img

লন্ডনে যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত সাবেক ইমাম

প্রকাশিত :  ০৯:৫৩, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লন্ডনে যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত সাবেক ইমাম

আধ্যাত্মিক ক্ষমতার দোহাই দিয়ে এবং পদের অপব্যবহার করে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নারী ও শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন পূর্ব লন্ডনের সাবেক ইমাম আব্দুল হালিম খান (৫৪)।

গত সপ্তাহে লন্ডনের স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে  দীর্ঘ শুনানি শেষে জুরি বোর্ড তাকে ২১টি পৃথক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে।

আদালতের শুনানিতে জানা যায়, আব্দুল হালিম খান ভুক্তভোগী শিশুদের বিশ্বাস করাতেন যে তার বিশেষ আধ্যাত্মিক ক্ষমতা রয়েছে। এই ভীতি ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিক শিশুর ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। দীর্ঘ সময় পর ভুক্তভোগীরা সাহসের সাথে মুখ খোলায় এই নৃশংস ঘটনা জনসমক্ষে আসে।

লন্ডনের একটি আদালতে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রসিকিউটররা জানান, খান তার ইমামতির পদের অপব্যবহার করে শিশুদের এবং তাদের পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন। তিনি দাবি করতেন, তার অবাধ্য হলে বা তার কথা না শুনলে ঐশ্বরিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আব্দুল হালিম খান বছরের পর বছর ধরে তার অপরাধ লুকিয়ে রেখেছিলেন। এই শাস্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পেলেন। আদালতের পক্ষ থেকে তাকে কঠোর কারাদণ্ড দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও অপরাধের ধরণ:

আদালতের শুনানিতে জানা যায়, আব্দুল হালিম খান নিজেকে একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি তার শিকারদের (যাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী শিশুও ছিল) বিশ্বাস করাতেন যে তার ‘অলৌকিক ক্ষমতা’ রয়েছে। তিনি তাদের নির্জন ফ্ল্যাট বা গোপন স্থানে দেখা করতে বাধ্য করতেন।

সেখানে তিনি তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর সময় দাবি করতেন যে, তিনি কোনো ‘জ্বিন’ বা অলৌকিক আত্মার দ্বারা আবিষ্ট বা ছদ্মবেশে আছেন। তিনি ভুক্তভোগীদের ভয় দেখাতেন যে, তারা যদি এসব কথা কাউকে জানায় তবে ‘কালো জাদুর’ মাধ্যমে তাদের বা তাদের পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হবে।

তদন্ত ও বিচার:

২০১৮ সালে এই ঘটনা প্রথম সামনে আসে যখন সর্বকনিষ্ঠ ভুক্তভোগী তার স্কুলের একজন শিক্ষকের কাছে বিষয়টি খুলে বলেন। এরপর পুলিশি তদন্ত শুরু হলে একের পর এক সাতজন ভুক্তভোগী নারী ও শিশু সাহসের সাথে সামনে আসেন। পুলিশি জেরার মুখে খান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দাবি করেন এটি তাকে ফাঁসানোর জন্য একটি ষড়যন্ত্র।

তবে আদালত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার করে তাকে ২১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে:

৯টি ধর্ষণের মামলা।

৫টি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুকে ধর্ষণের মামলা।

২টি ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলা।

অন্যান্য যৌন হয়রানি ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ।

এই ঘটনাটি ব্রিটেনের মুসলিম সমাজ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শিশুদের নিরাপত্তায় ধর্মীয় স্থানগুলোতে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করতে পারে না : যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখতে পারে না। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ইরান হরমুজ প্রণালিকে কোনোভাবেই ‘জিম্মি’ অবস্থায় রাখতে পারে না।

\r\n

এদিকে, জাতিসংঘের মাধ্যমে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

গতকাল সোমবার (২৭ এপ্রিল) আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, যুক্তরাজ্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের সমর্থক। ইরানকে অবশ্যই আঞ্চলিক হামলা বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যাবে না।

তিনি বলেন, ইরান প্রণালিকে জিম্মি করে রাখতে পারে না। তারা জাহাজে হামলা করতে পারে না, আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের নিশানা করতে পারে না এবং পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করতে পারে না। তবে আমরা অবশ্যই কূটনৈতিক সমাধান চাই। আমরা চাই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং ধারাবাহিক।

সংকট সমাধানে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত আছে এবং যুক্তরাজ্য এতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কারণ তারা প্রণালীটি পুনরায় খুলতে চায়। হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও বাধাহীন নৌচলাচল নিশ্চিত করাকে লন্ডন ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রধান অগ্রাধিকার।

স্টিফেন ডাউটি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি, আমাদের অর্থনীতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের জন্য এই প্রণালী পুনরায় খোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন বজায় রাখতে যুক্তরাজ্য ফ্রান্স ও বাহরাইনসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে প্রণালিতে মুক্ত ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার থাকবে। এ নৌপথে কোনো শুল্ক বা নিরাপত্তা হুমকি চলবে না। নৌচলাচলের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য বর্তমানে প্রায় ৯০টি দেশের একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। এ জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা ও সামরিক-রাজনৈতিক সমন্বয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


যুক্তরাজ্য এর আরও খবর