img

তীব্র গরমে স্বস্তি দেবে চার রঙের পোশাক

প্রকাশিত :  ১০:০৩, ২৯ জুন ২০২৬

তীব্র গরমে স্বস্তি দেবে চার রঙের পোশাক

দিন দিন বাড়ছে দাবদাহ। প্রখর রোদ আর গরমে ঘামে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব। প্রয়োজন ছাড়া তাই বাইরে বের হতেও চাচ্ছেন না অনেকেই। তারপরও দৈনন্দিন কাজ আর জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে ছোট বড় সব বয়সের মানুষকে। আর এ প্রচণ্ড গরমে কেবল ঘামই নয়, নানা রোগবালাই যেমন সর্দি, কাশি, জ্বরের মতো সমস্যাসহ হিট স্ট্রোকের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন।  

তাই গরমের দিনে বাইরে বের হওয়ার সময় পোশাকের রং শুধু ফ্যাশনের বিষয় নয়, শরীরকে তুলনামূলক স্বস্তিতে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকেই গরমে কালো রংয়ের চেয়ে সাদা রংয়ের পোশাক বেশি পরেন। বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্য থেকে তাপ বিকিরণের কারণে সাদা রংয়ের পোশাক কম তাপ শোষণ করে, ফলে অস্বস্তি কম হয়। তবে সাদার পাশাপাশি আরো কয়েকটি রং রয়েছে যা আপনাকে গরমে আরামদায়ক ও স্টাইলিশ রাখতে সহায়তা করবে।

১.আকাশি

দিনের বেলা কোনো দাওয়াত বা অফিসে যাওয়ার জন্য বেছে নিতে পারেন আকাশি রঙের পোশাক। চড়া রোদ এড়িয়ে স্বস্তি দেয় এই রং। তা ছাড়া আকাশি রং সতেজ দেখায়। পরে আরাম, কাঠাফাটা রোদে চোখেরও শান্তি।

২.ধূসর

কনকনে ঠাণ্ডা হোক বা গরম, ধূসর সব মৌসুমেই আকর্ষণীয়। ধূসর একেবারেই তাপ শোষণ করে না। সাদা রঙের দুর্দান্ত বিকল্প এই ধূসর। শাড়ি, সালোয়ার কিংবা স্যুট-প্যান্ট, ধূসর সব সময়ই আলাদা একটা লুক তৈরি করে। গরমের সাজেও বাকিদের চেয়ে নিজেকে আলাদা দেখাতে, এটি পরিধান করতে পারেন।

৩.বেজ

সূর্যের তাপ ফিরিয়ে দিয়ে শরীর ঠাণ্ডা রাখার ক্ষমতা রয়েছে এই রঙের। সাদা এবং ধূসরের চেয়েও, বেজ বেশি স্বস্তি দেয় গরমে। এই রং দেখতে কিছুটা সাদা ও ধূসরের মিশ্রণের মতো। তা ছাড়া এই মুহূর্তে বেজ যেন ফ্যাশনের আরেক নাম। ফলে বেজ রঙের পোশাকে ট্রেন্ডিও দেখাবে। বেজ রঙের সঙ্গে চাইলে ম্যাচিং করে রঙিন পোশাকও পরতে পারেন। অফিস প্রেজেন্টেশন কিংবা অ্যাসাইনমেন্ট- এই রঙের পোশাক পরতে পারেন অনায়াসে।

৪.প্যাস্টেল

এই রঙের গোত্রে পড়ে- মিন্ট গ্রিন, ল্যাভেন্ডার, পেল ইয়েলো, বেবি পিঙ্ক, মভ এবং আরও বেশ কিছু। গরমে শপিং করার সময় এই রংগুলো মাথায় রাখুন। এই রংগুলোর সূর্যের তাপ শোষণের ক্ষমতা নেই বললেই চলে। তবে গরমে নিজের আলাদা স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে, প্যাস্টেল শেডের জুড়ি মেলা ভার। আকর্ষণীয় এবং স্মার্ট লুক পেতে এই মৌসুমে সঙ্গী হোক এমনই কিছু রং।


img

ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কাটার কারণ কী

প্রকাশিত :  ০৬:৫১, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হলেই শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় বলে অনেকেই মনে করেন । কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও অনেক মানুষ সকালে উঠে ক্লান্ত ও অবসন্ন বোধ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ঘুমের অভাবের কারণে নয়; বরং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর পেছনে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার মানও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় শরীর নির্দিষ্ট সময় ঘুমালেও সেই ঘুম যথেষ্ট গভীর বা পুনরুদ্ধারকারী হয় না। ফলে সকালে উঠলেও শরীর সতেজ লাগে না, বরং মন ভারী ও ধীর মনে হয়।

এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাটি কেবল ঘুমের পরিবেশে নয়, বরং শরীরের ভেতরের স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

থাইরয়েডের সমস্যা

ঘাড়ে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির ছোট একটি গ্রন্থি হলো থাইরয়েড, যা শরীরের শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এটি সঠিকভাবে কাজ করে না এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা হলে সারাদিন শক্তিহীনতা অনুভূত হতে পারে এবং ওজনেও পরিবর্তন আসতে পারে। গবেষণা বলছে, এই অবস্থায় শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার কারণে পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি কাটে না।

ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি

শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি–১২, ভিটামিন ডি বা আয়রনের ঘাটতি থাকলে শরীর খাবার থেকে শক্তি উৎপাদনে সমস্যায় পড়ে। ফলে টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

স্লিপ অ্যাপনিয়া

কখনও কখনও ঘুমের মধ্যেই সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে আবার শুরু হয়। এই বিরতি কয়েক সেকেন্ডের হলেও তা গভীর ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষই বুঝতে পারেন না যে তারা এই সমস্যায় ভুগছেন।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

মানসিক চাপও ঘুমের মানকে প্রভাবিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেশি থাকলে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে ঘুম ভেঙে ভেঙে হয় এবং তা শরীরকে পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধার দিতে পারে না। এর প্রভাব সকালে শক্তি ও সতেজতার ওপরও পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও ক্লান্তি অনুভূত হয়, তবে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।