img

ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশ যুগের ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি

প্রকাশিত :  ১৮:৪৯, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৫৫, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশ যুগের ৬ শতাধিক শিল্পকর্ম চুরি

ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ও কমনওয়েলথ আমলের ৬০০টির বেশি মূল্যবান শিল্পকর্ম যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল জাদুঘর থেকে চুরি হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম যুক্তরাজ্যের পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। অ্যাভন ও সমারসেট পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার চার সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের বিষয়ে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর সাংস্কৃতিক মূল্য অনেক। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ভোরে জাদুঘরের সংরক্ষণাগার থেকে এগুলো চুরি হয়।

চুরির দুই মাসের বেশি সময় পর কেন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য চেয়ে তাঁদের ছবি প্রকাশ করা হলো, তা স্পষ্ট করেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। শুধু এটুকুই জানিয়েছেন, চুরির সময় ওই এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেখা গিয়েছিল। তাদের সঙ্গে পুলিশ কথা বলতে চায়।

ব্রিস্টল সিটি কাউন্সিল নিশ্চিত করেছে, চুরি যাওয়া শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে পদক, ব্যাজ, পিন, গয়না, খোদাই করা হাতির দাঁত, রুপার জিনিসপত্র, ব্রোঞ্জের মূর্তি ও ভূতাত্ত্বিক নমুনা।

কাউন্সিলের সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের প্রধান ফিলিপ ওয়াকার বলেছেন, এসব নিদর্শন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দুই শতাব্দীর পুরোনো সম্পর্কের ইতিহাস বহন করে।

জাদুঘরের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব জিনিস সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক দেশের মানুষের কাছে এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ড্যান বার্গান বলেন, ‘এসব জিনিসের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষের দান করা। এগুলো যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা আশা করি, কেউ তথ্য দিয়ে সাহায্য করলে চোরদের ধরতে পারব।’

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ইতিহাস কৃতদাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একসময় এখানকার বন্দর থেকে লাখ লাখ আফ্রিকানকে জোর করে দাস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে পাঠানো হতো। সেই ব্যবসার টাকায় গড়ে উঠেছে শহরের অনেক পুরোনো ভবন।

জাদুঘরে আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহাসিক পোশাক, ছবি ও অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের সময় ব্রিস্টলে ১৭ শতাব্দীর দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কোলস্টনের একটি মূর্তি ভেঙে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। এবার জাদুঘরে চুরি শহরটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

হরমুজ প্রণালি সচল করতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ৪০ দেশ একজোট, নেই যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৭:০৫, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ৪০টি দেশ একজোট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এসব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য বিকল্প পথ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সম্মেলন শেষে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে। এতে অবিলম্বে ইরানকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

বৈঠকে অংশ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার ইরানের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানের একটি বেপরোয়া আচরণ, যা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর বৈঠকের পরবর্তী অংশটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বৈঠকে অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেলসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছে, যা নিরসনে এই ৪০ দেশ এখন কূটনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর