img

ব্রিটেন থেকে ‘পালালেন’ ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৮:১৩, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

ব্রিটেন থেকে ‘পালালেন’ ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়োন সার ব্রিটেন থেকে সফর সংক্ষিপ্ত করে ‘পালিয়েছেন’ বলে জানিয়েছে গ্লোবাল লিগ্যাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (জিএলএএন)। মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানোর পরই এই দখলদার পালিয়ে দ্রুত ইসরায়েলে চলে যান।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই খবর প্রকাশ করেছে।

লন্ডনভিত্তিক জিএলএনএন ছাড়াও হিন্দ রজব ফাউন্ডেশনও তার গ্রেফতারি পরোয়ানার জন্য আবেদন জানিয়েছিল বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

ইসরায়েলি মন্ত্রীর পালানোর ব্যাপারে সংস্থাটি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) একটি পোস্টে দেয়। এতে গিদিয়োন সারের একটি ছবি যুক্ত করে তারা লিখেছে, “জরুরি: আমাদের জানানো হয়েছে গিদিয়োন সার তার সফর সংক্ষিপ্ত করে যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গুরুতর অপরাধের অভিযোগে চলমান তদন্তের একজন অভিযুক্ত। যদি তাকে দেখতে পান, লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশকে অবহিত করুন। তবে অভিযুক্তের কাছে যাবেন না। কারণ তার সঙ্গে হয়ত সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে।”

এর আগে গত মঙ্গলবার স্থানীয় ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গিদিয়োন সার গোপনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে দ্য গার্ডিয়ান যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের বরাতে জানায়, দখলদার এ মন্ত্রী ব্রিটিশ মন্ত্রীর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত বৈঠক’ করেছেন। যেখানে তারা গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অন্যান্য ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন।

স্কটল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানায়, গিদিয়োন সারের শনিবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার কথা ছিল।

ইসরায়েলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালকে অবরুদ্ধ করার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালটির মেডিকেল স্টাফ এবং রোগীদের ওপর হামলা এবং এটির পরিচালক ডাক্তার হুসাম আবু সাফিয়াকে অপহরণ করা হয়।

এছাড়া এই দখলদার মন্ত্রী গাজায় সব ধরনের মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৯:৩০, ২২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:০৭, ২২ জুন ২০২৬

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার (২২ জুন) তিনি পদত্যাগ করেন। এর ফলে গত এক দশকে দেশটি সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে। খবর দ্য ডনের।

পদত্যাগের পর লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিট-এর সামনে সাংবাদিকদের স্টারমার জানান,  তিনি দলের সিদ্ধান্তকে ‘সৌজন্যের সঙ্গে’ মেনে নেবেন এবং তার উত্তরসূরিকে পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন দেবেন।

বিপুল ভোটে নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের অস্থির রাজনীতির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি গত সপ্তাহে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নেবেন নাকি সরে দাঁড়াবেন—তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলেন।

সূত্রটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘স্টারমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়গুলো নিয়ে অনেক ভাবতে পছন্দ করেন।’

স্টারমারের ওপর চাপ কয়েক মাস ধরেই বাড়ছিল। তবে শুক্রবার (১৯ জুন) পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে আবারও ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার সুযোগ পান।

তিনি নাইজেল ফারাজ-এর দল রিফর্ম ইউকে সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। দলটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে।

বার্নহ্যামের এই জয় লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের ধারণা, দক্ষ যোগাযোগ ক্ষমতার জন্য পরিচিত বার্নহ্যাম দলের হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে পারেন। স্টারমারের জনপ্রিয়তা ইতোমধ্যে ব্রিটেনের যেকোনো বর্তমান বা সাম্প্রতিক নেতার তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

তবে নেতৃত্ব পরিবর্তন ঝুঁকিমুক্ত নয়।  বার্নহ্যাম এখন পর্যন্ত জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের মৌলিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের মতো তিনিও সীমিত সুযোগের মুখোমুখি হতে পারেন। একদিকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণে অনাগ্রহী বন্ড বাজারের বিনিয়োগকারীরা, অন্যদিকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট ভোটাররা—উভয় দিক থেকেই চাপ থাকবে।

বর্তমানে উচ্চ ঋণ, সুদ পরিশোধের ব্যয়, দীর্ঘদিনের ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় কমানোর চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কারণে জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের ঋণ গ্রহণের খরচ সবচেয়ে বেশি।

বার্নহ্যাম গত বছরের সেপ্টেম্বরে বলেছিলেন, ব্রিটেনকে ‘বন্ড বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মানসিকতা’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে—বার্নহ্যাম বাজারকে আশ্বস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন কি না, তা নিয়ে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর