img

স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার জেরে ছেলেমেয়েকে হাওরে ফেলে ‘হত্যা’

প্রকাশিত :  ০৭:০৫, ১৪ আগষ্ট ২০২৬

 স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার জেরে ছেলেমেয়েকে হাওরে ফেলে ‘হত্যা’

সুনামগঞ্জ জেলার  দিরাইয়ে বাবার বিরুদ্ধে নিজের ছেলেমেয়েকে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। দুই শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের।

ঘটনার পর দিন বুধবার শিশু দুটির বাবাকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার বেওয়ারিশ হিসেবে শিশু দুটির লাশ উদ্ধার হয়। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।

নিহতরা দিরাই উপজেলার পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসানের ৬ বছর বয়সি মোহাদ্দিস এবং ৪ বছর বয়সি তুলনা আক্তার।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন সন্দেহজনক আচরণের কারণে কামরুলকে (৩৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। সংসারে অভাব-অনটন ও সন্তানদের ভরণপোষণ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধের জেরে দুই শিশুসন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যা করা হয় বলে ভাষ্য পুলিশের।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, শুক্রবার স্ত্রী ফুলজান নেসার (৩০) সঙ্গে ঝগড়া করে দুই সন্তান মোহাদ্দিস ও তুলনাকে নিয়ে সিলেট চলে যান ফেরিওয়ালা কামরুল। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর রোববার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

তবে সোমবার রাতে কামরুল বাড়ি ফিরলেও তার সঙ্গে দুই সন্তান ছিল না। বাড়ি ফিরে ফেইসবুক লাইভে কামরুল দুই সন্তান হারিয়ে গেছে বলে জানান।

স্বজনদের দাবি, বাড়িতে ফেরার পর থেকে কামরুলের আচরণ ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে মঙ্গলবার আলাদা স্থান থেকে অজ্ঞাত দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায় তারা কামরুলের হারিয়ে যাওয়া দুই সন্তান।

এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রাম সংলগ্ন দেখার হাওর থেকে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা শিশুর লাশ সকালে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে সদর থানা পুলিশ।

এদিন সকালে স্থানীয় লোকজন সন্দেহজনক আচরণের কারণে কামরুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “বাড়ি ফেরার পথে প্রথমে শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের সংলগ্ন হাওরে এক সন্তানকে এবং পরে গোবিন্দপুর গ্রামের কাছে দেখার হাওরে অপর সন্তানকে পানিতে ফেলে দেন কামরুল।

তিনি বলেন, নিতে ফেলে দেওয়ার আগে দুই শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। অচেতন অবস্থাতেই তাদেরকে পানিতে ফেলে হত্যা করে বাড়ি চলে যান কামরুল।

পুলিশ জানায়, কামরুলের চার সন্তান রয়েছে। সংসারে আর্থিক অসচ্ছলতা এবং সন্তানদের ভরণপোষণ ও লালন-পালন নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হত। এরই জেরে দুই সন্তানকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন কামরুল।

ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ অথবা সুনামগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করা হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে ঘরের সিলিংয়ের উপর থেকে বিশালাকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৭:৫৫, ১৪ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০০, ১৪ আগষ্ট ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাসার ঘরের সিলিংয়ের ওপর মিলল প্রায় ১২ ফুট লম্বা বিশাল এক অজগর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ৫ নম্বর পুল এলাকার রুশন আলীর বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অজগরটি দেখতে পেয়ে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে তাঁরা ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ ঘরের সিলিংয়ের ওপর বিশাল একটি সাপ দেখতে পান তাঁরা। পরে সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সবাই দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

পরে সতর্কতার সঙ্গে সাপটি উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁরা নিশ্চিত হন, এটি কোনো সাধারণ সাপ নয়; একটি বিশাল অজগর। দীর্ঘ ১২ ফুটের অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অজগরটির ওজন প্রায় ১৬ কেজি।

উদ্ধারের পর অজগরটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর