img

শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ব্রিটেন

প্রকাশিত :  ১২:৩৭, ০২ জানুয়ারী ২০২৬

 শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ব্রিটেন

ইউরোপীয় কিছু বিচারক শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে দেখছেন। কিন্তু তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের নিজেদের আদালতের রায় বহাল রাখতে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। দেশটির সরকারের একটি সূত্র এমনটিই জানিয়েছে।

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) শামীমা বেগমের মামলাটি তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু  ব্রিটিশ সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির একাধিক আদালত এই রায়কে এরই মধ্যে সমর্থন করেছেন।

শামীমা বেগম ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএল) নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে চলে গিয়েছিলেন। সেখানে একজন আইএস যোদ্ধার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

শামীমার বয়স এখন ২৬ বছর। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু শামীমার আইনজীবীদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি হয়রানি ও পাচারের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা বিবেচনা করে দেখা হয়নি।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ইসিএইচআর জানতে চেয়েছেন, শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তৎকালীন মন্ত্রীরা তিনি পাচারের শিকার কি না এবং তাঁর প্রতি যুক্তরাজ্যের কোনো দায়বদ্ধতা আছে কি না—তা বিবেচনা করেছিলেন কি না।

তবে সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেবেন। এই সিদ্ধান্ত আমাদের দেশীয় আদালতগুলোয় বারবার যাচাই করা হয়েছে ও বহাল রাখা হয়েছে।’

সূত্রটি আরও বলেছে, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব সময়ই দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবেন।’

চলতি মাসের শুরুতে ইসিএইচআর কর্তৃক প্রকাশিত একটি নথিতে জানানো হয়েছে, শামীমা বেগম ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধকরণ) অধীনে তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট শামীমা বেগমকে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে অস্বীকার করার পর মামলাটি দায়ের করা হয়।

শামীমা বেগম যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। ২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন থেকে আরও দুই স্কুলবন্ধুর সঙ্গে তিনি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) সমর্থন দিতে সিরিয়ায় পাড়ি দেন।

সিরিয়ায় পৌঁছানোর কিছুকাল পরই শামীমা এক আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করেন। সেখানে তিনি তিনটি সন্তানের জন্ম দিলেও তাদের কেউই বেঁচে নেই।

পরে সিরিয়ার একটি শরণার্থীশিবিরে শামীমার খোঁজ পাওয়া যায়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ট্রাইব্যুনাল রায় দেন, শামীমা বেগম ‘বংশসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক।’ তাই তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করা হলেও তিনি রাষ্ট্রহীন হবেন না।

এই রায়ের বিরুদ্ধে শামীমা বেগম একের পর এক আপিল করেন। শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় যে তিনি সুপ্রিম কোর্টে এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন না।

শামীমার আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স বলেন, ‘১৫ বছর বয়সী একজনকে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ ও উৎসাহিত করা হয়েছিল এবং ধোঁকা দিয়ে বাড়ি থেকে আইএসআইএল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, এ বিষয়ে দ্বিমত করার সুযোগ নেই।’

আইনজীবী আরও বলেন, ‘একই ভাবে এই শিশুটিকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার দীর্ঘ তালিকাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, তাঁর একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু একই ভাবে এবং একই পথে সিরিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই শিশুটির উচ্চ ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি জানা ছিল।’

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টস পার্টির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

প্রকাশিত :  ১১:৫৮, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে নতুন একটি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টস পার্টি (Tower Hamlets Independents Party) নামে দলটি স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব, স্বচ্ছতা ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির অঙ্গীকার নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে।

গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় টাওয়ার হ্যামলেটসের মিস্টার হোয়াইটস ইংলিশ রেস্টুরেন্টে দলটির উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ার লিলিয়ান কলিন্স। তিনি বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টস পার্টি সব সময় জনগণের পাশে থাকবে এবং স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার ও কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে অগ্রাধিকার দেবে।

সভায় দলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ হামিদ দলের সাংগঠনিক কাঠামো, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ সময় দলের ট্রেজারার আলী হোসেন দিপুও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত কাউন্সিলরদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। নতুন করে দলে যোগদানকারী কাউন্সিলররা হলেন- সাইফ উদ্দিন খালেদ (ব্রমলি নর্থ), জাহেদ চৌধুরী (ল্যান্সবুরি) এবং কবির হোসেন (স্পিটালফিল্ডস ও বাংলাটাউন)।

এছাড়া কমিউনিটির প্রতিনিধিরা বক্তব্যে স্থানীয় সমস্যা, বাসস্থান, শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন ফারহাদ আহমেদ, নেহা গুপ্তা ও সৈয়দ হাসান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে দলের চেয়ার লিলিয়ান কলিন্স আগামী নির্বাচনের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার আফজাল জামি সৈয়দ আলীর নাম ঘোষণা করেন, যিনি ব্যারিস্টার জামি নামে পরিচিত। প্রার্থী ঘোষণার পর ব্যারিস্টার জামি বলেন, আমি জনগণের সঙ্গে থেকে, জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। টাওয়ার হ্যামলেটসকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বরো হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র প্রার্থীসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কাউন্সিলররা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

শেষপর্বে লিলিয়ান কলিন্স অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং নতুন রাজনৈতিক যাত্রায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই দলের আত্মপ্রকাশ টাওয়ার হ্যামলেটসের রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর