img

নতুন ফোন নিবন্ধনের জন্য মিলবে তিন মাসের সময়সীমা

প্রকাশিত :  ২০:৫৫, ০২ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন ফোন নিবন্ধনের জন্য মিলবে তিন মাসের সময়সীমা

মোবাইল ফোন নিবন্ধন সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা নতুন বছরের শুরু থেকে কার্যকর হলেও গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে না। ১ জানুয়ারির পর যেকোনো নতুন মোবাইল ফোন প্রথমবার চালু করলে ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯০ দিনের একটি গ্রেস পিরিয়ড পাবেন। এই সময়ের মধ্যে ফোনটি ব্যবহার করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, প্রবাসী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ এড়াতে এবং ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দিতেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক জানান, মোবাইল ফোন নিবন্ধনের নতুন নিয়ম আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে এ তারিখের আগেই যেসব হ্যান্ডসেট দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সক্রিয় ছিল, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি আরও জানান, অপারেটরদের পাঠানো তালিকা থেকে খুব অল্পসংখ্যক হ্যান্ডসেট বাদ পড়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে এমন কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলোর সমাধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত মোট সাতটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, ১ জানুয়ারির পর এমন কোনো ফোন চালু করা হলে যেটি আগে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কে ব্যবহার হয়নি, সেটি নিবন্ধনের আওতায় আসবে। ফোনটি যদি বৈধভাবে আমদানি করা হয়ে থাকে বা পূর্বে বৈধভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবহারকারীর কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

তিনি জানান, বিদেশ থেকে আনা কিন্তু আগে ব্যবহার না করা ফোন কিংবা প্রবাসীরা দেশে এসে নতুন করে ফোন চালু করলে সেক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারের দিন থেকে ৯০ দিনের সময়সীমা কার্যকর হবে। এই সময়ের মধ্যে ফোনটি নির্বিঘ্নে ব্যবহার করা যাবে।

প্রবাসীদের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, কেউ যদি দুই মাসের জন্য দেশে এসে ফোন ব্যবহার করে আবার বিদেশে ফিরে যান, তাহলে নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। তবে তিন মাসের বেশি সময় দেশে অবস্থান করলে ইমিগ্রেশনের সিলসহ ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিয়ে ফোন নিবন্ধন করতে হবে।

একইভাবে, কোনো সাধারণ নাগরিক বৈধভাবে বিদেশ থেকে একটি ফোন আনলে সেটিও নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। বিটিআরসির ডাটাবেজে যাচাই করে দেখা হবে ওই ব্যক্তি একাধিক ফোন এনেছেন কি না। শর্ত পূরণ হলে নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হবে।

ফোন নিবন্ধনের জন্য তিনটি পদ্ধতির কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। প্রথমত, সরকারের সিটিজেন পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এখানে ফোন নিবন্ধনের পাশাপাশি চুরি বা হারানো ফোন ব্লক ও আনব্লক, বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাবে। আবেদন জমা পড়ার পর বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট টিম প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাচাই ও নিষ্পত্তি করবে।

দ্বিতীয়ত, বিটিআরসির হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়া যাবে। যারা অনলাইনে আবেদন করতে অক্ষম, তাদের সমস্যা বুঝে হেল্পলাইনের মাধ্যমে আবেদন কেন্দ্রীয় সিস্টেমে পাঠানো হবে।

তৃতীয়ত, মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার থেকেও গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। এ বিষয়ে অপারেটরদের আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আমিনুল হক বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হওয়ায় শুরুতে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই তিন মাসের সময়সীমা রাখা হয়েছে, যাতে ধীরে ধীরে সব সমস্যা সমাধান করা যায়।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি কিছু সিম বন্ধ হওয়ার অভিযোগ এসেছে। এর পেছনে কারণ হলো— ৩১ ডিসেম্বর একই সঙ্গে দুটি সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে: নতুন ফোন নিবন্ধন ব্যবস্থা এবং একজন গ্রাহকের নামে ১০টির বেশি সিম থাকলে সেগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়া। একসঙ্গে এই দুটি বিষয় কার্যকর হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে সংযুক্ত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কোনো আনঅফিশিয়াল ফোন আর দেশের নেটওয়ার্কে সক্রিয় হতে পারবে না।


নিরাময় উদ্ভাবনে ব্যর্থ

img

ভারতে গোবর-গোমূত্র থেকে ক্যান্সার চিকিৎসা, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম

প্রকাশিত :  ০৫:১০, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৬, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরে পঞ্চগব্য ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময়ের একটি সরকারি গবেষণা প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। 

২০১১ সালে জাবালপুরের নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে গরুর গোবর, গোমূত্র এবং দুধজাতীয় সামগ্রীর মিশ্রণ বা ‘পঞ্চগব্য’ দিয়ে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির চিকিৎসার উপায় খোঁজার কথা ছিল। 

তবে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গবেষণার নামে সেখানে বিপুল অর্থ অপচয় এবং বিধি বহির্ভূত কেনাকাটা করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো প্রকল্পটি এখন উচ্চপর্যায়ের নজরদারিতে রয়েছে

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয়ের একাধিক ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গোবর, গোমূত্র, মাটির পাত্র এবং মেশিনারিজ কেনার নামে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, যার বাজারমূল্য বড়জোর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হতে পারে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গবেষণার অজুহাতে গোয়া ও বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ বার বিমান ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অনুমোদিত বাজেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তদন্তকারীরা এই সফরগুলোকে ‘গবেষণার ছদ্মবেশে ভ্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঘুবার মারাভির নেতৃত্বে পরিচালিত এই তদন্তে আরও দেখা গেছে, মূল বাজেটে উল্লেখ না থাকলেও এই প্রকল্পের অর্থ দিয়ে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি গাড়ি কেনা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শ্রমিকের মজুরি হিসেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। 

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব খরচের সিংহভাগই গবেষণার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন ছিল। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এক দশকের বেশি সময় পার হলেও ক্যানসার চিকিৎসায় এই গবেষণা কোনো সুনির্দিষ্ট ফল বা নিরাময় পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার ড. এস এস তোমার দাবি করেছেন যে, গাড়ি বা মেশিনপত্রসহ সকল ক্রয়প্রক্রিয়া উন্মুক্ত টেন্ডার এবং সরকারি নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তার মতে, প্রকল্পের অডিট নিয়মিত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটিকে সব নথিপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। 

তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রকল্পের আওতায় এখনো যুবক ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের ‘স্ক্যাম’ বা জালিয়াতি হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি এখন জাবালপুরের কালেক্টরের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার পর প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আপাতত এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা—উভয় দিক নিয়েই বড় ধরণের প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রইল।

সূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর