img

ভালো তরমুজ চেনার ৭ পদ্ধতি

প্রকাশিত :  ০৯:৩০, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

ভালো তরমুজ চেনার ৭ পদ্ধতি

গ্রীষ্মকালের বেশ সুস্বাদু একটি ফল তরমুজ। তরমুজ কেবল পানির চাহিদা পূরণ করে না, পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করে। এজন্য ভালো তরমুজ খেতে হবে। তবে ভালো মিষ্টি ও রসাল তরমুজ বেছে নেওয়া একটু কঠিন কাজ। দেখেশুনে তরমুজ কেনার পরেও ঠকে যান অনেকেই।

তাই তরমুজ কেনার আগে জেনে রাখুন এই ৭ পরামর্শ।

১. গ্রাউন্ড স্পট দেখে নিন

লাল মিষ্টি তরমুজ চেনার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ‘ফিল্ড স্পট’ বা ‘গ্রাউন্ড স্পট’ দেখে নেওয়া। তরমুজের যে অংশ দীর্ঘদিন মাটির ওপর থাকে, সেই অংশ হলুদ হয়ে যায় এবং একেই বলে ফিল্ড স্পট বা গ্রাউন্ড স্পট। তরমুজ কেনার আগে এই হলদেটে দাগ আছে কি না, তা দেখে নিন। বড় হলুদ দাগ থাকা মানে তরমুজটি ঠিকমতো পেকে যাওয়ার পর জমি থেকে ওঠানো হয়েছে।

২. তরমুজ ভারী কি না দেখুন

তরমুজটি হাতে নিয়ে দেখুন, তা ভারী কি না। যে তরমুজ পুরোপুরি পেকে যায়, তাতে প্রচুর রস থাকে এবং এ কারণে তরমুজ বেশ ভারী হয়। আর যদি তরমুজটি হালকা মনে হয়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় সেটা ঠিকঠাক পাকেনি। সে ক্ষেত্রে তরমুজ লাল ও মিষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

৩. শব্দই বলে দেবে তরমুজ পাকা কি না

পাকা ও রসালো তরমুজে টোকা দিলে একটা গভীর ও ফাঁপা শব্দ পাবেন এবং শব্দটার হালকা প্রতিধ্বনিও হবে। বিষয়টা আরেকটু খুলে বলা যাক। পাকা তরমুজে টোকা দিলে ভেতরে পানির কারণে মূলত ফাঁপা শব্দ হয় এবং প্রতিধ্বনি শোনা যায়। কাঁচা তরমুজে আঘাত করলে তুলনামূলক উচ্চ স্বরের শব্দ হবে। অর্থাৎ নিরেট কিছুতে আঘাত করলে যেমন শব্দ হয়। আবার অতিরিক্ত পাকা তরমুজে আঘাত করলে ভারী ও থেঁতলানো ধরনের শব্দ হবে। তরমুজের কোনো অংশ থেঁতলে গেলে ভেতরের পানি ও শাঁস আলাদা হয়ে যায়, ফলে সেই জায়গা শব্দ শোষণ করে বেশি। তরমুজের এই শব্দের ফারাক বোঝার জন্য প্রয়োজন অভ্যাস ও তীক্ষ্ণ কান। তবে একবার রপ্ত করে ফেললে সহজেই বুঝতে পারবেন কোন তরমুজ পাকা ও রসালো।

৪. বোঁটা শুকনা কি না দেখুন

তরমুজের বোঁটা শুকনা নাকি সতেজ, তা দেখে বোঝা যায় তরমুজটি ঠিকমতো পেকেছে কি না। বোঁটা শুকনা ও বাদামি রঙের হলে বুঝবেন তরমুজ গাছে ঠিকভাবে পেকে তারপর তোলা হয়েছে। সবুজ থাকলে অসময়ে তোলা হতে পারে।

৫. আকার দেখে কিনুন

গোলাকার বা ডিম্বাকার—যে আকারেরই হোক না কেন, তরমুজটির আকৃতি সুষম কি না দেখুন। সুষম বা সব পাশে সমান তরমুজ তুলনামূলক ভালো। তরমুজের দুই প্রান্ত অসমান হওয়া মানে পরাগায়ন সঠিকভাবে হয়নি। আর এতে দুই প্রান্তের শাঁসের গুণমানও কমে যায়। তরমুজের আকার আঁকাবাঁকা হলে মিষ্টি না হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তবে এটা বড় তরমুজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

৬. তরমুজের ত্বক দেখে কিনুন

তরমুজের ত্বক ম্যাট বা কিছুটা অনুজ্জ্বল দেখালে পরিপক্ব বলে ধরে নেওয়া যায়। ত্বক চকচকে দেখালে ধরে নেবেন, তরমুজটি পরিপক্ব নয়। তবে এটা যাচাই করা কিছুটা কঠিন বটে। কারণ, খেত থেকে বাজার পর্যন্ত আসতে আসতে একেকটা তরমুজের ত্বকের ওপর দিয়ে অনেক ‘ঝড়ঝাপটা’ই যায়। কোনো বিক্রেতা তরমুজ ধুয়ে ফেলেন, কেউ কেউ চকচকে করে তোলার চেষ্টা করেন। তবে খেত বা খেতের আশপাশের বাজার থেকে কেনার সময় তরমুজের ত্বক খেয়াল করতে ভুলবেন না।

৭. আঙুল দিয়ে মাপুন

এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে আপনার তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দুটি একসঙ্গে ধরে তরমুজের গাঢ় সবুজ অংশের প্রস্থ মাপুন। আঙুল দুটি যদি সহজেই দুটি সাদা ডোরা দাগের মাঝের গাঢ় সবুজ অংশের মধ্যে এটে যায়, তাহলে বুঝবেন তরমুজ পুরোপুরি পাকা—মিষ্টি, রসালো এবং এতে একটুও পানসে ভাব থাকবে না।


img

ঠোঁট ফাটছে শীতের আগেই ? জেনে নিন প্রতিকার

প্রকাশিত :  ০৬:৪৪, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

অনেকের ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা ঠোঁটের কোণে ফাটল দেখা দেওয়ার সমস্যা দেখা দেয় শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই । আবহাওয়ার পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরে পানির ঘাটতি, বারবার ঠোঁট চাটা এবং কিছু প্রসাধনীর ব্যবহারেও এমনটা হতে পারে। তাই শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার অপেক্ষা না করে এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নেওয়া জরুরি।

মুখের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক বেশ পাতলা। এতে তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিও প্রায় নেই। এ কারণে ঠোঁট সহজেই আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। সঠিক যত্নের অভাবে এই শুষ্কতা থেকে ফাটল, ব্যথা ও জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হতে পারে।

কেন ফাটছে ঠোঁট?

আবহাওয়ার পরিবর্তন: বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া, শুষ্ক বাতাস এবং তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমতে পারে। ফলে শীত আসার আগেই ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা দেয়।

বারবার ঠোঁট চাটা: ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে তা ভেজানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লালার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে। এতে ফাটল ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।

পানির ঘাটতি: শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে ঠোঁটসহ মুখের বিভিন্ন অংশ শুষ্ক হতে পারে। তবে শুধু ঠোঁট ফাটার লক্ষণ দেখেই শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

প্রসাধনী ও টুথপেস্টের প্রভাব: কিছু লিপস্টিক, লিপবাম, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী এবং টুথপেস্টের উপাদান ঠোঁটে অ্যালার্জি বা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। এসব পণ্য ব্যবহারের পর ঠোঁটে জ্বালাপোড়া কিংবা শুষ্কতা বাড়লে সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

পুষ্টির ঘাটতি: কিছু ক্ষেত্রে আয়রন, ভিটামিন বি১২সহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে ঠোঁটের সমস্যা, বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে ফাটলের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলেই পুষ্টির ঘাটতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

 ত্বকের রোগ বা সংক্রমণ: দীর্ঘদিন ধরে ঠোঁট ফাটা, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি কিংবা ঠোঁটের কোণে ক্ষত হওয়ার পেছনে একজিমা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণের মতো কারণও থাকতে পারে।

ঠোঁট ফাটা কমাতে করণীয়

নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার: ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুগন্ধি ও স্বাদযুক্ত উপাদানবিহীন পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা সাধারণ লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁট শুকিয়ে গেলে এবং রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগালে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

ঠোঁট চাটা থেকে বিরত থাকুন: বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলা বন্ধ করতে হবে। এসব অভ্যাস ঠোঁটের ত্বকে ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করুন। দীর্ঘ সময় পানি পান না করে থাকা এড়িয়ে চলুন। তবে ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে শুধু পানি পান নয়, বাইরে থেকে ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

রোদ থেকে সুরক্ষা: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিও ঠোঁটের ক্ষতি করতে পারে। বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগাতে হবে।

জ্বালাপোড়া তৈরি করে এমন পণ্য পরিহার: মেনথল, কর্পূর, সুগন্ধি কিংবা ঝাঁঝালো উপাদানযুক্ত কিছু পণ্য ঠোঁটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর জ্বালা বা শুষ্কতা অনুভূত হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কখন ?

সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও ঠোঁটের ফাটল না কমলে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা ঠোঁটে তীব্র ব্যথা, প্রদাহ, ক্ষত বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ঠোঁটের কোণে বারবার ফাটল দেখা দিলে এর অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

ঠোঁট ফাটাকে সামান্য সমস্যা মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত লিপবাম ব্যবহার, ঠোঁট চাটার অভ্যাস পরিহার এবং জ্বালাপোড়া সৃষ্টিকারী প্রসাধনী এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ঠোঁটের শুষ্কতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।