img

সরকারি কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে আইনি বাধা নেই: আলী রীয়াজ

প্রকাশিত :  ১১:২৫, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে আইনি বাধা নেই: আলী রীয়াজ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি কর্মচারীদের প্রচার-প্রচারণায় সাংবিধানিক কিংবা প্রচলিত আইনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাবেক বিচারপতি, সাংবিধানিক মামলা পরিচালনায় অভিজ্ঞ আইনজীবী ও আইন বিভাগের শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়েছে সরকার। তাদের অভিমত অনুযায়ী, সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও), গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ কিংবা সরকারের জারি করা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫—কোনোটিতেই সরকারি কর্মচারীদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা নেই।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত ঢাকা বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বক্তব্য রাখেন।

সরকারি কর্মচারীরা নৈতিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার করতে পারেন না—এমন দাবির জবাবে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বর্তমান সরকার কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজপথে মানুষের রক্তের বিনিময়ে।

তিনি বলেন, আপনি এটাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মনে করেন? যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে? এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। নৈতিক জোর হচ্ছে মানুষের আত্মদান।

আলী রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসক পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। সংবিধানের সাত অনুচ্ছেদে জনগণের অভিপ্রায়ের কথা বলা হয়েছে, যা রাজপথে প্রতিফলিত হয়েছে। সেই অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধানের কোথাও অন্তর্বর্তী সরকারের উল্লেখ নেই। তবে সরকার প্রথম দিন থেকেই বলে আসছে, তাদের দায়িত্ব হলো প্রথমে সংস্কার, এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং সবশেষে নির্বাচন।

আলী রীয়াজ বলেন, যে সরকার রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার এজেন্ডা সংস্কার—তার চেয়ে বড় নৈতিক ভিত্তি আর কী হতে পারে? কেউ যদি এই সরকারকে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার মনে করে, যার কাজ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে চলে যাওয়া, তাহলে তা হবে জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সরকার কোনো সংস্কার চাপিয়ে দিচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে। সরকার নিজেরা সংস্কার বাস্তবায়ন করছে না; গণভোটে যে বিষয়গুলো তোলা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর পর ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তৃতায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট, দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, সাধারণ মানুষকে আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন করতে পেরেছি কি-না। যেহেতু এই ভোটটি সচরাচর হয় না, তাই এ নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা কম।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, এবারের গণভোটে জনগণের অংশগ্রহণ এবং তাদের সুচিন্তিত মতামত অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ ভোটারদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

চাঁদে বিরল খনিজ আবিষ্কার চীনা বিজ্ঞানীদের

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

চীনা বিজ্ঞানীরা চাঁদে এক নতুন ধরনের বর্ণহীন, স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর খনিজের সন্ধান পেয়েছেন । গবেষকদের মতে, এই বিরল খনিজটি এলইডি (LED) প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

চায়না জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, চীন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চন্দ্র উল্কাপিণ্ড বিশ্লেষণ করে \'সেরিয়াম–ম্যাগনেশিয়াম চেঞ্জসাইট\' নামের এই খনিজটি শনাক্ত করা হয়েছে। মহাকাশ ভূতত্ত্বের গবেষণায় এই আবিষ্কারকে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন খনিজটিতে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ভৌত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এর বিশেষ ফ্লুরোসেন্স ইফেক্ট বা প্রতিপ্রভা প্রভাব। খনিজটির দানার আকার ১০ মাইক্রোমিটারের কম। ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদের চরম তাপমাত্রা ও চাপের ফলে খনিজটি গঠিত হয়েছে। খনিজটি বিভিন্ন শিল্পে প্রয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি তৈরিতে খনিজটি বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখতে পারে।

কমিশন অন নিউ মিনারেলস অ্যান্ড মিনারেল নেমসের মতে, খনিজটির ফ্লুরোসেন্ট গুণের কারণে এটি পরবর্তী প্রজন্মের এলইডি পণ্যের জন্য একটি শক্তিশালী উৎস হতে পারে। এ ছাড়া এর গঠন কাঠামো বিশ্লেষণ করে বর্তমানে ইলেকট্রনিকস পণ্যে ব্যবহৃত সিনথেটিক উপাদানগুলোর গুণমান ও কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যাবে।

বর্তমানে চাঁদের পরিবেশে সেরিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম কীভাবে একে অপরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, তা জানার মাধ্যমে চাঁদের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। খনিজটি আবিষ্কারের ফলে পৃথিবী ও চাঁদের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের নতুন সুযোগ পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর