "Bangladesh war baby's search for her roots" শিরোনামে বিবিসি তার একটি ইন্টারভিউ করেছিল সেই ক্লিপটি আমাকে পাঠিয়ে দিয়ে বললেন, "এই সময়ে বিবিসির এই ভিডিও ক্লিপে আমি সত্যিই আপনাদের কমিউনিটির একটি অংশ হতে অনেক চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু সেখানে আমার সাথে যেভাবে আচরণ করা হয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাপারে আমি আমার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি, আমি দারিদ্রতার মধ্যে বাঁচতে আগ্রহী নই, বাংলাদেশের মানুষ একে অপরের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করে, আমার ভীষন কষ্ট লাগে"।

তিনি অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সহিত জানালেন যে কানাডা, ভেনকুভারের বাংলাদেশী কমিউনিটিও তাকে ভালো চোখে দেখেন না।

মনোয়ারার মতো অসংখ্য নিষ্পাপ যুদ্ধ শিশুদের আমাদের সমাজ আজও গ্রহণ করতে পারেনি। দিতে পারেনি তাদের প্রাপ্য সম্মান, অধিকার, অস্তিত্ব, তাদের মর্যাদা।

যুদ্ধ শিশুদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল কলঙ্ক (স্টিগমাটাইজেশন)। পরিবার এবং সমাজ উভয়ের দ্বারা জন্ম থেকেই কলঙ্ক, সহিংসতা, অপব্যবহার, পরিত্যাগ, বৈষম্য এবং প্রত্যাখ্যান সহ একাধিক সমস্যার সমস্যাগুলির সাথে লড়াই করে যাচ্ছে তারা প্রতিনিয়ত। পারিবারিক সম্পদ, পারিবারিক সুরক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত এবং শিক্ষা বা জীবিকার কার্যক্রমেও কম সুযোগ পায় তারা, যার ফলে দারিদ্রতার মধ্যে তারা বেড়ে ওঠে।

যে বয়সে তাদের স্কুল উপভোগ করা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা করার কথা সেই বয়সে তারা জীবন সংগ্রামের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কলঙ্ক ( স্টিগমা) যুদ্ধ শিশুদের অগ্রগতির পথে একটি বিরাট বাধা এবং একটি শিশুর জীবনের সম্ভাবনা হ্রাস করে, তাদেরকে পিছনে ফেলে, সুরক্ষামূলক সংস্থাগুলিতে অ্যাক্সেস হ্রাস করে। এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যুদ্ধকালীন ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুদের কলঙ্কের ব্যাপক প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য রাষ্ট্রের ইতিবাচক পদক্ষেপে ফোকাস করা প্রয়োজন এবং পরিবর্তন আনতে প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য সংস্থানগুলি চিহ্নিত করা। যুদ্ধশিশুদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সমাজের দৃষ্টিকোণ বদলাতে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। প্রয়োজনে একটি সামাজিক-পরিবেশগত পন্থা অবলম্বন করা যাতে করে মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষতিকারক বিশ্বাস ও অভ্যাসগুলি কমাতে সাহায্য করে, বদলাতে সাহায্য করে সমাজের দৃষ্টিকোণ। যুদ্ধশিশুদের উপর গবেষণা পরিচালনার নৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা। আইনি অবস্থার স্পষ্টীকরণ: শিশুদের নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করতে নাগরিক ডকুমেন্টেশনে অ্যাক্সেস থাকতে হবে।

মতামত এর আরও খবর

img

বিভক্তির রাজনীতি নয়, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে নিয়ে একসঙ্গে ভাবার

প্রকাশিত :  ১৩:৩৪, ২২ মে ২০২৬

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ 

বাংলাদেশের রাজনীতি বহু বছর ধরেই যেন এক দীর্ঘ মেরুকরণের গল্প। এখানে মতের চেয়ে পরিচয় বড় হয়ে উঠেছে, যুক্তির চেয়ে উচ্চকণ্ঠের স্লোগান বেশি শোনা গেছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্টেছে ভাষা, বদলেছে প্রতিশ্রুতি, কিন্তু সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা একই থেকেছে—একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ।

এই দেশের মানুষ রাজনীতির কাছে খুব জটিল কিছু চায় না। তারা চায় এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে একজন তরুণ তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পাবে, একজন কৃষক ন্যায্য মূল্য পাবে, একজন মা তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। মানুষ এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চায়, যেখানে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করাই মূল লক্ষ্য নয়; বরং ভিন্নমতকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকবে।

সময়ের সঙ্গে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলেছে। এখন মানুষ কেবল বক্তৃতা শোনে না, তারা আচরণও দেখে। নেতার ভাষা, সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি—এসবও আজ রাজনৈতিক মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেই জায়গা থেকেই সাম্প্রতিক সময়ে অনেক মানুষের ভেতরে নতুন এক প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমানকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার পেছনে কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং একটি তুলনামূলকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ভাষার প্রত্যাশাও কাজ করছে।

মানুষ আসলে এমন নেতৃত্ব খোঁজে, যা বিভক্তির দেয়ালকে আরও উঁচু না করে বরং সেতুবন্ধন তৈরি করতে চায়। কারণ একটি রাষ্ট্র তখনই এগিয়ে যায়, যখন তার রাজনীতি প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে না দেখে তাকে গণতান্ত্রিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখতে শেখে। জাতীয় অগ্রগতি কখনো কোনো এক দলের একার অর্জন নয়; এটি সমষ্টিগত সহযোগিতা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধের ফল।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় সংকট সম্ভবত এখানেই—আমরা এখনও অনেক সময় দেশকে নয়, দলকে আগে ভাবি। রাজনৈতিক আনুগত্য এতটাই প্রবল হয়ে ওঠে যে নাগরিক পরিচয় আড়ালে পড়ে যায়। অথচ রাষ্ট্র কোনো দলের সম্পত্তি নয়। রাষ্ট্র মানে কোটি মানুষের শ্রম, স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ভবিষ্যতের সম্মিলিত নাম। তাই মতভেদ থাকবে, সমালোচনাও থাকবে; কিন্তু সেই সমালোচনা যদি ধ্বংসের বদলে সংশোধনের পথ দেখায়, তবেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।

বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বিশ্ব অর্থনীতি বদলাচ্ছে, প্রযুক্তি নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক সংঘাতের পুরোনো ধারা ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। এখন প্রয়োজন এমন এক জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানবসম্পদ, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে সমান গুরুত্ব দেবে।

তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষার আধুনিকায়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এবং সহনশীল সমাজব্যবস্থা—এসব অর্জনের জন্য জাতীয় ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। কারণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গণতন্ত্রের অংশ হতে পারে, কিন্তু স্থায়ী বিভাজন কখনো উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে না।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যে জাতি সংকীর্ণতার দেয়াল ভেঙে বৃহত্তর স্বার্থে এক হতে পেরেছে, তারাই টেকসই অগ্রগতির পথে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষ—তাদের পরিশ্রম, অভিযোজনক্ষমতা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।

এখন সময় এসেছে সেই শক্তিকে বিভক্তির রাজনীতিতে ক্ষয় না করে উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করার। কারণ শেষ পর্যন্ত ইতিহাস তাদেরই মনে রাখে, যারা মানুষকে ভাঙার নয়, এক করার কথা বলেছে; যারা ক্ষমতার নয়, দেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবেছে।

মতামত এর আরও খবর