চীনা প্রেসিডেন্টের চার দফা শান্তি প্রস্তাবে সমর্থন ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্থাপিত চার দফা প্রস্তাবের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ব্যক্ত করেছে ইরান।
চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দুর রেজা রহমানি ফাজলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তেহরান এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, এই শান্তি পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করা।
চীনা প্রেসিডেন্টের চার দফা শান্তি প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও নিরাপত্তা কাঠামো: মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি যৌথ, ব্যাপক, সহযোগিতামূলক এবং টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক ও শান্তি বজায় রাখা।
২. জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে পূর্ণ সম্মান জানানো এবং দেশগুলোর জনগণ ও স্থাপনার নিরাপত্তা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা।
৩. আন্তর্জাতিক আইনের অনুসরণ: বিশ্বকে 'জঙ্গলের আইন' বা আইনহীনতায় ফিরে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
৪. উন্নয়ন ও নিরাপত্তার সমন্বয়: শুধুমাত্র সামরিক শক্তি নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।
ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকেও এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। ইরানের এই অবস্থান মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ভূমিকার প্রতি একটি ইতিবাচক সাড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফাজলি তার লেখায় উল্লেখ করেছেন, অভিন্ন উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শি জিনপিংয়ের এই পরিকল্পনা একটি কার্যকর কাঠামো হতে পারে।
এর আগে বেইজিং সফররত সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই চার দফা শান্তি প্রস্তাবটি পেশ করেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখতে এই প্রস্তাবটি বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইরানের এই প্রকাশ্য সমর্থন বেইজিংয়ের শান্তি প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা



















