img

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় বলে অনেকেই মনে করেন । কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেক মানুষ সকালে উঠে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ঘুমের অভাবের কারণে নয়; বরং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীর নির্দিষ্ট সময় ঘুমালেও সেই ঘুম যথেষ্ট গভীর বা পুনরুদ্ধারকারী হয় না। ফলে সকালে উঠলেও শরীর সতেজ লাগে না, বরং মন ভারী ও ধীর মনে হয়।

এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি কেবল ঘুমের পরিবেশে নয়, বরং শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

থাইরয়েডের সমস্যা

ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি সঠিকভাবে কাজ করে না এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে সারাদিন শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে এবং ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণা বলছে, এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সমস্যায় পড়ে। ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও কখনও ঘুমের মধ্যেই সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেশি থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং তা শরীরকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার দিতে পারে না। এর প্রভাব সকালে শক্তি ও সতেজতার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

img

ব্যায়াম ছাড়াই পর্যাপ্ত ঘুমে ঝরবে শরীরের মেদ

প্রকাশিত :  ১৫:২৮, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

মেদ কমাতে হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতেই হবে—এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। ভুঁড়ি বা বাড়তি ওজন কমাতে অনেকে দীর্ঘ সময় ব্যায়ামে কাটান। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে শরীরে ক্যালোরির ঘাটতি তৈরি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যায়ামের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেও ওজন কমানোর কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।

কীভাবে সহজে ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমানো যায়, জেনে নিন।

পর্যাপ্ত ঘুম জরুর

ওজন কমাতে ঘুম অপরিহার্য। কারণ আপনার ঘুম যদি সম্পূর্ণ হয় তাহলেই ঝরতে থাকবে শরীরের মেদ। অনেকেই অনিদ্রাজনিত সমস্যায় ভুগতে থাকেন। আর তাদের জন্য এই ঘুম খুবই প্রয়োজন। অনেকের শরীরেই ঘুমের চাহিদা প্রচণ্ড পরিমাণে থাকে। আর তাতে সাড়া দিয়ে তবেই মেলে কাঙ্খিত স্বস্তি। যদি ভালো ঘুম হয়, তাহলে হাঙ্গার হরমোন গ্রোলিনের লেভেল বাড়বে, আর লেপ্টিনের লেভেল কমবে। যার ফলে আপনার খুবই কম খিদে পেতে পারে। যাদের ঘুম কম হয়, তারা উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত খাবার খেতে বেশি পছন্দ করেন এবং জাঙ্ক ফুড বেশি খেতে চান। যা মেদ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

ব্ল্যাক কফিতে চিনি নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কেউ ওজন কমানোর কথা ভেবে থাকেন, তাহলে কফি ভালো অপশন। তবে এই ব্ল্যাক কফিতে কিছুতেই  চিনি মেশানো যাবে না। ব্ল্যাক কফি পান করলে সপ্তাহে অন্তত ৫০০ ক্যালোরি কমতে পারে। চিনি কম অথবা চিনি ব্যতীত যে কোনো রান্না মেদ ঝরাতে খুবই সাহায্য করে। রান্নায়ও চিনির ব্যবহার কমানো ভালো অভ্যাস।

পর্যাপ্ত পানি পান

পানি শরীরের জন্য যেমন জরুরি, তেমনি মেদ কমানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর।  খাবার খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানি পান করলে পেট কিছুটা ভর্তি থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এটি বিশেষ করে যারা বারবার কিছু না কিছু খেতে চান, তাদের জন্য উপকারী।

কোল্ড ড্রিংক পরিহার

ক্যালোরি কমানোর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো কোল্ড ড্রিংক পরিহার করা। কোল্ড ড্রিংক খেলে ক্যালোরি বাড়ে। এ ছাড়াও ক্যানের জুস এড়িয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। সেক্ষেত্রে একটি ফল খাওয়া উচিত।

জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন

জাঙ্ক ফুড ওজন বাড়ানোর অন্যতম বড় কারণ। অতিরিক্ত তেল, লবণ ও ক্যালোরিযুক্ত এসব খাবার শরীরে দ্রুত মেদ জমায়। তাই ওজন কমাতে চাইলে জাঙ্ক ফুড যতটা সম্ভব দূরে রাখাই ভালো।

সন্ধ্যার স্ন্যাকস

সন্ধ্যার স্ন্যাক্সসে অতিরিক্ত তেল জাতীয় বা ভাজাভুজি খাবার খাবেন না। সেই সময় গ্রিন টি বা কোনো মৌসুমি ফল খেতে পারেন।