img

হাম হলে করণীয় ও কি খেতে হবে

প্রকাশিত :  ০৬:৩৬, ১০ এপ্রিল ২০২৬

হাম হলে করণীয় ও কি খেতে হবে

হাম একটি সংক্রামক রোগ, যা নাক ও গলায় অবস্থানকারী ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এ রোগে আক্রান্ত হলে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

এক্ষেত্রে রোগীর ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাস, অন্ধত্বের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী মহিলা, শিশু, ছোট বাচ্চা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। হামের কোনো চিকিৎসা নেই।

হাম কীভাবে ছড়ায়

কোনো সংক্রামিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে হাম সহজেই বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হামের টিকা না নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে হামে আক্রান্ত হন। হামে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে একই বাতাসে থাকলে আপনার হাম হতে পারে, এমনকী সেই ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পরেও। সংক্রামিত ব্যক্তির মধ্যে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেও হাম ছড়াতে পারে।

হামের লক্ষণগুলো কী

* উচ্চ জ্বর (১০১° ফারেনহাইট বা তার বেশি, যা ১০৪° ফারেনহাইটেরও বেশি হতে পারে)

* কাশি

* নাক দিয়ে পানি পড়া

* চোখ লাল হয়ে পানি পড়া

* কপলিক স্পট (মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ)

* লাল দাগের র‍্যাশ। কিছু দাগ সামান্য উঁচু হয়। সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে শুরু হয়ে শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

যদি মনে হয় হাম হয়েছে, তাহলে কী করা উচিত

অবিলম্বে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ করুন এবং আপনার লক্ষণগুলো সম্পর্কে তাদের জানান, যাতে তারা আপনাকে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বলতে পারেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা আপনার চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া জরুরি বিভাগ বা হাসপাতালে যাবেন না, কারণ আপনি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন।

আরও যা করা উচিত

* মাস্ক পরার কথা বিবেচনা করুন, যাতে আপনি অন্যদের সংক্রমিত না করেন।

* কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু দিয়ে আপনার মুখ ও নাক ঢাকুন এবং ব্যবহৃত টিস্যুটি ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন। আপনার কাছে টিস্যু না থাকলে, হাতে না ধরে জামার উপরের অংশ বা কনুইতে কাশি বা হাঁচি দিন।

* সাবান ও পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিন।

* পানীয় বা খাওয়ার বাসনপত্র ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না।

* ঘন ঘন স্পর্শ করা হয় এমন পৃষ্ঠতল, দরজার হাতল, টেবিল, কাউন্টার এবং ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস জীবাণুমুক্ত করুন।

 


img

চুলের যত্নে তিলের তেল কতটা উপকারী?

প্রকাশিত :  ১০:০১, ০৫ জুলাই ২০২৬

চুলের যত্নে প্রাচীনকাল থেকেই তিলের তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চুল ও মাথার ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগাতে এই তেল বিশেষ ভূমিকা রাখে। সঠিক উপায়ে নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করলে চুলের একাধিক সমস্যা দূর হয়।

তিলের তেলে থাকা ভিটামিন ই, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই তেল মাথায় মালিশ করলে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন ভালো হয়। এর ফলে চুল দ্রুত বাড়তে পারে।

যারা খুশকি বা শুষ্ক স্ক্যাল্পের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য তিলের তেল খুবই উপকারী। এই তেলে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া তিলের তেল চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখে। এর ফলে চুল হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল।

অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পাকে। এ সমস্যা কমাতে তিলের তেল কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট চুলের রং ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চুলের ক্ষতি কমায়। যারা নিয়মিত হিট স্টাইলিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করেন, তাদের জন্য তিলের তেল চুলের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার করবেন যেভাবে 

তিলের তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা উচিত। সংবেদনশীল ত্বকে সরাসরি এই তেল ব্যবহার করলে অ্যালার্জি হতে পারে। এজন্য প্রথমে কনুইয়ের ভাঁজে বা কানের পেছনে সামান্য তেল লাগিয়ে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।

হালকা গরম করে তিলের তেল ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে। আঙুলের ডগা দিয়ে ধীরে ধীরে মাথার ত্বকে মালিশ করুন। খুব জোরে ঘষাঘষি ঠিক নয়। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হতে পারে। এই তেল সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। 

কখন মাখবেন

তিলের তেল সারারাত মাথায় রেখে দেওয়া উপকারী। তবে যাদের মাথার ত্বক খুব তেলতেলে বা ব্রণ প্রবণ, তারা ১–২ ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।