img

তরুণদের জন্য সামরিক ‘গ্যাপ ইয়ার’ কর্মসূচি চালু করবে ব্রিটেন

প্রকাশিত :  ০৯:০০, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

তরুণদের জন্য সামরিক ‘গ্যাপ ইয়ার’ কর্মসূচি চালু করবে ব্রিটেন

জাতীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে নতুন ‘হোল অব সোসাইটি’ কৌশলের আওতায় ব্রিটেনে কিশোর ও তরুণদের জন্য সশস্ত্র বাহিনীতে বেতনভিত্তিক ‘গ্যাপ ইয়ার’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সামরিক পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে নিয়োগের সংখ্যা বৃদ্ধি করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পরিকল্পনাটি তরুণদের বাস্তব প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লন্ডনভিত্তিক পত্রিকা দ্য আই পেপার শুক্রবার জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে রাশিয়াকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ব্রিটিশ তরুণদের কাছে সামরিক ক্যারিয়ারের আকর্ষণ বাড়াতে এই কর্মসূচি চালু করতে চায় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ব্রিটিশ রেডিও স্টেশন এলবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ২০২৬ সালের শুরুতে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী প্রায় ১৫০ জন তরুণ এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

চাহিদা বাড়লে ভবিষ্যতে বছরে এক হাজারের বেশি তরুণকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কোর সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এরই মধ্যে সেনাসংখ্যা বাড়াতে তরুণদের জাতীয় সেবায় যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও বেলজিয়াম—যারা চলতি বছরই বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

যুক্তরাজ্যের এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণদের সক্রিয় সামরিক অভিযানে পাঠানো হবে না।

যদিও বেতনের অঙ্ক এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এলবিসি জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক পর্যায়ের সেনা নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতনের সমান হতে পারে, যা সাধারণত বছরে প্রায় ২৬ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার)।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তরুণদের দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে এবং এর মধ্যে প্রথম ১৩ সপ্তাহ থাকবে মৌলিক প্রশিক্ষণ। নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে কর্মসূচির মেয়াদ হবে এক বছর।

রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) এখনো তাদের কর্মসূচির চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি দ্য আই পেপার-কে বলেন, ‘এটি প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগ। আর এর মানে হলো তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা।’

এই কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান, এয়ার চিফ মার্শাল রিচার্ড নাইটনের মন্তব্যের পর। প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের খবরে বলা হয়, তিনি সতর্ক করে বলেন—রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের ‘ছেলে-মেয়েদের’ দেশ রক্ষায় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

নাইটন জানান, যুক্তরাজ্যের ওপর সরাসরি রাশিয়ার হামলার সম্ভাবনা কম হলেও ‘হাইব্রিড হুমকি’ দ্রুত বাড়ছে। তিনি যুক্তরাজ্যের উপকূলের কাছে সমুদ্রতলের কেবল ম্যাপিংয়ের সন্দেহে একটি রুশ গুপ্তচর জাহাজের সাম্প্রতিক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই যুক্তরাজ্য রাশিয়ার সাইবার হামলার মুখে পড়ছে। আমরা জানি, রুশ এজেন্টরা নাশকতার চেষ্টা করছে এবং আমাদের ভূখণ্ডেই মানুষ হত্যার ঘটনাও ঘটিয়েছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, রাশিয়ার সামরিক শক্তি এখন দ্রুত বাড়তে থাকা একটি ‘হার্ড পাওয়ার’-এ পরিণত হয়েছে।

এর আগে চলতি বছর যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা দেয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

সূত্র : আলজাজিরা

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করতে পারে না : যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে কোনোভাবেই ‘জিম্মি’ অবস্থায় রাখতে পারে না।

\r\n

এদিকে, জাতিসংঘের মাধ্যমে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, যুক্তরাজ্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের সমর্থক। ইরানকে অবশ্যই আঞ্চলিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যাবে না।

তিনি বলেন, ইরান প্রণালিকে জিম্মি করে রাখতে পারে না। তারা জাহাজে হামলা করতে পারে না, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের নিশানা করতে পারে না এবং পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করতে পারে না। তবে আমরা অবশ্যই কূটনৈতিক সমাধান চাই। আমরা চাই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং ধারাবাহিক।

সংকট সমাধানে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত আছে এবং যুক্তরাজ্য এতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ তারা প্রণালীটি পুনরায় খুলতে চায়। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করাকে লন্ডন ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রধান অগ্রাধিকার।

স্টিফেন ডাউটি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি, আমাদের অর্থনীতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের জন্য এই প্রণালী পুনরায় খোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন বজায় রাখতে যুক্তরাজ্য ফ্রান্স ও বাহরাইনসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে প্রণালিতে মুক্ত ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার থাকবে। এ নৌপথে কোনো শুল্ক বা নিরাপত্তা হুমকি চলবে না। নৌচলাচলের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য বর্তমানে প্রায় ৯০টি দেশের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। এ জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা ও সামরিক-রাজনৈতিক সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর