img

বাংলাদেশিদের ড্রোন প্রশিক্ষণ দেবে চীন

প্রকাশিত :  ০৪:৫৪, ২৮ মে ২০২৫

বাংলাদেশিদের ড্রোন প্রশিক্ষণ দেবে চীন

বাংলাদেশিদের জন্য ড্রোন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে চীন। আগ্রহীদের আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকার চীনা দূতাবাস।

আজ মঙ্গলবার (২৭ মে) চীনা দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, গত ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে একটি চীনা দলের দ্বারা পরিচালিত একটি ড্রোন প্রদর্শনী সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির এই উদ্ভাবনী মিশ্রণ ছিল বাংলা নববর্ষ এবং চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উভয়েরই একটি প্রাণবন্ত উদযাপন। 

চীনা দূতাবাস এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য চীনের ক্রোস্টারস ইনোভেশন কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজম টেকনোলজি গ্রুপ বাংলাদেশি কারিগরি কর্মীদের জন্য একটি বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রদান করবে। 

প্রশিক্ষণটি ইংরেজিতে পরিচালিত হবে। আগামী  জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাংহাইতে অনুষ্ঠিত হবে। 

প্রোগ্রামটি দুটি পর্যায়ে বিভক্ত—

প্রথম পর্যায়: ড্রোন তৈরির পারফরম্যান্সের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক জ্ঞান এবং প্রোগ্রামিং দক্ষতা কভার করে কোর্স। (১-২ সপ্তাহ) 

দ্বিতীয় পর্যায়: ক্রোস্টারসের মালিকানাধীন ড্রোন মডেলগুলোর জন্য বিশেষভাবে প্রোগ্রামিংয়ের উপর উন্নত কোর্স। (১-২ সপ্তাহ) 

প্রতিটি পর্যায়ের সঠিক সময়কাল অংশগ্রহণকারীদের বিদ্যমান কম্পিউটার সাক্ষরতা এবং প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করবে। 

প্রশিক্ষণে নিবন্ধনের জন্য আগামী ১ জুনের মধ্যে ইমেইলে (dirfa@shilpakala.gov.bd) আবেদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

img

আইআরজিসির হয়ে বিলিয়ন ডলারের শ্যাডো ব্যাংকিং চালাচ্ছে দুই ব্রিটিশ কোম্পানি

প্রকাশিত :  ০৯:৪৯, ০৮ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০২, ০৮ মার্চ ২০২৬

ব্রিটেনের দুটি কোম্পানি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বৈশ্বিক ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ বা সমান্তরাল ব্যাংকিং কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে, লন্ডনে নিবন্ধিত এই কোম্পানি দুটি মূলত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের ফ্রন্ট কোম্পানি হিসেবে কাজ করছে, যারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ‘জেডসেক্স এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedcex Exchange Ltd) এবং ‘জেডক্সিওন এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedxion Exchange Ltd) নামের এই প্রতিষ্ঠান দুটি লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেন এলাকার একটি বিলাসবহুল ভবনের ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধিত। নথিপত্রে এদের ব্যবসা ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো ভৌত অস্তিত্ব নেই। 

মার্কিন অর্থ দপ্তরের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী অফিস (OFAC) চলতি বছরের শুরুতেই কোম্পানি দুটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জানিয়েছে, জেডসেক্স ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করেছে, যার বড় অংশই আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এই কোম্পানি দুটি ইরানি ধনকুবের বাবাক জানজানির সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনে অর্থ সহায়তার দায়ে জানজানির ওপর আগেই ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ব্লকচেইন গোয়েন্দা সংস্থা টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত ওয়ালেট ও অফশোর মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে শত কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে। ওএফএসি-র মতে, কোম্পানিগুলো সরাসরি আইআরজিসি-কে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও বস্তুগত সহায়তা প্রদান করে আসছিল।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার চাপ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের শ্যাডো ন্যাশনাল সিকিউরিটি মিনিস্টার অ্যালিসিয়া কার্নস প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ব্রিটিশ মাটি ও আইন ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক একটি সংগঠনকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই কোম্পানি দুটি এবং আইআরজিসি-র ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সরকারের এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৮ সালে সুইফট ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ইরান বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই দেশটি ‘হাওলা’ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে সমান্তরাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে তাদের সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন নিশ্চিত করছে।

যদিও কোম্পানি দুটির নিবন্ধিত ঠিকানার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিএসকিউ গ্রুপ’ জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পর তারা কোম্পানি দুটির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই মুহূর্তে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর